রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম
Family Card’ Under IMF Lens* *—Professor M A Barnik আইএমএফের কাঠগড়ায় ‘ফ্যামিলি কার্ড —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক War or Peace : The Entire World Looks to the Face of a Field Marshal* *—-Professor M A Barnik মাগুরায় সেলুনে আগে চুল কাটানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে! আহত-৬ *যুদ্ধ-না-শান্তি : এক ফিল্ড মার্শালের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে সারাবিশ্ব* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* *১. অস্থিরতার প্রেক্ষাপট— এক অগ্নিগোলকের পৃথিবী*: সময়ের এই অধ্যায়ে পৃথিবী যেন আগ্নেয়গিরির কিনারায় দাঁড়িয়ে— যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র, প্রতিটি জোট, প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি সম্ভাব্য বিস্ফোরণের পূর্বাভাস বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র-এর কৌশলগত আধিপত্য, ইসরায়েল-এর নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক অবস্থান, ইরান-এর প্রতিরোধী মনোভাব— সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক জটিল দ্বন্দ্বের গোলকধাঁধায় বন্দি। এই অস্থির সময়েই বিশ্বমানবতার দৃষ্টি গিয়ে থামে এক ব্যক্তির উপর— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। *২. একজন মানুষের উত্থান*: সেনাপ্রধান থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির— নামটি এখন শুধু একটি দেশের সামরিক নেতৃত্বের প্রতীক নয়, বরং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তান-এর সেনাপ্রধান হয়েও তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অদৃশ্য সেতু— যেখানে বিরোধী শক্তিগুলো অন্তত কথোপকথনের টেবিলে বসতে রাজি হয়। *৩. ব্যর্থতার ভেতর সম্ভাবনার বীজ*: গত ১১–১২ এপ্রিলের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে— এটি নিঃসন্দেহে বাস্তবতা। কিন্তু এই ব্যর্থতা কি শেষ? নাকি এটি একটি বৃহত্তর সফলতার প্রস্তুতি? বিশ্লেষণ বলছে— এই প্রথম দফার আলোচনা ছিল অবস্থান যাচাইয়ের মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র তার সীমা দেখিয়েছে, ইরান তার শর্ত স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা-রেখা টেনে দিয়েছে। আর এই সবকিছুই ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল তৈরির উপাদান হয়ে উঠেছে। *৪. কূটনৈতিক কৌশল– যুক্তির ছুরিতে শর্তের অবসান* তার সবচেয়ে বড় শক্তি— তিনি চাপ প্রয়োগ করেন না, তিনি পরিস্থিতিকে এমনভাবে সাজান, যাতে প্রতিপক্ষ নিজের অবস্থান থেকেই নরম হতে বাধ্য হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য— এই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সাথে তার সমঝোতা তৈরি করছে একটি সমর্থন কাঠামো। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া— তাদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তাকে দিয়েছে কৌশলগত গভীরতা। এই বহুমাত্রিক কূটনীতি তার প্রচেষ্টাকে করেছে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। ৫. সম্ভাবনার দিগন্ত: কেন সফল হতে পারেন? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কি সত্যিই সফল হতে পারেন? বিশ্লেষণে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে— (১) *নিরপেক্ষতার সুবিধা*: পাকিস্তান সরাসরি এই সংঘাতের মূল পক্ষ নয়, তাই তার মধ্যস্থতা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য। (২) *বহুমুখী সম্পর্ক*: পূর্ব ও পশ্চিম—দুই ব্লকের সাথেই যোগাযোগ রক্ষা করার সক্ষমতা তাকে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। (৩) *সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য*: তিনি শুধু কূটনীতিক নন, একজন সামরিক কৌশলবিদও— যা তাকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। (৪) *ব্যর্থতা থেকে শেখার সক্ষমতা*: প্রথম দফার ব্যর্থতা তাকে দুর্বল করেনি, বরং আরও প্রস্তুত করেছে। *৬. ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা*: পথ এত সহজ নয়; তবে বাস্তবতা কঠিন— যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক প্রভাব ছাড়তে চাইবে না, ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া আপস করবে না, ইসরায়েল অস্তিত্বের প্রশ্নে আপসহীন। এই ত্রিমুখী জটিলতা যেকোনো উদ্যোগকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে। *৭. বিশ্বমানবতার প্রত্যাশা ও শেষ আশ্রয়* আজ পৃথিবী এক অদ্ভুত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে— যেখানে একটি মানুষের প্রচেষ্টাকে “শেষ আশার আলো” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সফল হলে— একটি নতুন শান্তির অধ্যায় শুরু হতে পারে। ব্যর্থ হলে— পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনা আর কল্পনা থাকবে না, তা হয়ে উঠতে পারে নির্মম বাস্তবতা। *৮. বিশ্ববর্বতার ধ্বংসস্তুপে একটি মানুষ দাঁড়িয়ে* ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো সবসময় সহজ মানুষের কাছে আসে না— এসে পড়ে সেই মানুষের কাঁধে, যিনি তা বহন করতে সক্ষম। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন সেই অবস্থানে— যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই আজ যেন পৃথিবী অপেক্ষা করছে, পারমাণবিক অস্ত্রের বীভিষিকায় কী সব ধ্বংস হয়ে যাবে, নাকি পৃথিবী শান্তির পথে হাঁটবে? শান্তি অন্বেষার সেই প্রশ্নের সমাধানে ভার নিজের কাঁধে নিয়ে সাঁতারি যাচ্ছেন, বিপদগ্রস্ত মানুষের এক ত্রাণকর্তা, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শান্তির নিশান তাঁর হাতেই হয়তো পতপত করে উড়ার অপেক্ষায় আছে, আর অপেক্ষায় আছে বিশ্বের তাবৎ প্রাণীকুল ও মানবতা… মাগুরার শ্রীপুরে পাম্পে ড্রামে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারণ,সাংবাদিককে মারধর করলো পুলিশ! উক্ত পুলিশ ক্লোজ! *ফিল্ড মার্শালের ইটে-ইটে গড়া শান্তির দেয়াল* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

