মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল একুশে টিভি’র ২৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা In Reverence and Remembrance ‘Abdul Hye—Professor M A Barnik সুপ্রিয় আবদুল হাইকে হারালাম—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিজয়ে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাজউক কর্মকর্তা গ্রেফতার: নারী সাংবাদিক হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় জামায়াতের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত Without Classrooms, Education Remains Incomplete* *—-Professor M A Barnik

জুলাই বিপ্লবের স্বপ্নভঙ্গ —অধ্যাপক এম. এ. বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৮৫ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন

১. ভূমিকা: স্বপ্নের স্ফুলিঙ্গ:

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব কেবল একটি রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘদিন নিপীড়িত, দারিদ্র্যগ্রস্ত ও স্তব্ধ বাংলাদেশের জনগণের হৃদস্পন্দন। রাস্তায় রক্ত ঝরেছিল, আর স্বর ঊর্ধ্বে উচ্চারিত হয়েছিল স্বাধীনতার মতোই শক্তিশালী স্লোগান—“আমরা চাই একটি নতুন বাংলাদেশ।” বিপ্লবীরা কল্পনা করেছিল এমন একটি বিশ্ব, যেখানে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি ভেঙে যাবে, দুর্নীতি নির্মূল হবে, এবং এক নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

তবুও, ইতিহাস তার নির্মম ব্যঙ্গতায় সেই আলোকে অতি দ্রুত নিভিয়ে দিয়েছে। ৫ আগস্টের বিজয়ের যে জ্বলন্ত প্রদীপটি উজ্জ্বল হয়েছিল, তা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই নিভে গেল। বহু প্রত্যাশিত নতুন ভোরের স্থান নিল পুরনো অন্ধকারের ছায়া।

 

২. প্রথম অধ্যায়: আশার সূর্যোদয়:

বিপ্লবীরা ধারণ করেছিলেন এক অদম্য স্বপ্ন—

জুলাই সনদ,

সংবিধানসভা নির্বাচনের আয়োজন,

নতুন সংবিধান প্রণয়ন,

পরিবারতন্ত্রের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি।

ড. মুহম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। জনগণ বিশ্বাস করেছিল তিনি হবেন “রি-সেট স্থপতি”, যিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশের নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন—“আমি রি-সেট করব।” এই কথাগুলিতে নতুন জীবনের বীজ সেঁপে দেওয়া হয়েছিল ক্ষতবিক্ষত জাতির চোখে।

৩. দ্বিতীয় অধ্যায়: নতুন দিগন্তের প্রতিশ্রুতি:

এটি কেবল একটি সরকারের জন্ম ছিল না, বরং একটি নতুন কল্পনার সূচনা—

কমিশনের পর কমিশন,

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন,

গভীর সংস্কারের রূপরেখা।

জাতি ভেবেছিল—অবশেষে বাংলাদেশ তার হারানো মর্যাদা ফিরে পাবে। পরিবারতন্ত্রের লোহার দরজা ভেঙে উঠবে এক “জনতার রাষ্ট্র”। শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না।

৪. তৃতীয় অধ্যায়: বিশ্বাসভঙ্গের মুহূর্ত:

কিন্তু হঠাৎই ঘটল অপ্রত্যাশিত মোড়।
যেখানে মানুষ ভেবেছিল—“সংস্কারের পর নির্বাচন,” সেখানে দেখা গেল “নির্বাচনের জন্য সব সংস্কার বাতিল।”

এক বছরের ডাকঢোল, আশার গান, রি-সেটের প্রতিশ্রুতি—সবই ফিকে হয়ে গেল ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঘোষণায়।

এখন প্রশ্নগুলো আরও জোরে কানের কাছে ঘূর্ণিত হলো—
যদি তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল নির্বাচন আয়োজন করা, তবে এতদিন কেন অপেক্ষা?
কেন জাতির হৃদয়ে সংস্কারের স্বপ্নের আলো জ্বালালেন, শুধু তা এক মুহূর্তে নিভিয়ে দিতে?

 

৫. চতুর্থ অধ্যায়: স্বপ্নভঙ্গের বেদনা:

বিপ্লবীরা নিঃশব্দে দেখল—
তাদের সংগ্রামের ফসল, রক্তে ভেজা জুলাই, হঠাৎ এক রাজনৈতিক আপসে রূপান্তরিত হলো।
যে রাষ্ট্র তারা কল্পনা করেছিল পরিবারতন্ত্রমুক্ত, সেটি আবারও পুরনো ক্ষমতার চক্রে বন্দি হলো।
জাতি বুঝল—ড. মুহম্মদ ইউনূস, যিনি “নতুন বাংলাদেশ” উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি তা না-দিয়ে বিদায় নেবেন।

৬. ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা:

আজ জুলাই বিপ্লব দাঁড়িয়েছে এক “স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস” হিসেবে।
যেখানে মানুষ ভেবেছিল, নতুন দিনের সূর্যোদয় হবে, সেখানে ফিরে এসেছে পুরনো অন্ধকারের ছায়া।
তবুও আশার আলো পুরোপুরি নিভে যায়নি—কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, কোনো বিপ্লব কখনো বৃথা যায় না।
একদিন না একদিন, শহীদদের রক্ত আবারও নতুন ভোরের পথ আলোকিত করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]