শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি-
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আঃ হানিফ হাওলাদার (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলার রাজৈর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আঃ হানিফ হাওলাদারের সঙ্গে তার প্রতিবেশী বাবুল হাওলাদারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধপূর্ণ ওই জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে আঃ হানিফ ওই জমিতে গেলে পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বাবুল হাওলাদার এবং তার দুই ছেলে রাফি ও রাজ্জাক একযোগে আঃ হানিফের ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলায় হানিফের হাতের কব্জি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
গুরুতর আহত অবস্থায় আঃ হানিফ নিজেই সকাল ৯টার দিকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য উপস্থিত হন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. নওশিন জানান, রোগীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আনা হয়। তার হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে আহত হানিফের সঙ্গে হাসপাতালে কোনো স্বজন উপস্থিত না থাকায় এবং সময়মতো উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা সম্ভব না হওয়ায় তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালেই তিনি মারা যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ শিরা-উপশিরা কেটে যাওয়াই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শামিনুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।