শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে পাম্পে ড্রামে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারণ,সাংবাদিককে মারধর করলো পুলিশ! উক্ত পুলিশ ক্লোজ! *ফিল্ড মার্শালের ইটে-ইটে গড়া শান্তির দেয়াল* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ–ভারত মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে উচ্চপর্যায়ের ডি-এস্কেলেশন চ্যানেল সক্রিয় করা বাঞ্ছনীয় —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৩৭ বার ভিউ
সময়ঃ শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন

১. সম্পর্কের অবনতির কারণ :

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বয়ান, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রবাহের কারণে সম্পর্কের কিছু স্তরে অস্বস্তি ও উত্তাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে পর্যবেপক্ষমহল মনে করেন যে, দুই প্রতিবেশী দেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ও দায়িত্বশীল পথ হলো উচ্চপর্যায়ের ডি-এস্কেলেশন চ্যানেল সক্রিয় করা।

২. ডি-এস্কেলেশন চ্যানেল কী ও কেন কার্যকর :

ডি-এস্কেলেশন চ্যানেল বলতে বোঝায়—প্রকাশ্য বিবৃতি ও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বিবাদের বাইরে, বিশ্বাসভিত্তিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা, যেখানে খোলামেলা আলোচনা সম্ভব।

এই চ্যানেলের বৈশিষ্ট্য:

নীরব (Quiet Diplomacy)

ব্যক্তিগত আস্থাভিত্তিক

সময়সংবেদনশীল ও নমনীয়

মিডিয়া-চাপমুক্ত

বিশেষত প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে এটি উত্তেজনা প্রশমনের পরীক্ষিত কৌশল।

৩. বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে ডি-এস্কেলেশন চ্যানেল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কয়েকটি কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
(১) কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা প্রশ্ন:
দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। প্রকাশ্য চাপ নয়, বরং উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনাই দ্রুত ফল দিতে পারে।

(২) রাষ্ট্র বনাম রাজনৈতিক বয়ান পৃথক করা:
ব্যক্তিবিশেষ বা দলীয় ইস্যু রাষ্ট্রীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেললে তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। নীরব আলোচনায় এই সীমারেখা স্পষ্ট করা সহজ।

(৪) ভুল বার্তা ও অপপ্রচারের সংশোধন :
উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগে সরাসরি অবস্থান ব্যাখ্যা করলে তৃতীয় পক্ষের বিভ্রান্তি কমে।

(৫). অপ্রয়োজনীয় জনমত সংঘাত এড়ানো:
প্রকাশ্য কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ দুই দেশের জনমনে নেতিবাচক আবেগ সৃষ্টি করে, যা নিয়ন্ত্রণ কঠিন।

 

৪. ডি-এস্কেলেশন চ্যানেলের সম্ভাব্য কাঠামো:

উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর হতে পারে এমন কয়েকটি স্তর:

(১)পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ

(২) বিশেষ দূত বা ট্র্যাক–১.৫ কূটনীতি

(৩) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের সীমিত আলোচনা

(৪) দূতাবাস–পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হটলাইন

*উপরে বর্ণিত কাঠামো একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে।*

৬. সফল ডি-এস্কেলেশনের পূর্বশর্ত :

ডি-এস্কেলেশন কার্যকর করতে হলে—

(১)উভয় পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা

(২) মিডিয়া ব্যবস্থাপনায় সংযম

(৩)উসকানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকা

(৪)আলোচনার গোপনীয়তা রক্ষা
অপরিহার্য।

৭. দায়িত্বশীল ও কৌশলগত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত :

বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক উত্তেজনার নয়, সহযোগিতার ইতিহাস বহন করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শক্ত অবস্থান ও সংযম—এই দুইয়ের ভারসাম্যই কূটনৈতিক সাফল্যের চাবিকাঠি। উচ্চপর্যায়ের ডি-এস্কেলেশন চ্যানেল সক্রিয় করা তাই কোনো দুর্বলতা নয়; বরং এটি একটি পরিণত, দায়িত্বশীল ও কৌশলগত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত।

সময়মতো নীরব কূটনীতি উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখলে সম্পর্কের গভীরে জমে থাকা সহযোগিতার সম্ভাবনাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]