মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাগুরায় ৮ হাজার ইয়াবা ও নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আচক! টাকা ও বাইক জব্দ!

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন: জুলাই শহিদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা, নাকি, ফ্যাসিবাদে ফিরে আসা? —- অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ২০১ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

১. ভূমিকা :

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ছিল এক অগ্নিঝরা অধ্যায়। সেই আন্দোলনে শহিদ তরুণদের রক্তে যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার স্বপ্ন জন্ম নিয়েছিল, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আয়োজন তা মুছে দিতে উদ্যত। প্রশ্ন উঠছে—এই নির্বাচন কি সত্যিই মুক্ত গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা, নাকি আবারও ফ্যাসিবাদের আঁধারে ফেরার আয়োজন?

২. রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়া-পাওয়া :

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান বিভক্ত।

বিএনপি, গণতন্ত্র মঞ্চসহ বেশ কিছু দল দাবি করছে—এই নির্বাচন হবে কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য, যদি তা শহিদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করে এবং নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

অপরদিকে, ক্ষমতাসীন মহল ও তাদের সহযোগী অংশ বলছে—“নির্বাচনের মাধ্যমেই স্থিতিশীলতা আসবে”।

ইসলামী দলগুলোর বড় অংশ দাবি করছে, ধর্মীয় নেতৃত্ব ও সমাজের নৈতিক শক্তিকে উপেক্ষা করে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

৩. অন্তর্বর্তী সরকারের তৎপরতা :

অন্তর্বর্তী সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও অনেকের কাছে এগুলো কেবল “সংকট ব্যবস্থাপনার কৌশল” হিসেবে ধরা পড়ছে। স্বাধীন কমিশন, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক তদারকি—এসব নিয়ে আলোচনা থাকলেও বাস্তবে গণআস্থার সংকট কাটেনি।

৪. নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ধুলিস্মাৎ হওয়ার শঙ্কা :

জুলাই বিপ্লবের সময় রাজপথে যে শ্লোগান গর্জে উঠেছিল—
“আমরা নতুন বাংলাদেশ চাই, মুক্ত রাষ্ট্র চাই”—
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আয়োজন তা মুছে দেওয়ার মতো হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি দলীয় স্বার্থ, ভারতীয় প্রভাব এবং ক্ষমতার দখলদারিত্বই আবার প্রধান হয়ে ওঠে, তবে “নতুন বাংলাদেশ” কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

৫. শহিদ পরিবারের আবেগময় প্রতিক্রিয়া:

শহিদ পরিবারের চোখে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এক গভীর ক্ষতকে আবারও উন্মুক্ত করছে।

শহিদ রায়হানের মা বলেন:
“আমার ছেলের বুকের রক্ত কিসের জন্য গেল? আমরা ভেবেছিলাম, আর কোনো মা যেন রক্তে ভেজা সন্তানের লাশ না দেখে। অথচ তারা আবার পুরনো খেলা শুরু করেছে।”

শহিদা ফাতেমার ভাইয়ের আর্তনাদ—
“আমাদের ভাই শহিদ হয়ে গেছে এই আশায় যে বাংলাদেশ বদলাবে। কিন্তু ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সেই স্বপ্নকে কবর দিতে চাইছে।”

এই আবেগময় প্রতিক্রিয়া শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য এক কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে—শহিদদের আত্মত্যাগ কি এভাবেই ভুলে যাওয়া হবে?

৬. উপসংহার :

আজকের বাংলাদেশের /রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো—ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কি হবে জুলাই শহিদদের স্বপ্নের প্রতিফলন, নাকি আবারও ফ্যাসিবাদের পুনর্জন্ম? যদি এই নির্বাচন রক্তের মর্যাদা অস্বীকার করে কেবল ক্ষমতাকেন্দ্রিক নাটকেই সীমিত থাকে, তবে ইতিহাস একে বলবে—“শহিদদের সাথে নির্মম বিশ্বাসঘাতকতা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]