মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ভূমি মন্ত্রণালয়ের পিয়ন হারুনের ‘শতকোটি টাকার সাম্রাজ্য’ নিজস্ব প্রতিবেদন মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

মিঠামইনে ভিজিডি চাল বিতরণে দুর্নীতি: ইউপি সচিব ও প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা

সংবাদদাতা / ১২০ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজর ইউনিয়নে হতদরিদ্র নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডি (VGD) চাল বিতরণে ঘুষ গ্রহণ ও আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর আওতায় মামলা হয়েছে।

গত ২০ জুন স্থানীয় সমাজসেবী আখিনুর আক্তার থানায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইউপি সচিব মো. আলমগীর হোসেন ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ওসমান হোসেন প্রত্যেক ভিজিডি কার্ডধারীর কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে ঘুষ দাবি করেন। যারা টাকা দিতে পারেননি, তাদের চাল দেওয়া হয়নি।

একজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা হারিছ মিয়া জানান, “ইউপি সচিব বলেছেন—টাকা দিলে চাল পাবে, না দিলে নয়।”
মামলার বাদী আখিনুর আক্তার অভিযোগ করেন, “চাল না দেওয়ার পাশাপাশি তারা প্রতিবাদকারীদের হয়রানি করেছে এবং সরকারের চাল আত্মসাৎ করতে চেয়েছে। সচিব আলমগীর হোসেন দুর্নীতির টাকায় কিশোরগঞ্জ শহরের শোলাকিয়া বনানী মোড়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন।”

এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য নিতে তাঁর কার্যালয়ে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিব বর্তমানে জেল হাজতে থাকায় তাঁদের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, সচিব আলমগীর হোসেন পরিষদের বিভিন্ন সেবা—যেমন জন্মনিবন্ধন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা প্রাপ্তিতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে গরীব সেবাপ্রার্থীদের পরিষদের ভেতরে অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে মারধর ও মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানায় এলাকাবাসী।

স্থানীয় সমাজসেবক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, “এই সচিব ও প্যানেল চেয়ারম্যানের অত্যাচারে আমরা এলাকাবাসী অত্যন্ত ভীত। প্রতিদিন ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে জীবনযাপন করছি। তাদের প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।”

এদিকে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য সাজু বেগমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। আরশি বেগম নামের এক ভুক্তভোগী জানান, “ভিজিডি চাল পাওয়ার জন্য আমার কাছে ১,০০০ টাকা দাবি করেন সাজু বেগম। আমার ভোটার আইডি কার্ড চেয়েছেন এবং বারবার বাড়িতে এসে টাকা চেয়েছেন। আমি গরীব মানুষ, টাকা না দিতে পারায় আমাকে চাল দেওয়া হয়নি।”

এক সপ্তাহ পার হলেও এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি—দুর্নীতিতে জড়িত সকল ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]