রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম
War or Peace : The Entire World Looks to the Face of a Field Marshal* *—-Professor M A Barnik মাগুরায় সেলুনে আগে চুল কাটানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে! আহত-৬ *যুদ্ধ-না-শান্তি : এক ফিল্ড মার্শালের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে সারাবিশ্ব* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* *১. অস্থিরতার প্রেক্ষাপট— এক অগ্নিগোলকের পৃথিবী*: সময়ের এই অধ্যায়ে পৃথিবী যেন আগ্নেয়গিরির কিনারায় দাঁড়িয়ে— যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র, প্রতিটি জোট, প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি সম্ভাব্য বিস্ফোরণের পূর্বাভাস বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র-এর কৌশলগত আধিপত্য, ইসরায়েল-এর নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক অবস্থান, ইরান-এর প্রতিরোধী মনোভাব— সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক জটিল দ্বন্দ্বের গোলকধাঁধায় বন্দি। এই অস্থির সময়েই বিশ্বমানবতার দৃষ্টি গিয়ে থামে এক ব্যক্তির উপর— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। *২. একজন মানুষের উত্থান*: সেনাপ্রধান থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির— নামটি এখন শুধু একটি দেশের সামরিক নেতৃত্বের প্রতীক নয়, বরং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তান-এর সেনাপ্রধান হয়েও তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অদৃশ্য সেতু— যেখানে বিরোধী শক্তিগুলো অন্তত কথোপকথনের টেবিলে বসতে রাজি হয়। *৩. ব্যর্থতার ভেতর সম্ভাবনার বীজ*: গত ১১–১২ এপ্রিলের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে— এটি নিঃসন্দেহে বাস্তবতা। কিন্তু এই ব্যর্থতা কি শেষ? নাকি এটি একটি বৃহত্তর সফলতার প্রস্তুতি? বিশ্লেষণ বলছে— এই প্রথম দফার আলোচনা ছিল অবস্থান যাচাইয়ের মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র তার সীমা দেখিয়েছে, ইরান তার শর্ত স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা-রেখা টেনে দিয়েছে। আর এই সবকিছুই ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল তৈরির উপাদান হয়ে উঠেছে। *৪. কূটনৈতিক কৌশল– যুক্তির ছুরিতে শর্তের অবসান* তার সবচেয়ে বড় শক্তি— তিনি চাপ প্রয়োগ করেন না, তিনি পরিস্থিতিকে এমনভাবে সাজান, যাতে প্রতিপক্ষ নিজের অবস্থান থেকেই নরম হতে বাধ্য হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য— এই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সাথে তার সমঝোতা তৈরি করছে একটি সমর্থন কাঠামো। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া— তাদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তাকে দিয়েছে কৌশলগত গভীরতা। এই বহুমাত্রিক কূটনীতি তার প্রচেষ্টাকে করেছে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। ৫. সম্ভাবনার দিগন্ত: কেন সফল হতে পারেন? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কি সত্যিই সফল হতে পারেন? বিশ্লেষণে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে— (১) *নিরপেক্ষতার সুবিধা*: পাকিস্তান সরাসরি এই সংঘাতের মূল পক্ষ নয়, তাই তার মধ্যস্থতা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য। (২) *বহুমুখী সম্পর্ক*: পূর্ব ও পশ্চিম—দুই ব্লকের সাথেই যোগাযোগ রক্ষা করার সক্ষমতা তাকে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। (৩) *সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য*: তিনি শুধু কূটনীতিক নন, একজন সামরিক কৌশলবিদও— যা তাকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। (৪) *ব্যর্থতা থেকে শেখার সক্ষমতা*: প্রথম দফার ব্যর্থতা তাকে দুর্বল করেনি, বরং আরও প্রস্তুত করেছে। *৬. ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা*: পথ এত সহজ নয়; তবে বাস্তবতা কঠিন— যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক প্রভাব ছাড়তে চাইবে না, ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া আপস করবে না, ইসরায়েল অস্তিত্বের প্রশ্নে আপসহীন। এই ত্রিমুখী জটিলতা যেকোনো উদ্যোগকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে। *৭. বিশ্বমানবতার প্রত্যাশা ও শেষ আশ্রয়* আজ পৃথিবী এক অদ্ভুত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে— যেখানে একটি মানুষের প্রচেষ্টাকে “শেষ আশার আলো” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সফল হলে— একটি নতুন শান্তির অধ্যায় শুরু হতে পারে। ব্যর্থ হলে— পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনা আর কল্পনা থাকবে না, তা হয়ে উঠতে পারে নির্মম বাস্তবতা। *৮. বিশ্ববর্বতার ধ্বংসস্তুপে একটি মানুষ দাঁড়িয়ে* ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো সবসময় সহজ মানুষের কাছে আসে না— এসে পড়ে সেই মানুষের কাঁধে, যিনি তা বহন করতে সক্ষম। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন সেই অবস্থানে— যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই আজ যেন পৃথিবী অপেক্ষা করছে, পারমাণবিক অস্ত্রের বীভিষিকায় কী সব ধ্বংস হয়ে যাবে, নাকি পৃথিবী শান্তির পথে হাঁটবে? শান্তি অন্বেষার সেই প্রশ্নের সমাধানে ভার নিজের কাঁধে নিয়ে সাঁতারি যাচ্ছেন, বিপদগ্রস্ত মানুষের এক ত্রাণকর্তা, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শান্তির নিশান তাঁর হাতেই হয়তো পতপত করে উড়ার অপেক্ষায় আছে, আর অপেক্ষায় আছে বিশ্বের তাবৎ প্রাণীকুল ও মানবতা… মাগুরার শ্রীপুরে পাম্পে ড্রামে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারণ,সাংবাদিককে মারধর করলো পুলিশ! উক্ত পুলিশ ক্লোজ! *ফিল্ড মার্শালের ইটে-ইটে গড়া শান্তির দেয়াল* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে

বিদেশি ভোটার নিয়ে দ্বন্দ্ব: নাগরিকতা ইস্যুতে তারেককে ঘিরেই বিএনপির আপত্তি —–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১০৭ বার ভিউ
সময়ঃ রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) প্রদান ও প্রবাস থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন (ন্যাশনাল কনসেনসাস কমিশন) যৌথভাবে একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে।

এই প্রস্তাবের আওতায় তারেক রহমানসহ সব প্রবাসী বাংলাদেশিকে একটি অনলাইন যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় NID প্রদান ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে এই উদ্যোগকে “গোপন ফাঁদ” বলে উল্লেখ করে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছেন, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তারেক রহমানের নাগরিক মর্যাদা ও ভোটাধিকার ঘিরে সরকার-বিএনপি দ্বন্দ্ব।

 

🟥 তারেক রহমান: বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু

২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০১৪ সালের জুন মাসে নিজের ও পরিবারের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্রিটিশ হোম অফিসে জমা দেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ২০১৮ সালে একাধিকবার সংসদে দাবি করেন—

> “তারেক রহমান আর বাংলাদেশের নাগরিক নন।”

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে তা জোরালোভাবে অস্বীকার করা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন:

> “পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল শুধু রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রক্রিয়ায়। নাগরিকত্ব কোনোভাবেই ত্যাগ করা হয়নি। তিনি জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।”

 

এই পরিস্থিতিতে, NID যাচাইয়ের নামে যদি তারেক রহমানকে ‘নাগরিক’ বা ‘অ-নাগরিক’ হিসেবে ঘোষিত করতে হয়, তবে তা বিএনপির জন্য রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়—এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।

🟩 জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বক্তব্য:

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ এই প্রস্তাবনার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন:

> “এই উদ্যোগ কারও বিরুদ্ধে নয়। এটি সমস্ত প্রবাসী বাংলাদেশির ভোটাধিকার নিশ্চিত করার সাংবিধানিক উদ্যোগ। তারেক রহমান বা যে–কেউ—তাদের অবস্থান যা-ই হোক, যদি তিনি নাগরিক হন, তবে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে; যদি না হন, সেটিও রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত হবে আইনি প্রক্রিয়ায়।”

 

তিনি আরও বলেন:

> “প্রস্তাবটি নিয়ে যারা ভয় পাচ্ছেন, তারা হয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না, নয়তো নিজস্ব সংকটে আছেন।”

 

