শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন মাগুরায় ৭ ভুয়া সিআইডি সদস্য আটক, নারী অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ! Bangladesh: Emerging as a Key Strategic Nexus in the Defence Relations of India, China and the Middle East- Professor M. A. Barnik* বাংলাদেশ : ভারত-চীন-মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হচ্ছে* *–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

পূজামণ্ডপে অসূররূপে ড. মুহাম্মদ ইউনূস: ধর্মীয় আচারকে কলুষিত করার দায় কার? —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৭১ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন

১. পূজার পবিত্রতাকে কলুষিত করার দৃষ্টান্ত :

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি দুর্গাপূজা মণ্ডপে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অসূর বা রাক্ষসরূপে উপস্থাপন করার ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রদায়িক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে এক অভাবনীয় দৃষ্টান্ত। পূজা মণ্ডপ সাধারণত দেবী দুর্গার আরাধনা, শিল্পকলা ও সামাজিক মিলনমেলার প্রতীক হয়ে থাকে। সেখানে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে ‘অসুর’ হিসেবে প্রতিস্থাপন করা নিছক কোনো শিল্পের প্রয়াস নয়; বরং এটি এক ধরনের অপকর্ম, যা পূজার পবিত্রতাকে কলুষিত করেছে।

২. পবিত্র ধর্মশালায় অপরাজনীতির অনুপ্রবেশ :

পূজামণ্ডপকে ‘চিরলালিত ধর্মশালা’ বলা হয় কারণ এটি কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং সহাবস্থান, আনন্দ ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন। কিন্তু যখন রাজনৈতিক বিদ্বেষ বা সামাজিক বিভাজনের প্রতীকী রূপ সেখানে স্থান পায়, তখন আচারটি তার মূল মহিমা হারায়। ড. ইউনূসকে অসূররূপে তুলনা করার মধ্য দিয়ে পূজামণ্ডপে এক ধরনের ‘অপরাজনীতি’ প্রবেশ করেছে, যা ধর্মীয় ঐতিহ্যের জন্য অশোভন ও অমর্যাদাকর।

৩. কেন এটি নজিরবিহীন :

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে বহুবার পূজা বা অন্যান্য ধর্মীয় আচার সামাজিক বার্তা বহন করেছে—দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার গুরুত্ব, নারী শক্তির জাগরণ। কিন্তু নির্দিষ্ট একজন জীবিত ব্যক্তিকে ‘অসুর’ হিসেবে উপস্থাপন করা কার্যত ধর্মীয় আচারকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিদ্বেষের হাতিয়ার বানানোর সমান। এটি নজিরবিহীন এবং ধর্মীয় আচারকে আক্রমণাত্মক ব্যঙ্গচিত্রে রূপান্তর করার এক বিপজ্জনক প্রবণতা।

৩. দায়ভার কার?

এই ঘটনাটি শুধু শিল্পী বা মণ্ডপ কমিটির সিদ্ধান্ত নয়; বরং বৃহত্তর সামাজিক দায়ও সৃষ্টি করে।

মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ: পূজার পবিত্রতাকে রক্ষার দায়িত্ব তাঁদের, কিন্তু তাঁরা রাজনীতিকে ঢুকতে দিয়েছেন।

সমাজ ও স্থানীয় নেতৃত্ব: দর্শনার্থীরা যদি প্রতিবাদ না করে নীরব থাকে, তবে সেটি এক ধরনের নীরব সমর্থন হয়ে দাঁড়ায়।

রাজনীতি ও মিডিয়া: পূজাকে রাজনৈতিক ব্যঙ্গের মঞ্চে পরিণত করার প্রবণতা নীরবে উৎসাহিত করেছে।

৪. মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ করার ঘটনা:

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বব্যাপী মানবকল্যাণ ও অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতীক। তাঁকে ‘অসুর’ রূপে উপস্থাপন করা কেবল একটি অবমাননাকর প্রতীকী কাজ নয়; বরং এটি তাঁর ব্যক্তিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী, যে কোনো ব্যক্তি মর্যাদা ও সম্মানের সাথে বাঁচার অধিকার রাখেন। এই ঘটনায় সেই অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমালোচিত হওয়ার যোগ্য।

৫. ভারতের সরকারের আইনগত দায়িত্ব:

যারাই এ কাজটি করেছে, তারা কেবল ধর্মীয় আচারকে অপমান করেনি, বরং ড. ইউনূসের মৌলিক অধিকারকে হেয় করেছে। তাই ভারতের সরকারের উচিত এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা—

প্রথমত, মণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

দ্বিতীয়ত, এ ধরনের ভবিষ্যৎ ঘটনাকে প্রতিরোধ করতে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা প্রদান।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশের প্রতি কূটনৈতিকভাবে আশ্বাস দেওয়া যে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।

৬. ধর্ম ও সংস্কৃতির ক্ষতি :

যখন একটি পূজা মণ্ডপে বিদ্বেষমূলক প্রতীক তুলে ধরা হয়, তখন তা হিন্দু সমাজের ভেতরেও বিভাজন তৈরি করে। হিন্দু ধর্মশালার মহিমা সহিষ্ণুতা ও উদারতায়; সেটিকে বিদ্বেষ ও ব্যঙ্গচিত্রে নামিয়ে আনা ভবিষ্যতে ধর্মীয় আচারকে আরও অবিশ্বাস্য করে তুলবে। এতে সাম্প্রদায়িক সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৭. ভারত সরকারের বক্তব্য কি জানতে চাই:
ভারতের পূজামণ্ডপে ইউনূসকে অসূররূপে উপস্থাপন এক নজিরবিহীন ঘটনা, যা ধর্মীয় পবিত্রতা কলুষিত করেছে এবং তাঁর মানবাধিকারেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে। এই ধরনের কাজ শুধু ব্যক্তিকে হেয় করে না, বরং ধর্মীয় আচার ও সংস্কৃতির মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ণ করে। অপরাজনীতিকে ধর্মশালায় স্থান দেওয়ার দায়ভার আজকের সমাজকেই নিতে হবে, আর ভারতের সরকারের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ও নৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।একই সাথে এব্যাপারে ভারত সরকারের বক্তব্য কি, তা আমরা জানতে চাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]