শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত যুবদল নেতা ফয়েজ মোল্লার, ঢামেকে খোঁজ নিলেন ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন এমপি বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল একুশে টিভি’র ২৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা In Reverence and Remembrance ‘Abdul Hye—Professor M A Barnik

স্পর্শকাতর ওয়ারেন্ট ইস্যু ও রাষ্ট্রের করণীয় —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৮৫ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

১. স্পর্শকাতর ওয়ারেন্ট ইস্যু :

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক ও একইসাথে জটিল পদক্ষেপ নিয়েছে। শেখ হাসিনা সহ ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জন সামরিক অফিসার—যার মধ্যে ৯ জন অবসরপ্রাপ্ত এবং ৭ জন বর্তমান দায়িত্বে নিয়োজিত অফিসার। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার সার্ভিং সিনিয়র অফিসারদের বিরুদ্ধে এমন ওয়ারেন্ট জারি হলো।

২. অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট :

সেনাপ্রধান চেষ্টা করেছিলেন, সশস্ত্র বাহিনীর নিজস্ব আইনের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায় কিনা। কিন্তু আইনি কাঠামোর জটিলতা এবং ট্রাইবুনালের রায়ের বাধ্যবাধকতা সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে, নিয়ম মেনে বর্তমান সার্ভিং অফিসারদের নিরস্ত্র করে পুলিশি হেফাজতে তুলে দিতে হবে। এটি নিঃসন্দেহে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং সরকারের জন্য একটি স্পর্শকাতর পরিস্থিতি।

৩. সম্ভাব্য ঝুঁকি :

রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা: সেনা ও পুলিশের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

(১)রাজনৈতিক অস্থিরতা: ফ্যাসিস্ট প্রবণতার পুরোনো অভিযুক্ত শেখ হাসিনা ও তার দেশি-বিদেশি সহযোগীরা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে নেমে পড়তে পারে।

(২)বিদেশি হস্তক্ষেপ: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সামরিক-রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আন্তর্জাতিক মহল প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে।

(৩) ভেতরের চক্রান্ত: যেকোনো বিদ্রোহী প্রবণতা বা অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

৪. সরকারের করণীয় :

(১) আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কঠোর অবস্থান:
ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে হবে ট্রাইবুনালের নির্দেশ মেনে—এতে সরকারের আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শিত হবে।

(২) সেনা-পুলিশ সমন্বয়:
সেনা অফিসারদের পুলিশি হেফাজতে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে আস্থা ও সমন্বয় রক্ষা করা জরুরি। এ জন্য একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে।

(3) জাতীয় নিরাপত্তা নজরদারি জোরদার:
যেকোনো নাশকতা, ষড়যন্ত্র বা হঠাৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে।

 

৫. অভ্যন্তরীণ সংলাপ ও শৃঙ্খলা রক্ষা:
সেনা অফিসারদের পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গে সুসংলাপ বজায় রেখে বোঝাতে হবে এটি ব্যক্তিগত নয়, বরং আইনের শাসনের প্রয়োগ।

৬. জনগণের আস্থা অর্জন:

রাষ্ট্রকে জনগণের সামনে ব্যাখ্যা করতে হবে—এই ওয়ারেন্ট আইন, বিচার ও মানবতার পক্ষে; কোনো প্রতিহিংসার হাতিয়ার নয়।

৭. আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ব্রিফিং:
বিদেশি শক্তিগুলোকে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে যে এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া, বাইরের কোনো চাপের ফল নয়। এতে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

৮. ওয়ারেন্ট কার্যকর করার উপায় :

বাংলাদেশ আজ এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে। ওয়ারেন্ট কার্যকরের এ ঘটনা রাষ্ট্রের জন্য একদিকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সুযোগ, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার বড় পরীক্ষা। শেখ হাসিনা ও তার বিদেশি দোসররা এ সময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করবে—কিন্তু শক্ত হাতে, আইনানুগ পথে, সেনা-পুলিশ-জনতার ঐক্য বজায় রেখে সরকার এগোতে পারলে এই ঝড় মোকাবিলা করা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]