তারেকের ৩১ দফা : জিয়ার ১৯ দফা ও ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শ’ কফিনে ঢুকিয়ে শেষ পেরেক মেরে দেয়ার আয়োজন —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৫৩ বার ভিউ
সময়ঃ রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

১। ভূমিকা :
১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ” নামে যে রাষ্ট্রদর্শনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তা ছিল একটি ঐতিহাসিক চিন্তাচেতনার বিপ্লব। ধর্মীয় ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের উপর ভিত্তি করে একটি সার্বভৌম, স্বনির্ভর ও স্বদেশভিত্তিক চেতনার জন্ম দেন তিনি। এরই পরিপূরক হিসেবে তিনি ঘোষণা করেন তাঁর “১৯ দফা কর্মসূচি”, যা বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতিকে একটি মৌলিক ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর রূপরেখা ছিল।

কিন্তু ২০২৩ সালের শেষদিকে, লন্ডনপ্রবাসী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর তথাকথিত “৩১ দফা রাষ্ট্রপুনর্গঠন রূপরেখা” ঘোষণা করে কার্যত জিয়ার জাতীয়তাবাদী দর্শনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন। এই দফাসমূহের কোথাও “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ” শব্দটি উচ্চারিত হয়নি, বরং তার পুরো কাঠামোই একটি পশ্চিমাসর্বস্ব NGO-ধাঁচের প্রশাসনিক রূপান্তরের দিকে ঝুঁকে আছে।

২. জিয়ার ‘১৯ দফা’ মূলত একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের খসড়া :

সংক্ষেপে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা ছিল:

(১) ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা,

(২) দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ,

(৩) গ্রামীন অর্থনীতি ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব,

(৪) আত্মনির্ভরশীলতা ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া,

(৫) স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও ভারতীয় আধিপত্য থেকে সরে আসার আহ্বান।

ব্যাখা করে বলতে গেলে, বলতে হবে যে,
জিয়ার রাষ্ট্রদর্শন ছিল আত্মপ্রত্যয়ী, উদ্দীপনামূলক ও জাতীয় ঐক্যকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা এক রাজনৈতিক কৌশল। এখানে ধর্ম, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনীতি—all were interwoven with a nationalist mission rooted in post-colonial identity.

৩. তারেকের ‘৩১ দফা’ মূলত এক প্রকার NGO আদল :

সংক্ষেপে তারেক রহমানের ৩১ দফার মূলকথা হলো :

(১) Good governance,

(২) Judicial reform,

(৩) Administrative decentralization,

(৪) E-governance and anti-corruption mechanisms,

(৫) Climate justice, gender equality, and secular legal reforms.

