বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল একুশে টিভি’র ২৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা In Reverence and Remembrance ‘Abdul Hye—Professor M A Barnik সুপ্রিয় আবদুল হাইকে হারালাম—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিজয়ে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাজউক কর্মকর্তা গ্রেফতার: নারী সাংবাদিক হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় জামায়াতের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত Without Classrooms, Education Remains Incomplete* *—-Professor M A Barnik

নির্বাচন না নির্বিচার প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার পালাবদলের অপেক্ষা? —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১২৭ বার ভিউ
সময়ঃ বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

১. ভূমিকা:

বাংলাদেশের রাজনীতি আবারও এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে। জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান শেখ হাসিনার দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটালেও, সেই বিপ্লব-পরবর্তী স্বপ্ন আজ ভেঙে পড়ছে বৈধতার সংকটে। অধ্যাপক ড. মুহম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে দায়িত্ব নিয়েছিলেন জনগণের রক্তে লেখা আন্দোলনের দাবিকে প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নিজের বা আন্দোলনের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

২. জুলাই সনদ থেকে সরে যাওয়া :

জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল—

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন,

গণভোটের মাধ্যমে বৈধতা,

Constituent Assembly গঠন,

একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন।

এগুলো না করে ইউনূস কেবল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এতে অভ্যুত্থান-পরবর্তী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসার অভিযোগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

৩. নির্বাচন না ক্ষমতা হস্তান্তর :

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এই নির্বাচন আদৌ হবে কি? নাকি এর আগেই অন্য কোনো নির্বিচার প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে?

দেশের ইতিহাস বলছে, বারবারই নির্বাচন রাজনৈতিক সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের ক্ষমতা, ১৯৮২ সালে এরশাদের উত্থান, ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত সরকার—সব ক্ষেত্রেই নির্বাচন নয়, বরং অনিয়মিত ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ দেখা গেছে।

৪. অস্থিরতা ও সহিংসতার বিস্তার :

নির্বাচনের ঘোষণা পরবর্তী সময়েই উত্তেজনা ও সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রথমে আসে ভিপি নূরকে আক্রমণের ঘটনা, যা তাকে মৃতকল্পে ফেলে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্রমাগত অশান্তি ছড়িয়ে পড়ছে।

আইনশৃঙ্খলার অবনতিও এখন ভয়াবহ পর্যায়ে।

এ অবস্থায় জনগণের মনে প্রশ্ন জাগছে—অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে আর কতটা নিয়ন্ত্রণ অবশিষ্ট আছে?

৫. জরুরি অবস্থা ও সামরিক হস্তক্ষেপের গুঞ্জন :

রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রসঙ্গ—রাষ্ট্রপতি কি চুপ করে বসে থাকবেন? নাকি তিনি হস্তক্ষেপ করবেন?

গুঞ্জন রয়েছে জরুরি অবস্থা ঘোষণার।

আরও দূরদর্শী মহল আশঙ্কা করছে সামরিক শাসন আবার ফিরে আসতে পারে।
যদিও অনেকে এটিকে নিছক গুজব বলছেন, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুজব প্রায়ই বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে।

৬. আন্তর্জাতিক তুলনা :

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বিশ্ব রাজনীতিতে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারগুলোর ব্যর্থতার একাধিক নজির রয়েছে।

মিশর (২০১১-২০১৩): গণআন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন দিলেও বৈধতার সংকট মেটাতে ব্যর্থ হয়, শেষ পর্যন্ত সামরিক হস্তক্ষেপ ঘটে।

সুদান (২০১৯): জনগণের আন্দোলনে ক্ষমতা বদল হলেও নির্বাচন বিলম্বিত হয়, সামরিক বাহিনী পুনরায় প্রভাব বিস্তার করে।

নেপাল (২০০৬): গণআন্দোলনের পর নতুন সংবিধান ও গণভোট ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসেনি।

এই উদাহরণগুলো প্রমাণ করে—সংবিধান সংস্কার ও বৈধতা নিশ্চিত না করলে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকার টেকে না।

 

৭. ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য দৃশ্যপট :

বাংলাদেশের বর্তমান গতিপ্রকৃতি থেকে তিনটি সম্ভাবনা সামনে আসতে পারে:

(১). অস্থায়ী নির্বাচন: ইউনূস সরকারের ঘোষিত ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তা বৈধতার সংকট মেটাবে না।

(২). জরুরি অবস্থা: রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করতে পারেন।

(৩). সামরিক শাসন: সর্বোচ্চ আশঙ্কার দৃশ্য—সেনাবাহিনী ক্ষমতায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

 

৮. উপসংহার:

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজের বা জনগণের আন্দোলনের বৈধতা না দিয়ে ইউনূস আসলে অভ্যুত্থান-পরবর্তী শূন্যতাকে দীর্ঘায়িত করেছেন। এর ফলে ক্ষমতার কেন্দ্র এখন নির্বাচনের বাইরে অন্য কোনো নির্বিচার উৎসে ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই প্রশ্ন আজ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে—বাংলাদেশ কি সত্যিই নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, নাকি নির্বিচার প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা পালাবদলের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]