বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
ভাষা-আন্দোলনের শেকড়সন্ধানী গবেষক এম. আর. মাহবুবের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী  ঈদগাঁওয়ে শিবিররের উদ্যোগে পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ঈদগাঁওয়ে শিশু ধর্ষনের অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর গ্রেফতার সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও, কক্সবাজার। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চরমোনাইতে উচ্ছেদ অভিযান, এসিল্যান্ডকে লিগ্যাল নোটিশ লাকসামে এসএসসি পরীক্ষার্থী- অভিভাবকদের পানি ও স্যালাইন দিল ছাত্রদল ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর  উপহার সামগ্রী বিতরণ সোনারগাঁয়ে এসএসসি কেন্দ্রে পুরাতন প্রশ্নে পরীক্ষা, পরে নতুন প্রশ্নে পুনরায় আয়োজন Nomination of a Banned League’s Environment Secretary as BNP MP—Strategy or Illusion*… *—Professor M A Barnik নিষিদ্ধ লীগের পরিবেশ সম্পদককে বিএনপির এমপি মনোনয়ন—কৌশল নাকি ভ্রান্তিবিলাস* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরায় বরিশাট ঈদগাহ উন্নয়ন কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত

নিষিদ্ধ লীগের পরিবেশ সম্পদককে বিএনপির এমপি মনোনয়ন—কৌশল নাকি ভ্রান্তিবিলাস* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৪ বার ভিউ
সময়ঃ বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন

১. কাশিয়ানির সুবর্ণাকে ঘিরে প্রশ্নের ঝড়*:

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বিস্ময়কর ও বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে কাশিয়ানি উপজেলার একটি সিদ্ধান্ত। নিষিদ্ধ ঘোষিত দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর স্থানীয় নেত্রী সুবর্ণা সিকদার—যিনি উপজেলা পর্যায়ের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে পরিচিত—তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী কোটায় মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

*২. ঘটনাটির তাৎপর্য: রাজনৈতিক বাস্তবতা বনাম আদর্শিক অবস্থান*:
একদিকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত—অর্থাৎ রাষ্ট্রীয়ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ প্রশ্নবিদ্ধ; অন্যদিকে সেই দলের সক্রিয় একজন নেত্রীকে বিএনপির মতো একটি প্রধান বিরোধী দল মনোনয়ন দিচ্ছে—এটি আদর্শিক অবস্থানের সরাসরি বিরোধিতা বলে মনে করছেন অনেকেই।
এই ঘটনায় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে যে বিস্ময় ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা কেবল আবেগপ্রসূত নয়; বরং এটি দলের অভ্যন্তরীণ নীতিগত সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

*৩. কেন এমন সিদ্ধান্ত*:
এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কৌশল বা বাস্তবতা কাজ করতে পারে:
( ১) *কৌশলগত পুনর্বিন্যাস* (Strategic Realignment):
বিএনপি হয়তো স্থানীয় রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সঙ্গে রাখার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেক সময় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা বৃহত্তর রাজনৈতিক লাভের অংশ হতে পারে।
(২) *ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি বনাম দলীয় পরিচয়*:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তির প্রভাব অনেক সময় বড় হয়ে দাঁড়ায়। সুবর্ণা সিকদার যদি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হন, তবে তাকে ব্যবহার করার চেষ্টা হতে পারে।
(৩) *অভ্যন্তরীণ বিভাজন বা তথ্যগত ঘাটতি*:
এটিও সম্ভব যে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি—যা একটি সাংগঠনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

*৪. রাজনৈতিক ঝুঁকি*: বিএনপির জন্য কী বার্তা বহন করছে?
এই সিদ্ধান্ত বিএনপির জন্য কয়েকটি গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—
(১) *বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট*: নিষিদ্ধ দলের নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে দলের আদর্শিক অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
তৃণমূল অসন্তোষ: স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হতাশা বাড়তে পারে।

(২) *প্রতিপক্ষের প্রচারণার সুযোগ*: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এটি ব্যবহার করে বিএনপিকে দ্বিচারিতা বা সুযোগসন্ধানী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

*৫. আদর্শিক রাজনীতির সংকট*:
এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় বাস্তবতা তুলে ধরে—আদর্শিক রাজনীতি ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে, আর তার জায়গা নিচ্ছে বাস্তববাদী বা সুযোগসন্ধানী রাজনীতি। দলীয় নিষেধাজ্ঞা, নৈতিক অবস্থান—এসব অনেক সময় কৌশলগত প্রয়োজনের কাছে পরাজিত হচ্ছে।

*৬. সঠিক জবাবের অপেক্ষা*:
কাশিয়ানির এই ঘটনা শুধু একটি স্থানীয় মনোনয়ন বিতর্ক নয়; এটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংকেত। প্রশ্ন থেকে যায়—
বিএনপি কি তাদের আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে আসছে?
নাকি এটি একটি বিচ্ছিন্ন কৌশলগত সিদ্ধান্ত?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নির্ভর করছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপর। অন্যথায়, এমন সিদ্ধান্তগুলো রাজনৈতিক আস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে।

*৭ বিএনপির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা*:
রাজনীতি শুধু ক্ষমতার খেলা নয়; এটি বিশ্বাস, আদর্শ ও দায়বদ্ধতার সমন্বয়। সেই জায়গায় যদি অস্পষ্টতা তৈরি হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