এই দফাসমূহ কার্যত জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা বিদেশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর পরামর্শে রচিত একটি “রিফর্মিস্ট ম্যানুয়াল”। এতে নেই দেশের কৃষক, শ্রমিক, গ্রামীণ অর্থনীতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, বা জাতীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধার কোনো প্রত্যক্ষ প্রতিফলন। এর বদলে আছে প্রযুক্তিনির্ভর বেসরকারি সুশাসনের চটকদার প্রতিশ্রুতি।

 

৪. ৩১ দফা কার্যত ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর চরম অবমাননা :

তারেক রহমানের এই ৩১ দফায় যা অনুপস্থিত:

(১) “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ” শব্দটির উল্লেখ,

(২) ইসলামী মূল্যবোধ ও জাতীয় সংস্কৃতির স্বীকৃতি,

(৩) গ্রামীণ অর্থনীতি ও আত্মনির্ভরতা-কেন্দ্রিক কোনো রূপরেখা,

(৪) ভারতীয় হস্তক্ষেপ বা আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ সম্পর্কে কোনো সতর্কতা,

(৫) জিয়ার ১৯ দফার কোনো ধারাবাহিকতা বা রেফারেন্স।

অর্থাৎ, তারেক রহমান রাজনীতিকে সম্পূর্ণ এক প্রকার প্রকল্পভিত্তিক প্রশাসনিক সংস্কার উদ্যোগে রূপান্তর করেছেন, যেখানে জাতি, আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনা বা ইসলামভিত্তিক মূল্যবোধ একেবারেই অনুপস্থিত। এই রূপান্তরই “জিয়াউর রহমানের আদর্শকে কবর দেয়া”—এমন নয়, বরং সেই কবরের উপর শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়া।

৫. জাতীয়তাবাদ থেকে কসমোপলিটান সংস্করণে রূপান্তর :

তারেকের রাজনীতি এখন একধরনের transnational elite-driven politics—যেখানে ব্যতিক্রমহীনভাবে পশ্চিমা মানদণ্ডকে অনুসরণ করাই একমাত্র পথ। ফলে জিয়ার মতো একজন রাষ্ট্রনায়কের তৈরি দর্শন এখানে পরিণত হয়েছে শুধুমাত্র “ঐতিহাসিক অতীত” হিসেবে বইয়ের পাতায় ঠাঁই পাওয়া এক স্মৃতিচারণে। তারেক রহমান সাথে জিয়াউর রহমানের রক্তের সম্পর্ক আছে ঠিকই, কিন্তু আদর্শের সম্পর্ক নেই। যেদিন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি মুক্তবাজার অর্থনীতি গ্রহণ করে, সেদিন থেকে জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি রাষ্ট্রদর্শন Cosmopolitan Appearance-এ প্রবেশ করে।

৬. পথহারা তারেকের হাতে বিএনপির আত্মপরিচয় বিলুপ্ত :

তারেক রহমান যখন জিয়ার আদর্শ ভুলে যান, তখন সেটা শুধু রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব নয়, বরং বিএনপির আত্মপরিচয়ের বিলুপ্তি। তাঁর ৩১ দফা বাস্তবায়ন হলে বিএনপি আর “জাতীয়তাবাদী দল” হিসেবে থাকছে না; বরং এটি পরিণত হবে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার ক্লাব-এ।

এটাই ছিল তারেকের রাজনীতির সবচেয়ে নির্মম কৃত্য—জাতীয়তাবাদী দর্শনের উপরে দাঁড়িয়ে নিজের রাজনীতি শুরু করে, সেই দর্শনেরই কবরে পেরেক ঠোকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]