🟩 নির্বাচন কমিশনের অবস্থান:

নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য বলেন:

> “আমরা ভোটার তালিকা আইনের আওতায় প্রবাসীদের তথ্য যাচাই করে তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই। কারো নাগরিকত্ব প্রমাণ বা বাতিল করা আমাদের দায়িত্ব নয়, বরং জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা ইসির দায়িত্ব।”

কমিশনের প্রযুক্তি শাখা জানায়, প্রবাসে থাকা প্রায় ১.২ কোটি বাংলাদেশির জন্য একটি অনলাইন যাচাই পোর্টাল চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা নিজ নিজ পরিচয়পত্র হালনাগাদ ও সংগ্রহ করতে পারবেন।

🟥 বিএনপির বিরোধিতা: বক্তব্য ও ব্যাখ্যা

এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিএনপির একাধিক নেতৃবৃন্দ কড়া ভাষায় মত দিয়েছেন:

শামা ওবায়দ (আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক):

> “এই প্রস্তাব তারেক রহমানকে নাজুক আইনি অবস্থানে নিতে চায়। সরকার চায় এই NID প্রক্রিয়ায় দেখাতে যে তিনি বাংলাদেশি নাগরিক নন।”

 

নজরুল ইসলাম খান (স্থায়ী কমিটির সদস্য):

> “যারা বিদেশে নির্বাসনে আছেন, তাদের নাগরিক অধিকার নিয়ে খেলতে চায় সরকার। নির্বাচন কমিশনকে তারা ব্যবহার করছে।”

 

জয়নুল আবেদিন ফারুক (চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা):

> “বিদেশে বসবাস করা লক্ষ লক্ষ মানুষকে হঠাৎ ভোটার বানানোর নামে এটা রাজনৈতিক শিকার করার আয়োজন। এটা কোনো অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি নয়।”

 

 

🧭 বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা:

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন:

> “বিএনপির আপত্তির পেছনে স্পষ্টভাবে তারেক রহমান ইস্যুই কেন্দ্রে রয়েছে। কারণ, যদি তিনি নাগরিক হন, তাহলে রাষ্ট্রপক্ষের ‘নাগরিকত্ব ত্যাগ’ দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হবে; আর যদি তিনি নিজেই প্রক্রিয়ায় না আসেন, তাহলে ‘নাগরিকত্ব স্বেচ্ছায় অস্বীকার’ বোঝাতে ব্যবহার করা হবে। এই দ্বৈত সংকটই বিএনপিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।”

✅ উপসংহার:

বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা একটি সময়োপযোগী, সংবিধানসম্মত উদ্যোগ। কিন্তু তারেক রহমানের বিতর্কিত নাগরিকতা পরিস্থিতিকে ঘিরে বিএনপির আপত্তি এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে ফেলেছে।
এখন প্রশ্ন—ভোটাধিকার রক্ষা বড়, না রাজনৈতিক নেতৃত্ব রক্ষাই মুখ্য?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]

