বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
১. তারেক রহমানের বিষাদকণ্ঠে যা ভেসে এলো:
নভেম্বরের শেষ বিকেলটা যেন এক অদৃশ্য শোকগাথা হয়ে আকাশে ঝুলে ছিল। তার রঙ ছিল ঠিক সেই ম্লান নীলের মতো, যেদিন প্রথম কোনো দল তার নেতার হাত হারিয়ে অচেনা রাস্তায় দিক হারায়। লন্ডনের কোনা এক ঘরের জানালা বেয়ে নামছিল ধূসর আলো, আর বাংলাদেশের পথে পথে চলছিল গভীর দীর্ঘশ্বাস—
“নেতা ফিরবেন… ফিরবেন না…?”
২৯ নভেম্বর তারেক রহমান যখন বললেন—
“দেশে ফিরা আমার এককনিয়ন্ত্রণে নয়”—
তখন বাক্যটি যেন বুলেট নয়, শেল নয়, বরং মর্মভেদী একটি কান্না হয়ে দলটির মাথার উপরে আছড়ে পড়লো।
দূরদেশের সেই কণ্ঠস্বরে লুকানো ছিল পরাজয়ের গোপন অশ্রুধারা, আর দেশের নদীভরা ভূখণ্ডে তা প্রতিধ্বনিত হলো—
“তাহলে আমরা কার হাত ধরে এগোবো?”
২. হতাশার অন্ধকারে একটি দলের ডুবে যাওয়া:
বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা যেদিন শুনল—
নেতা আসছেন না, আসতে পারছেন না, আর সিদ্ধান্ত তার নিজেরও নয়—
সেদিন যেন প্রতিটি ইউনিয়ন কার্যালয়, প্রতিটি শাখা, প্রতিটি পোস্টারজড়ানো দেয়াল কেঁদে উঠল।
কেউ বললো,
“আমাদের পায়ের নিচের মাটি কেড়ে নেওয়া হলো।”
কেউ ফিসফিস করে বললো,
“মরণব্যাধির মতো এই নেতৃত্বহীনতা আর কতদিন বয়ে বেড়াবো?”
সে দিন হাওয়ার মধ্যেও ছিল এক অদৃশ্য শোকবাতাস—
যেন রাজনীতির মাঠে শীত আগেভাগে নেমে গেছে।
৩. বিভ্রান্তি আর দিকহারা যাত্রার রূপকথা :
একসময় যে দল গণতন্ত্রের সূর্যের মতো দাঁড়িয়ে ছিল, আজ তা যেন অবরুদ্ধ চাঁদের মতো অর্ধেক আলোয় থেমে গেছে।
প্রার্থী নির্বাচন—ঘররুদ্ধ দ্বিধা।
জোটনীতি—অযত্নে ফেলে রাখা ভাঙা আয়নার মতো।
সিদ্ধান্ত—যেন পাখাহীন পাখি, আকাশে উঠতে চায়, কিন্তু মাটিতেই পড়ে থাকে।
তারেক রহমানের অনুপস্থিতি আর তারও ওপরে—
দেশে ফেরা তার নিজের একক সিদ্ধান্ত নয় —
এই ঘোষণা পুরো দলের অস্তিত্বে যেন তুষারের মতো ঠাণ্ডা বিষ ঢেলে দিল।
এ দল কীভাবে উঠবে?
কাকে ধরে সামনে হাঁটবে?
প্রশ্নগুলো ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ছে, কোনো উত্তর দেয় না।
৪. ভোটারদের আস্থার ভিতর শোকগান :
যারা পরিবর্তনের স্বপ্নে বুক বেঁধেছিল, তারা আজ যেন সেই স্বপ্নের শেষ শীতল নিশ্বাসও শুনতে পাচ্ছে।
এক মা চোখ মুছতে মুছতে বললেন—
“যে নেতা দেশে আসতে পারেন না, তাঁর দলের ভবিষ্যৎ কি আলোয় ভরা হতে পারে?”
এক তরুণ কর্মী পথের ধুলি মুছে ফিসফিস করে বললো—
“নেতা নাই, দিশা নাই…
নির্বাচনের মাঠে দাঁড়াবো কীভাবে?”
স্বপ্ন বোনা হাতগুলো আজ থেমে গেছে।
আশার প্রদীপগুলো নিভে যাচ্ছে।
৫. প্রতিপক্ষের বিজয়োল্লাস, আর বিএনপির ভাঙা মঞ্চ :
নেতা ফিরতে না-পারার ঘোষণা যেন প্রতিপক্ষকে সোনার সেতু উপহার দিল।
এ যেন দাবার খেলায় রাজা ঘুমিয়ে পড়েছে আর সৈন্যরা একে একে হারিয়ে যাচ্ছে।
একটি দল যার নেতা সীমাহীন সীমানার ওপারে, আর সিদ্ধান্ত অনিশ্চয়তার কুয়াশায়, সেই দল দ্রুতই প্রতিপক্ষের প্রচারণায় ব্যবহৃত হতে থাকে—
“দেখুন, তারা নিজের দলই সামলাতে পারে না!”
এই বাক্যগুলো রাতের অন্ধকারে বজ্রপাতের মতো তীব্র আর নির্মম।
৬. কান্নায় ভেজা দলের ভবিষ্যৎ :
বিএনপি আজ যেন এক দীর্ঘ শোকযাত্রার ভেতর দাঁড়িয়ে আছে।
যেখানে পতাকা আছে, পোস্টার আছে, স্লোগান আছে—
কিন্তু নেই সেই দৃশ্যমান নেতৃত্ব, যিনি একটিমাত্র বাক্যে হাজার মানুষকে মাঠে নামিয়ে দিতে পারতেন।
তারেক রহমানের কণ্ঠে যখন শোনা গেল—
“দেশে ফিরা আমার এককনিয়ন্ত্রণে নয়”
তখন পুরো দেশ যেন উপলব্ধি করল—
ক্ষমতার যুদ্ধে শুধু প্রতিপক্ষ নয়, নিজের বাস্তবতাও সবচেয়ে বড় শত্রু।
কালের চাকা ঘুরছে, নির্বাচন এগিয়ে আসছে,
আর দলটি দাঁড়িয়ে আছে যেন বৃষ্টির মধ্যে ভিজে যাওয়া এক একাকী যাত্রী—
হাতে ছাতা নেই, মাথায় দিশা নেই,
শুধু দূর আকাশে ঝুলছে অসহায় এক প্রশ্ন—
“এবার আমাদের ভাগ্য কোন পথে যাবে?”