*যুদ্ধ-না-শান্তি : এক ফিল্ড মার্শালের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে সারাবিশ্ব* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* *১. অস্থিরতার প্রেক্ষাপট— এক অগ্নিগোলকের পৃথিবী*: সময়ের এই অধ্যায়ে পৃথিবী যেন আগ্নেয়গিরির কিনারায় দাঁড়িয়ে— যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র, প্রতিটি জোট, প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি সম্ভাব্য বিস্ফোরণের পূর্বাভাস বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র-এর কৌশলগত আধিপত্য, ইসরায়েল-এর নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক অবস্থান, ইরান-এর প্রতিরোধী মনোভাব— সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক জটিল দ্বন্দ্বের গোলকধাঁধায় বন্দি। এই অস্থির সময়েই বিশ্বমানবতার দৃষ্টি গিয়ে থামে এক ব্যক্তির উপর— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। *২. একজন মানুষের উত্থান*: সেনাপ্রধান থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির— নামটি এখন শুধু একটি দেশের সামরিক নেতৃত্বের প্রতীক নয়, বরং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তান-এর সেনাপ্রধান হয়েও তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অদৃশ্য সেতু— যেখানে বিরোধী শক্তিগুলো অন্তত কথোপকথনের টেবিলে বসতে রাজি হয়। *৩. ব্যর্থতার ভেতর সম্ভাবনার বীজ*: গত ১১–১২ এপ্রিলের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে— এটি নিঃসন্দেহে বাস্তবতা। কিন্তু এই ব্যর্থতা কি শেষ? নাকি এটি একটি বৃহত্তর সফলতার প্রস্তুতি? বিশ্লেষণ বলছে— এই প্রথম দফার আলোচনা ছিল অবস্থান যাচাইয়ের মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র তার সীমা দেখিয়েছে, ইরান তার শর্ত স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা-রেখা টেনে দিয়েছে। আর এই সবকিছুই ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল তৈরির উপাদান হয়ে উঠেছে। *৪. কূটনৈতিক কৌশল– যুক্তির ছুরিতে শর্তের অবসান* তার সবচেয়ে বড় শক্তি— তিনি চাপ প্রয়োগ করেন না, তিনি পরিস্থিতিকে এমনভাবে সাজান, যাতে প্রতিপক্ষ নিজের অবস্থান থেকেই নরম হতে বাধ্য হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য— এই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সাথে তার সমঝোতা তৈরি করছে একটি সমর্থন কাঠামো। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া— তাদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তাকে দিয়েছে কৌশলগত গভীরতা। এই বহুমাত্রিক কূটনীতি তার প্রচেষ্টাকে করেছে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। ৫. সম্ভাবনার দিগন্ত: কেন সফল হতে পারেন? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কি সত্যিই সফল হতে পারেন? বিশ্লেষণে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে— (১) *নিরপেক্ষতার সুবিধা*: পাকিস্তান সরাসরি এই সংঘাতের মূল পক্ষ নয়, তাই তার মধ্যস্থতা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য। (২) *বহুমুখী সম্পর্ক*: পূর্ব ও পশ্চিম—দুই ব্লকের সাথেই যোগাযোগ রক্ষা করার সক্ষমতা তাকে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। (৩) *সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য*: তিনি শুধু কূটনীতিক নন, একজন সামরিক কৌশলবিদও— যা তাকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। (৪) *ব্যর্থতা থেকে শেখার সক্ষমতা*: প্রথম দফার ব্যর্থতা তাকে দুর্বল করেনি, বরং আরও প্রস্তুত করেছে। *৬. ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা*: পথ এত সহজ নয়; তবে বাস্তবতা কঠিন— যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক প্রভাব ছাড়তে চাইবে না, ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া আপস করবে না, ইসরায়েল অস্তিত্বের প্রশ্নে আপসহীন। এই ত্রিমুখী জটিলতা যেকোনো উদ্যোগকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে। *৭. বিশ্বমানবতার প্রত্যাশা ও শেষ আশ্রয়* আজ পৃথিবী এক অদ্ভুত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে— যেখানে একটি মানুষের প্রচেষ্টাকে “শেষ আশার আলো” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সফল হলে— একটি নতুন শান্তির অধ্যায় শুরু হতে পারে। ব্যর্থ হলে— পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনা আর কল্পনা থাকবে না, তা হয়ে উঠতে পারে নির্মম বাস্তবতা। *৮. বিশ্ববর্বতার ধ্বংসস্তুপে একটি মানুষ দাঁড়িয়ে* ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো সবসময় সহজ মানুষের কাছে আসে না— এসে পড়ে সেই মানুষের কাঁধে, যিনি তা বহন করতে সক্ষম। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন সেই অবস্থানে— যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই আজ যেন পৃথিবী অপেক্ষা করছে, পারমাণবিক অস্ত্রের বীভিষিকায় কী সব ধ্বংস হয়ে যাবে, নাকি পৃথিবী শান্তির পথে হাঁটবে? শান্তি অন্বেষার সেই প্রশ্নের সমাধানে ভার নিজের কাঁধে নিয়ে সাঁতারি যাচ্ছেন, বিপদগ্রস্ত মানুষের এক ত্রাণকর্তা, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শান্তির নিশান তাঁর হাতেই হয়তো পতপত করে উড়ার অপেক্ষায় আছে, আর অপেক্ষায় আছে বিশ্বের তাবৎ প্রাণীকুল ও মানবতা…