*যুদ্ধ-না-শান্তি : এক ফিল্ড মার্শালের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে সারাবিশ্ব* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* *১. অস্থিরতার প্রেক্ষাপট— এক অগ্নিগোলকের পৃথিবী*: সময়ের এই অধ্যায়ে পৃথিবী যেন আগ্নেয়গিরির কিনারায় দাঁড়িয়ে— যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র, প্রতিটি জোট, প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি সম্ভাব্য বিস্ফোরণের পূর্বাভাস বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র-এর কৌশলগত আধিপত্য, ইসরায়েল-এর নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক অবস্থান, ইরান-এর প্রতিরোধী মনোভাব— সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক জটিল দ্বন্দ্বের গোলকধাঁধায় বন্দি। এই অস্থির সময়েই বিশ্বমানবতার দৃষ্টি গিয়ে থামে এক ব্যক্তির উপর— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। *২. একজন মানুষের উত্থান*: সেনাপ্রধান থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির— নামটি এখন শুধু একটি দেশের সামরিক নেতৃত্বের প্রতীক নয়, বরং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তান-এর সেনাপ্রধান হয়েও তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অদৃশ্য সেতু— যেখানে বিরোধী শক্তিগুলো অন্তত কথোপকথনের টেবিলে বসতে রাজি হয়। *৩. ব্যর্থতার ভেতর সম্ভাবনার বীজ*: গত ১১–১২ এপ্রিলের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে— এটি নিঃসন্দেহে বাস্তবতা। কিন্তু এই ব্যর্থতা কি শেষ? নাকি এটি একটি বৃহত্তর সফলতার প্রস্তুতি? বিশ্লেষণ বলছে— এই প্রথম দফার আলোচনা ছিল অবস্থান যাচাইয়ের মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র তার সীমা দেখিয়েছে, ইরান তার শর্ত স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা-রেখা টেনে দিয়েছে। আর এই সবকিছুই ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল তৈরির উপাদান হয়ে উঠেছে। *৪. কূটনৈতিক কৌশল– যুক্তির ছুরিতে শর্তের অবসান* তার সবচেয়ে বড় শক্তি— তিনি চাপ প্রয়োগ করেন না, তিনি পরিস্থিতিকে এমনভাবে সাজান, যাতে প্রতিপক্ষ নিজের অবস্থান থেকেই নরম হতে বাধ্য হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য— এই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সাথে তার সমঝোতা তৈরি করছে একটি সমর্থন কাঠামো। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া— তাদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তাকে দিয়েছে কৌশলগত গভীরতা। এই বহুমাত্রিক কূটনীতি তার প্রচেষ্টাকে করেছে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। ৫. সম্ভাবনার দিগন্ত: কেন সফল হতে পারেন? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কি সত্যিই সফল হতে পারেন? বিশ্লেষণে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে— (১) *নিরপেক্ষতার সুবিধা*: পাকিস্তান সরাসরি এই সংঘাতের মূল পক্ষ নয়, তাই তার মধ্যস্থতা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য। (২) *বহুমুখী সম্পর্ক*: পূর্ব ও পশ্চিম—দুই ব্লকের সাথেই যোগাযোগ রক্ষা করার সক্ষমতা তাকে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। (৩) *সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য*: তিনি শুধু কূটনীতিক নন, একজন সামরিক কৌশলবিদও— যা তাকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। (৪) *ব্যর্থতা থেকে শেখার সক্ষমতা*: প্রথম দফার ব্যর্থতা তাকে দুর্বল করেনি, বরং আরও প্রস্তুত করেছে। *৬. ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা*: পথ এত সহজ নয়; তবে বাস্তবতা কঠিন— যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক প্রভাব ছাড়তে চাইবে না, ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া আপস করবে না, ইসরায়েল অস্তিত্বের প্রশ্নে আপসহীন। এই ত্রিমুখী জটিলতা যেকোনো উদ্যোগকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে। *৭. বিশ্বমানবতার প্রত্যাশা ও শেষ আশ্রয়* আজ পৃথিবী এক অদ্ভুত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে— যেখানে একটি মানুষের প্রচেষ্টাকে “শেষ আশার আলো” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সফল হলে— একটি নতুন শান্তির অধ্যায় শুরু হতে পারে। ব্যর্থ হলে— পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনা আর কল্পনা থাকবে না, তা হয়ে উঠতে পারে নির্মম বাস্তবতা। *৮. বিশ্ববর্বতার ধ্বংসস্তুপে একটি মানুষ দাঁড়িয়ে* ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো সবসময় সহজ মানুষের কাছে আসে না— এসে পড়ে সেই মানুষের কাঁধে, যিনি তা বহন করতে সক্ষম। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন সেই অবস্থানে— যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই আজ যেন পৃথিবী অপেক্ষা করছে, পারমাণবিক অস্ত্রের বীভিষিকায় কী সব ধ্বংস হয়ে যাবে, নাকি পৃথিবী শান্তির পথে হাঁটবে? শান্তি অন্বেষার সেই প্রশ্নের সমাধানে ভার নিজের কাঁধে নিয়ে সাঁতারি যাচ্ছেন, বিপদগ্রস্ত মানুষের এক ত্রাণকর্তা, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শান্তির নিশান তাঁর হাতেই হয়তো পতপত করে উড়ার অপেক্ষায় আছে, আর অপেক্ষায় আছে বিশ্বের তাবৎ প্রাণীকুল ও মানবতা…

[prayer_time pt="on" sc="on"]