শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন মাগুরায় ৭ ভুয়া সিআইডি সদস্য আটক, নারী অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ! Bangladesh: Emerging as a Key Strategic Nexus in the Defence Relations of India, China and the Middle East- Professor M. A. Barnik* বাংলাদেশ : ভারত-চীন-মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হচ্ছে* *–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

*প্রশাসনে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা না-করে, আকস্মিক ভিজিট অর্থহীন* — অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৩৭ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন

*১. ঘটনার প্রতীকী তাৎপর্য*:,

৪ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯টা—সরকারি অফিস শুরুর নির্ধারিত সময়।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নারায়ণগঞ্জের একটি ভূমি অফিসে আকস্মিক ভিজিটে গিয়ে দেখেন, অফিস তালাবদ্ধ। এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর পিয়ন এসে দরজা খোলে; এরপর ধীরে ধীরে কর্মচারীরা উপস্থিত হন।
এই দৃশ্য প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার একটি প্রতীকী চিত্র।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—একজন মন্ত্রীর আকস্মিক উপস্থিতি কি দীর্ঘমেয়াদে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারে?

*২. আকস্মিক ভিজিট : প্রতিকার নয়, সংকেত মাত্র*:
মন্ত্রীর হঠাৎ পরিদর্শন একটি সতর্কবার্তা হতে পারে।
কিন্তু এটি কাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।
কারণ—
ভিজিটের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাময়িক সতর্কতা আসে।
কয়েকদিন সময়ানুবর্তিতা দেখা যায়।
পরে আবার পুরনো অভ্যাস ফিরে আসে।
অর্থাৎ, এটি “ভয়-ভিত্তিক শৃঙ্খলা”, যা টেকসই নয়।
টেকসই শৃঙ্খলা আসে প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি ও জবাবদিহি থেকে।

*৩. গোয়েন্দা সংস্থার সক্রিয় নজরদারি কেন জরুরি*:
বাংলাদেশে একাধিক গোয়েন্দা ও তদারকি সংস্থা রয়েছে। যেমন—
Directorate General of Forces Intelligence,
National Security Intelligence,
Criminal Investigation Department, ইত্যাদি।
এদের ভূমিকা কেবল জাতীয় নিরাপত্তা নয়; প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের অংশ।
যদি নিয়মিতভাবে—
অফিস উপস্থিতি
জনসেবা প্রদানের গতি
ঘুষ ও দালাল চক্র
সময়ানুবর্তিতা
এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছায়, তবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বহীনতা কমে আসে।
চেইন অব কমাণ্ড কার্যকর হয় তখনই, যখন অধস্তন কর্মকর্তা জানেন—
“আমার কাজ নীরবে পর্যবেক্ষিত হচ্ছে, এবং রিপোর্ট সরাসরি ঊর্ধ্বতনে যাচ্ছে।”

*৪. প্রতিনিধিত্বশীল সাংবাদিকতা: ক্ষমতার নয়, জনগণের মুখপত্র*:
বর্তমানে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর কর্মতৎপরতা—শনিবার অফিস করা, সময়ানুবর্তিতা ইত্যাদি—গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে।
ব্যক্তিগত কর্মনিষ্ঠা অবশ্যই ইতিবাচক।
কিন্তু প্রতিনিধিত্বশীল সাংবাদিকতা মানে হলো—
ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কী হচ্ছে,
উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার সময়মতো আসছেন কি না,
শিক্ষা অফিসে ফাইল আটকে আছে কেন,
সাধারণ মানুষ কতটা হয়রানির শিকার ইত্যাদি খুঁজে বের করে প্রচার।
গণমাধ্যম যদি কেবল ক্ষমতার প্রতীকী দৃশ্য প্রচার করে, তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা আড়াল হয়।
প্রতিনিধিত্বশীল সাংবাদিকতা হবে—
অনুসন্ধানী, দলনিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক, নাগরিককেন্দ্র হিসেবে কাজ করা। তখনই গণমাধ্যম হবে, প্রশাসনিক শৃঙ্খলার এক শক্তিশালী অনানুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রক।

*৫. কাঠামোগত সংস্কার: তিন স্তম্ভের সমন্বয়*
প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরাতে প্রয়োজন তিনটি সমন্বিত শক্তি—
(১). রাজনৈতিক সদিচ্ছা
নীতিনির্ধারণ ও কঠোর নির্দেশনা।
(২). গোয়েন্দা নজরদারি
নিয়মিত, গোপন ও তথ্যভিত্তিক রিপোর্টিং।
(৩). স্বাধীন ও প্রতিনিধিত্বশীল গণমাধ্যমের মাধ্যমে
মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা তুলে ধরা এবং জনমত তৈরি।
এই তিন স্তম্ভ একত্রে কাজ করলে তবেই চেইন অব কমাণ্ড শক্তিশালী হবে।

*৬. বাস্তব করণীয়*:
(১). সকল সরকারি অফিসে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংযুক্ত করা।
(২). মাসিক গোপন মূল্যায়ন রিপোর্ট গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রস্তুত করা।
(৩). কর্মদক্ষতা-ভিত্তিক পদোন্নতি।
(৪). অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
(৫). দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রকাশ্য ঘোষণা।

*৭. প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা জরুরি*:
নারায়ণগঞ্জের একটি ভূমি অফিসের তালাবদ্ধ দরজা কেবল অব্যবস্থাপনার গল্প নয়—এটি প্রশাসনিক চেইন অব কমাণ্ডের দুর্বলতার প্রতীক।
মন্ত্রীর আকস্মিক ভিজিট সতর্কবার্তা হতে পারে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান নয়।
স্থায়ী সমাধান আসবে—
কার্যকর গোয়েন্দা নজরদারি,
প্রতিনিধিত্বশীল সাংবাদিকতা,
এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির মাধ্যমে।
রাষ্ট্রের শক্তি তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন মাঠপর্যায়ের প্রতিটি অফিস সময়মতো খুলবে—ভয় থেকে নয়, দায়িত্ববোধ থেকে। প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা ব্যতীত মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রীর আকর্ষিক ভিজিট অর্থহীন প্রয়াস ছাড়া কিছুই নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]