শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে পাম্পে ড্রামে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারণ,সাংবাদিককে মারধর করলো পুলিশ! উক্ত পুলিশ ক্লোজ! *ফিল্ড মার্শালের ইটে-ইটে গড়া শান্তির দেয়াল* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জামায়াতে ইসলামী’র ৫ ঘণ্টা কর্মসময়ের প্রস্তাব প্রস্তাবটি প্রশংসনীয় —–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ২৭ বার ভিউ
সময়ঃ শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন

১. প্রস্তাবের পটভূমি:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে— ক্ষমতায় এলে নারীদের অফিস ও আদালতের দৈনিক কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৫ ঘণ্টা করা হবে।
দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,

> “একজন নারী যেমন সমাজের পেশাজীবী, তেমনি তিনি মা, স্ত্রী, ও পরিবারের কর্ণধারও। আমরা চাই তারা যেন জীবনের এই দুই দিকেই ন্যায় ও ভারসাম্য পান।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দলটি নারীদের জীবনযাত্রায় মানবিকতা ও পারিবারিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে। বিষয়টি একদিকে প্রগ্রেসিভ, অন্যদিকে প্রশংসাযোগ্য।

২. উদ্দেশ্য ও প্রেরণা:

জামায়াতে ইসলামী’র এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো— নারীদের পারিবারিক ও পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করা।
বাংলাদেশের অনেক নারী একইসঙ্গে কর্মজীবন ও সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করেন। দিনে ৮ ঘণ্টার কর্মব্যস্ততার পর পরিবারে সময় দেওয়া তাঁদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
৫ ঘণ্টার কর্মসময়ের এই পরিকল্পনা তাদেরকে দেবে —

পরিবারে বেশি সময়,

মানসিক প্রশান্তি,

ও সমাজে একটি সম্মানজনক অবস্থান।

৩. নারী-অগ্রগতিতে নতুন চিন্তাধারা :

এই উদ্যোগটিকে অনেক বিশেষজ্ঞ দেখছেন নারী-অংশগ্রহণের বাস্তবমুখী সংস্কার হিসেবে।
কারণ, কেবল কর্মক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতিই নয়, বরং তার মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য ও পারিবারিক সুরক্ষাও একটি সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে অপরিহার্য।

অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন—

কর্মঘণ্টা কমালে নারীদের কর্মক্ষমতা আরও মনোযোগী ও ফলপ্রসূ হতে পারে।

মাতৃত্বকালীন বা সন্তান লালনের সময়েও তারা কর্মজীবনের বাইরে না গিয়ে, সম্মানজনকভাবে যুক্ত থাকতে পারবেন।

৪. সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব :

(ক) পারিবারিক বন্ধন আরও মজবুত হবে

নারী কর্মীরা অফিস থেকে ফিরে পরিবার ও সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারবেন। এতে সন্তানদের মানসিক বিকাশ ও পারিবারিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে।

(খ) নারীর পেশাগত মান উন্নত হবে

কম সময়ের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনের মানসিকতা কর্মদক্ষতা বাড়াতে পারে। অনেক উন্নত দেশেও ‘Flexi Hour’ বা ‘Short Working Day’ ব্যবস্থায় উৎপাদনশীলতা বেড়েছে।

(গ) মাতৃত্বকালীন নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা

এই নীতিমালা নারীদের মাতৃত্ব ও পেশার মধ্যকার ভারসাম্য রক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

৫. বৈশ্বিক তুলনা :

বিশ্বের কয়েকটি দেশেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে —

সুইডেন ও নরওয়ে: নারীদের জন্য ‘Six-Hour Workday’ চালু করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া: কর্মজীবী মায়েদের জন্য বিকল্প সময়সূচি (Alternate Shift) চালু করা হয়েছে।
এই উদাহরণগুলো প্রমাণ করে— কর্মঘণ্টা কমানো মানে অলসতা নয়, বরং কার্যকর সময় ব্যবস্থাপনা।

৬. বাস্তবায়নের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা :

জামায়াতে ইসলামী যদি এ নীতি বাস্তবায়নের সুযোগ পায়, তবে সেটি ধাপে ধাপে করা যেতে পারে:

প্রশাসনিক খাত থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্র ও স্বাস্থ্যখাতে পর্যায়ক্রমে প্রয়োগ,

কর্মঘণ্টা কমালেও উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে ফ্লেক্সিবল টাস্ক সিস্টেম চালু করা,

প্রযুক্তিনির্ভর অফিস পরিচালনার মাধ্যমে সময়-সাশ্রয়ী কাঠামো তৈরি করা।

৭. সামাজিক প্রতিক্রিয়া :

নারী সমাজের একাংশ ইতিমধ্যে এই প্রস্তাবকে “সময়-সচেতন ও পরিবারবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বেশ কয়েকজন নারী কর্মী বলেছেন—

> “আমরা চাই কাজও করব, পরিবারও দেখব— যদি রাষ্ট্র এই ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের পাশে দাঁড়ায়, তবে সেটি প্রকৃত অগ্রগতি।”

 

৮. উপমহাদেশে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত :

জামায়াতে ইসলামী’র ৫ ঘণ্টার কর্মসময়ের প্রস্তাব নারীর প্রতি সম্মান, মানবিকতা ও ভারসাম্যের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
এটি নারীদের ঘর ও অফিস— দুই জগতেই সম্মানজনক ও প্রশান্তিপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করার প্রয়াস।

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি তখনই অর্থবহ হবে, যখন নারী— সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্র— তিন পরিসরেই মর্যাদা ও স্বাচ্ছন্দ্যে বিকশিত হতে পারবেন।
এই নীতির মাধ্যমে সেই দিকেই পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। এটি উপমহাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]