বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫০ অপরাহ্ন
১. ডাকসুতে শিবিরের বিজয়ের আবহ :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো বৃক্ষতলা থেকে শুরু করে ছাত্র সংসদের করিডর—প্রতিটি কোণেই ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের পদচারণা। ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ক্যাম্পাসে উচ্ছ্বাসের ঢেউ বয়ে যায়। ছাত্রশিবিরের বিজয় যেন হঠাৎ এক গভীর নিঃশ্বাসের মতো, যা প্রাচীন দেয়ালগুলোর মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়।
ছাত্ররা একে দেখল নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে, কেবল রাজনীতির জয় নয়, বরং সেই জয়কে মানুষের কল্যাণে রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি। শিক্ষার্থীদের চোখে আনন্দের ঝিলিক, মুখে আশার হাসি—এই দৃশ্য যেন প্রমাণ করল, রাজনীতি কেবল শক্তি নয়, মানবিকতার নামেও লেখা যায়।
২. মানমিকতার মেশিন স্থাপনের দৃশ্য :
বিজয়ের চারদিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি strategic স্থানে বসানো হলো স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন। প্রথম দর্শনে একদম সাধারণ একটি যন্ত্র মনে হলেও, প্রকৃতপক্ষে এটি হলো নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এক নীরব সেবার প্রতীক। যেনো মানবিকতার চর্চায় এক বিশুদ্ধ মেশিন এটি।
ছাত্রীরা প্রথমবার মেশিনের সামনে দাঁড়ালে দেখতে পেলেন—একটি ছোট্ট যন্ত্র, যা কিন্তু জরুরি মুহূর্তে স্বস্তির বাতাসের মতো, নারীর স্বাস্থ্য ও সম্মান রক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।
মেশিনটির পাশে ছোট পোস্টার, “জরুরিতে ব্যবহার করুন—লজ্জা নয়, মর্যাদা।” এটি যেন নিঃশব্দে বলছে, এখানে নারীর জন্য নিরাপত্তা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ।
৩. ছাত্রীদেরর অতুলনীয় এক নতুন অভিজ্ঞতা :
মেয়েরা প্রথমবার মেশিনটি ব্যবহার করার মুহূর্তে অনুভব করল স্বাধীনতার ছোট্ট আনন্দ। হঠাৎ করে লজ্জার গোপন পথ ভেঙে গেল, এবং একটি নিঃশব্দ আত্মবিশ্বাসের অনুভূতি জন্ম নিল।
একজন ছাত্রী বলল:
> “এতোদিনের সমস্যার সমাধান এতো সহজে! মনে হচ্ছে কেউ আমাদের কথা শোনেছে।”
এই মেশিন কেবল সরবরাহের মাধ্যম নয়, বরং নারীর আত্মবিশ্বাসের বসন্ত, শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার এক অদৃশ্য সেতু।
৪. ভিপি সাদিক কায়েমের দৃষ্টিভঙ্গির উচ্চতা :
এই উদ্যোগের নেপথ্যে দাঁড়িয়ে আছেন নবনির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েম। তার চোখে থাকে দূরদর্শিতা, হৃদয়ে মানুষের কল্যাণের অঙ্গীকার।
তিনি বলেন:
> “রাজনীতি মানে কেবল বক্তৃতা বা শ্লোগান নয়। মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান করাটাই প্রকৃত নেতৃত্ব।”
সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে দেখা গেল, কৌশল এবং মানবিকতার সমন্বয় কেমন করে কার্যকর হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় তার এই পদক্ষেপ যেন এক নতুন স্রোত—যেখানে রাজনীতির শক্তি নয়, মানবিকতার দীপ্তি মাপা হয়।
৫. শুধুই দৃষ্টান্ত নয়, ভবিষ্যতের আহ্বান :
ঢাবি থেকে এই উদ্যোগের আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে যেতে পারে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। গ্রামের স্কুল হোক বা নগর কলেজ, প্রতিটি শিক্ষার্থী যাতে এই সুবিধা পায়।
এটি কেবল স্বাস্থ্যসুরক্ষা নয়; এটি নারীর মর্যাদা, আত্মবিশ্বাস এবং শিক্ষা অর্জনের অধিকার।
যেমন একটি প্রদীপ চারপাশে আলো ছড়িয়ে দেয়, তেমনি এই উদ্যোগ দেশের প্রতিটি শিক্ষাঙ্গণে আলো জ্বালাতে পারে।
উপসংহার স্বরূপ—ঢাবিতে স্থাপিত স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন কেবল প্রযুক্তির জয় নয়, বরং মানবিক রাজনীতির জয়। সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের জন্য যে পথ উন্মুক্ত হলো, তা আমাদের দেশের শিক্ষা ও নারী অধিকারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।