শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ – মাগুরায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম Macca Defence Pact: A Severe Setback to India’s Strategic Calculations* *— Professor MA Barnik *মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি : ভারতের স্ট্র্যাটেজিক হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের ধাক্কা— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন

*বিচার ছাড়া ডিটেনশন: শন্তিতে নোবেলজয়ীর অবক্ষয়* —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১২৩ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন

মওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর মতো ব্যক্তিদের গ্রেফতার, আটকাদেশ জারি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই দীর্ঘদিন কারারুদ্ধ করে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে তীব্র উদ্বেগ, ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী এবং সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়; বরং এটি সরাসরি আইনের শাসন, সংবিধানিক অধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের ব্যক্তি-স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণাপত্র (UDHR) ও আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (ICCPR) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা আটক করা হলে দ্রুত বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা এবং ন্যায়সংগত বিচারের সুযোগ দেওয়া রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। অথচ সাম্প্রতিক বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, আটকাদেশের মতো প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে কিছু ব্যক্তিকে কার্যত বিচারহীন কারাবন্দিত্বের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত।
মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, আটকাদেশ মূলত একটি ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা, যা অত্যন্ত সীমিত পরিস্থিতিতে এবং স্বল্প সময়ের জন্য প্রয়োগযোগ্য। কিন্তু যখন এই ব্যবস্থাকে নিয়মিত রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন তা রাষ্ট্রের আইনগত বৈধতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। মওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর মতো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিচার ছাড়াই দীর্ঘ সময় কারাবন্দিত্বের অভিযোগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে ড. মুহম্মদ ইউনূসের মতো শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর শাসনামলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তির কারণে। বিশ্বব্যাপী যিনি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায় ও দারিদ্র্য বিমোচনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত, তাঁর শাসনামলে যদি বিনাবিচারে কারাবন্দিত্ব ও কারানির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, তবে তা কেবল দেশীয় পর্যায়েই নয়—আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার কাছ থেকে জনগণের প্রত্যাশা থাকে আরও মানবিক, সহনশীল ও আইননিষ্ঠ আচরণ; সেখানে এ ধরনের কঠোর ও বিতর্কিত পদক্ষেপ গভীর হতাশার জন্ম দেয়।
আইনজ্ঞদের মতে, বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা কেবল মানবাধিকারের লঙ্ঘন নয়; এটি বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করে এবং রাষ্ট্রকে একটি দমনমূলক কাঠামোর দিকে ঠেলে দেয়। এর ফলে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন আরও গভীর হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
এই অবস্থায় দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছেন—যাদেরকে এভাবে বিনাবিচারে আটক ও কারানির্যাতনের শিকার করা হচ্ছে, তাদেরকে কোনো প্রকার কাল বিলম্ব না করে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি তারা আটকাদেশ ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং গ্রেফতার ও আটক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
মানবাধিকারকর্মীরা আরও মনে করেন, রাষ্ট্র যদি সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে চায়, তবে ভিন্নমতকে দমন নয়—সংলাপ, সহনশীলতা এবং ন্যায়সংগত বিচারকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, বিনাবিচারে কারাবন্দিত্বের এই ধারা রাষ্ট্রকে নৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দেবে এবং ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]