মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিজয়ে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাজউক কর্মকর্তা গ্রেফতার: নারী সাংবাদিক হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় জামায়াতের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত Without Classrooms, Education Remains Incomplete* *—-Professor M A Barnik শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে প্রকৃত মানুষ তৈরি অসম্ভব* *—–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* A Voice of Principle in Parliament Barrister Nowshad Zamir—Professor M. A. Barnik ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা –অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

রাজউক কর্মকর্তা গ্রেফতার: নারী সাংবাদিক হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা

সংবাদদাতা / ৫১ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক |

বিল্লাল হোসেন পাটোয়ারী বাহারঃ

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর উত্তরা ২/২ জোনের ইমারত পরিদর্শক অর্পি রুবেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নারী সাংবাদিককে হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা পূর্ব থানা সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত কর্মকর্তা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
মামলার সূত্র ও অভিযোগ
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার জোয়ার সাহারা মৌজায় অনুমোদিত নকশা অমান্য করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে ২০২৩ সালের ২০ মার্চ প্রথম নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২ মে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং ২৬ জুলাই চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও ভবন মালিক কোনো জবাব দেননি।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভবনটি নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মাণ সম্পন্ন হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ঘটনার সূত্রপাত
২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে “১০ লাখ টাকা মৌখিক চুক্তি” শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রতিবেদনে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
পরদিন সংশ্লিষ্ট ভবনের বিরুদ্ধে তাগিদপত্র জারি করা হলেও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সমালোচনা আরও জোরালো হয়।
সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ
পরবর্তীতে ২৩ অক্টোবর সকালে ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিক সহকর্মী ইসরাত জাহান রুপা ও সোনিয়া আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে রাজউকের উত্তরা জোনাল অফিসে ফলোআপ প্রতিবেদনের কাজে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে ইমারত পরিদর্শক অর্পি রুবেল তাদের বাধা দেন এবং একপর্যায়ে উত্তেজিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ফোন করে কয়েকজনকে ডেকে এনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। সহকর্মীদের সরিয়ে দিয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিককে মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে।
আইনি প্রক্রিয়া
ঘটনার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ১০ ও ৩০ ধারায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এ মামলা দায়ের করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় পরে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়। পুনঃতদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
মামলার বাদী সাংবাদিক বলেন,
“আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছি। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর রাজউকের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।
উঠছে নতুন প্রশ্ন
নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিষয়ে একাধিক নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও কেন সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]