*যুদ্ধ-না-শান্তি : এক ফিল্ড মার্শালের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে সারাবিশ্ব* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* *১. অস্থিরতার প্রেক্ষাপট— এক অগ্নিগোলকের পৃথিবী*: সময়ের এই অধ্যায়ে পৃথিবী যেন আগ্নেয়গিরির কিনারায় দাঁড়িয়ে— যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র, প্রতিটি জোট, প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি সম্ভাব্য বিস্ফোরণের পূর্বাভাস বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র-এর কৌশলগত আধিপত্য, ইসরায়েল-এর নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক অবস্থান, ইরান-এর প্রতিরোধী মনোভাব— সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক জটিল দ্বন্দ্বের গোলকধাঁধায় বন্দি। এই অস্থির সময়েই বিশ্বমানবতার দৃষ্টি গিয়ে থামে এক ব্যক্তির উপর— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। *২. একজন মানুষের উত্থান*: সেনাপ্রধান থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির— নামটি এখন শুধু একটি দেশের সামরিক নেতৃত্বের প্রতীক নয়, বরং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তান-এর সেনাপ্রধান হয়েও তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অদৃশ্য সেতু— যেখানে বিরোধী শক্তিগুলো অন্তত কথোপকথনের টেবিলে বসতে রাজি হয়। *৩. ব্যর্থতার ভেতর সম্ভাবনার বীজ*: গত ১১–১২ এপ্রিলের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে— এটি নিঃসন্দেহে বাস্তবতা। কিন্তু এই ব্যর্থতা কি শেষ? নাকি এটি একটি বৃহত্তর সফলতার প্রস্তুতি? বিশ্লেষণ বলছে— এই প্রথম দফার আলোচনা ছিল অবস্থান যাচাইয়ের মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র তার সীমা দেখিয়েছে, ইরান তার শর্ত স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা-রেখা টেনে দিয়েছে। আর এই সবকিছুই ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল তৈরির উপাদান হয়ে উঠেছে। *৪. কূটনৈতিক কৌশল– যুক্তির ছুরিতে শর্তের অবসান* তার সবচেয়ে বড় শক্তি— তিনি চাপ প্রয়োগ করেন না, তিনি পরিস্থিতিকে এমনভাবে সাজান, যাতে প্রতিপক্ষ নিজের অবস্থান থেকেই নরম হতে বাধ্য হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য— এই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সাথে তার সমঝোতা তৈরি করছে একটি সমর্থন কাঠামো। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া— তাদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তাকে দিয়েছে কৌশলগত গভীরতা। এই বহুমাত্রিক কূটনীতি তার প্রচেষ্টাকে করেছে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। ৫. সম্ভাবনার দিগন্ত: কেন সফল হতে পারেন? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কি সত্যিই সফল হতে পারেন? বিশ্লেষণে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে— (১) *নিরপেক্ষতার সুবিধা*: পাকিস্তান সরাসরি এই সংঘাতের মূল পক্ষ নয়, তাই তার মধ্যস্থতা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য। (২) *বহুমুখী সম্পর্ক*: পূর্ব ও পশ্চিম—দুই ব্লকের সাথেই যোগাযোগ রক্ষা করার সক্ষমতা তাকে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। (৩) *সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য*: তিনি শুধু কূটনীতিক নন, একজন সামরিক কৌশলবিদও— যা তাকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। (৪) *ব্যর্থতা থেকে শেখার সক্ষমতা*: প্রথম দফার ব্যর্থতা তাকে দুর্বল করেনি, বরং আরও প্রস্তুত করেছে। *৬. ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা*: পথ এত সহজ নয়; তবে বাস্তবতা কঠিন— যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক প্রভাব ছাড়তে চাইবে না, ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া আপস করবে না, ইসরায়েল অস্তিত্বের প্রশ্নে আপসহীন। এই ত্রিমুখী জটিলতা যেকোনো উদ্যোগকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে। *৭. বিশ্বমানবতার প্রত্যাশা ও শেষ আশ্রয়* আজ পৃথিবী এক অদ্ভুত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে— যেখানে একটি মানুষের প্রচেষ্টাকে “শেষ আশার আলো” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সফল হলে— একটি নতুন শান্তির অধ্যায় শুরু হতে পারে। ব্যর্থ হলে— পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনা আর কল্পনা থাকবে না, তা হয়ে উঠতে পারে নির্মম বাস্তবতা। *৮. বিশ্ববর্বতার ধ্বংসস্তুপে একটি মানুষ দাঁড়িয়ে* ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো সবসময় সহজ মানুষের কাছে আসে না— এসে পড়ে সেই মানুষের কাঁধে, যিনি তা বহন করতে সক্ষম। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন সেই অবস্থানে— যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই আজ যেন পৃথিবী অপেক্ষা করছে, পারমাণবিক অস্ত্রের বীভিষিকায় কী সব ধ্বংস হয়ে যাবে, নাকি পৃথিবী শান্তির পথে হাঁটবে? শান্তি অন্বেষার সেই প্রশ্নের সমাধানে ভার নিজের কাঁধে নিয়ে সাঁতারি যাচ্ছেন, বিপদগ্রস্ত মানুষের এক ত্রাণকর্তা, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শান্তির নিশান তাঁর হাতেই হয়তো পতপত করে উড়ার অপেক্ষায় আছে, আর অপেক্ষায় আছে বিশ্বের তাবৎ প্রাণীকুল ও মানবতা…