শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমার সদস্য পদে পদত্যাগের ঘোষণা আমরা গ্রহণযোগ্য মনে করি না।
সম্প্রতি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা দুঃখজনক হলেও এর দায় এককভাবে সর্বমিত্র চাকমার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়সংগত নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান নিরাপত্তাহীনতা, বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা—এই সামগ্রিক বাস্তবতার মধ্যেই ঘটনাটি ঘটেছে। একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা নিতে চেয়েছিলেন, তার উদ্দেশ্যকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা যায় না।
আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ব্যবহৃত পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা হতে পারে, কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর হওয়া উচিত প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা, তদন্ত ও সংশোধনী উদ্যোগ—পদত্যাগ নয়। পদত্যাগের মাধ্যমে মূল সমস্যাগুলো আড়াল হয়ে যাবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোগত ব্যর্থতার দায় একজন প্রতিনিধির কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হবে, যা অনভিপ্রেত ও অন্যায়।
গণতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতিতে ভুলের জবাব পদত্যাগ নয়, বরং জবাবদিহি, আত্মসমালোচনা এবং সংস্কারের মধ্য দিয়েই দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। সর্বমিত্র চাকমা ইতোমধ্যে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে তার পদত্যাগ দাবি বা পদত্যাগের ঘোষণা গ্রহণ করা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
আমরা স্পষ্টভাবে দাবি জানাচ্ছি—
১. সর্বমিত্র চাকমার পদত্যাগের ঘোষণা প্রত্যাহার ও পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
২. ক্যাম্পাসে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ও দায়বদ্ধ ভূমিকা নিতে হবে।
৩. ব্যক্তিকে নয়, সমস্যাকে কেন্দ্র করে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
গঠনমূলক সমালোচনা ও ন্যায্য মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক পরিবেশ শক্তিশালী হতে পারে—এই বিশ্বাস থেকেই আমরা সর্বমিত্র চাকমার পদত্যাগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি।
বিবৃতি দাতা:
অধ্যাপক এম এ বার্ণিক
সভাপতি
জ্ঞানভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন