বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত যুবদল নেতা ফয়েজ মোল্লার, ঢামেকে খোঁজ নিলেন ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন এমপি বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল একুশে টিভি’র ২৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা In Reverence and Remembrance ‘Abdul Hye—Professor M A Barnik

ডাকসুর উদ্যোগে হলে হলে আইটি ল্যাব: প্রযুক্তিময় বাংলাদেশর স্বপ্ন —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৭৫ বার ভিউ
সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো যেন রাতের আঁধারে অপেক্ষমাণ প্রদীপের মতো। এবার সেই প্রদীপগুলোতে নতুন আলো জ্বালানোর উদ্যোগ নিয়েছে ডাকসু—প্রতিটি হলে আইটি ল্যাব স্থাপনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ১৮টি হলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা আলাদা ল্যাব চালু করতে, ডাকসু থেকে কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।

কেবল চার দেয়ালের ভেতর এক-দু’টি কম্পিউটার বসানো নয়, এই উদ্যোগ আসলে শিক্ষার্থীদের জন্য এক প্রযুক্তির মহাসেতু তৈরি করছে, যা তাদের একাডেমিক অরণ্য থেকে বের করে নিয়ে যাবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উন্মুক্ত প্রান্তরে। প্রতিটি ল্যাব হবে যেন সমুদ্রতটে ভেসে আসা বাতিঘর—দিশাহারা শিক্ষার্থীদের পথ দেখাবে দক্ষতার আলোয়।

ডাকসুর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মো. মাযহারুল ইসলাম যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন—প্রতিটি হল হবে এক একটি আইটি ও ক্যারিয়ার সেন্টার—তা নিছক পরিসংখ্যান বা পরিকল্পনা নয়। এটি তরুণ প্রজন্মের কপালে খচিত নতুন নিয়তি। যেমন বীজ মাটির গভীরে থেকে অঙ্কুরিত হয়ে আকাশ ছুঁতে চায়, তেমনি এই উদ্যোগের ভেতর লুকিয়ে আছে এক জাতির উত্তরণের স্বপ্ন। ১৮টি হলে পৃথক ল্যাবের জন্য চিঠি পাঠিয়ে, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার মাধ্যমে এই স্বপ্নকে কাঠামোবদ্ধ বাস্তবতায় রূপান্তর করা হচ্ছে।

নববিজয়ী ডাকসুর পদক্ষেপগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় ইতিহাসের সেই মুহূর্তগুলো, যখন পরিবর্তনের স্রোত সমাজকে নতুন তীরে পৌঁছে দিয়েছিল। যেমন ভোরের প্রথম আলো অন্ধকারকে বিদায় জানায়, তেমনি ডাকসুর এই কার্যক্রমও দমবন্ধ করা স্থবিরতাকে সরিয়ে তরুণদের শ্বাস নিতে দিচ্ছে প্রযুক্তির নির্মল বাতাসে।

শিবির পরিচালিত ডাকসু চায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে প্রযুক্তির আলো জ্বালিয়ে দিতে। কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি এই আলোয় নিজেদের প্রদীপ জ্বালায়, তবে সারা বাংলাদেশই হবে এক বিশাল ক্যাম্পাস—যেখানে গবেষণা, উদ্ভাবন, আর সৃজনশীলতার ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হবে। তখন সমাজের প্রতিটি অলি-গলিতে জন্ম নেবে “দক্ষতার নক্ষত্র”, যারা নিজেদের হাতে আঁকবে নতুন বাংলাদেশের মানচিত্র।

শিবিরের কর্মপরিকল্পনার এ উদ্যোগ, কেবল একটি ল্যাব নয়—এটি ভবিষ্যতের নির্মাণশালা। এখানে প্রতিটি কম্পিউটার হবে একেকটি হাতিয়ার, প্রতিটি সফটওয়্যার হবে একেকটি ডানা, আর প্রতিটি শিক্ষার্থী হবে পরিবর্তনের দূত। ১৮টি হলের জন্য চিঠি দিয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার মাধ্যমে, এই সোপানগুলো একে একে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

যেমন নদী তার গতিতে বদলায় গ্রাম, বদলায় নগর, ডাকসুর এই উদ্যোগও তেমনি বদলে দেবে সমাজের মানচিত্র। আশার কথা, তরুণরা আর শুধু দর্শক নয়—তারা এখন নির্মাতা। এই নির্মাণের হাত ধরেই আসবে নতুন সকাল, নতুন বাংলাদেশ।
ঢাবির হলগুলোয় যখন ল্যাবের প্রথম আলো জ্বলবে, তখনই বদলে যাবে প্রজন্মের ভাগ্য।
এক প্রভোস্ট বললেন,
—“যা আমরা দশক ধরে স্বপ্ন দেখেছি, ডাকসু সেটিই বাস্তবায়নের পথে।”
শিক্ষার্থীদের চোখে ভেসে উঠল ভোরের প্রতিচ্ছবি—প্রতিটি ক্লিক সম্ভাবনার চাবি, প্রতিটি কোড সৃজনশীলতার কবিতা, প্রতিটি শিক্ষার্থী নতুন বাংলাদেশের নির্মাতা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]