শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে পাম্পে ড্রামে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারণ,সাংবাদিককে মারধর করলো পুলিশ! উক্ত পুলিশ ক্লোজ! *ফিল্ড মার্শালের ইটে-ইটে গড়া শান্তির দেয়াল* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নবীনগরে শৈত্যপ্রবাহে হলুদ হচ্ছে বোরো বীজতলা, কমছে ফলনের আশঙ্কা

সংবাদদাতা / ১০১ বার ভিউ
সময়ঃ শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন

ইব্রাহীম খলিল,

‎নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:

সারাদেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। বছরের এই সময়ে কৃষিকাজে ব্যস্ত সময় পার করলেও শৈত্যপ্রবাহের কারণে চরম উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকেরা।

শৈত্যপ্রবাহে কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বোরো ধানের বীজতলা হলুদ হয়ে চারা মারা যাচ্ছে। এছাড়া আলু, সরিষা, পেঁয়াজ, টমেটো, শিম, লাউ, করলাসহ বিভিন্ন শীতকালীন ফসল ও সবজির মুকুল ও পাতা কালো হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। তীব্র শীতে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, ডগা মরে যাচ্ছে এবং রোগবালাইয়ের প্রকোপ বাড়ছে, যা কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলায় শিশির জমে চারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা পরবর্তী রোপণ মৌসুমকেও প্রভাবিত করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাইতলা উত্তর, নাটঘর, নবীনগর পূর্ব, শিবপুর ও বিদ্যাকুট ইউনিয়নের হাওর এলাকায় পুরোদমে ধান রোপণের কাজ চলছে। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমি অধ্যুষিত ইব্রাহিমপুর, লাউরফতেহপুর ও জিনদপুর ইউনিয়নে কৃষকেরা বীজতলা তৈরি ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে নবীনগরে ৯০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এসব বীজতলা থেকে প্রায় ১৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হবে, যা একটি রেকর্ড। শৈত্যপ্রবাহের ক্ষতি থেকে বীজতলা রক্ষায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কৃষকেরা বিকেলে সেচ দিচ্ছেন এবং সকালে সেই পানি বের করে দিয়ে নতুন পানি দিচ্ছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে চারার ওপর জমে থাকা শিশির ঝরিয়ে দিচ্ছেন।

এদিকে নবীনগর উপজেলায় প্রায় ২৪৫ হেক্টর জমিতে আলু এবং ২১০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন টমেটোর আবাদ হয়েছে। বর্তমান আবহাওয়ায় আলু ও টমেটো ক্ষেতে নাবী ধ্বসা রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের অনুমোদিত মাত্রায় ৫ থেকে ৭ দিন পর পর ম্যানকোজেব গোত্রের ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নবীনগরে প্রায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। তীব্র শীতের কারণে সরিষায় রোগবালাই বৃদ্ধি এবং পরাগায়নে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

শৈত্যপ্রবাহে করণীয় বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “কৃষিতে আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রবি শস্য ও বোরো ধানের বীজতলা। আমরা শুরু থেকেই কৃষকদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছি। আশা করছি দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে চলে আসবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]