রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন
এম.এ মান্নান
লাকসাম-মনোহরগঞ্জ(কুমিল্লা)প্রতিনিধি
মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠছে এক বৃদ্ধকে বিরুদ্ধে।উপজেলার ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়ন পোমঁগাও দক্ষিণ পাড়া চৌকিদার বাড়ীতে ঘটনাটি ঘটেছে। গত তিনদিন আগে (মঙ্গলবার) ধর্ষণচেষ্টার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বাঁধাকৃত অভিযোগটি সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে ছড়িয়ে যাওয়ার পর থানা পুলিশের নজরে আসে।ওইদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে
অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বাঁধা না পেয়ে শিশুটির পরিবারের সদস্যদের থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন মনোহরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুনয়ন বড়ুয়া।এ বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এবং আরেকজন উপপরিদর্শক ৯৯৯–এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তখন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বাঁধা দেখিনি; জানতে পেরেছি স্থানীয়রা তাঁকে ছেড়ে দিয়েছেন। পরে আমরা শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি—তারা বলেছে এমন কিছু ঘটেনি। এ ছাড়া পুলিশ সেখানে যাওয়ায় তাদের কয়েকজন বিরক্ত প্রকাশ করেছিল। পরে আমরা তাদেরকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে চলে আসি।
২ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে শিশুটির বাবা মাসুদ বাদী হয়ে আনু মিয়ার বিরুদ্ধে মনোহরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আহমেদ।তিনি জানান অভিযুক্ত আনু মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ শনিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত আনু মিয়া (৭০) উপজেলার ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়ন সাতপুকুরিয়া জমাদ্দার বাড়ীর মৃত আবদুল গফুরের ছেলে।তবে অভিযুক্ত আনু মিয়া একই ইউনিয়ন পোমঁগাও পশ্চিম পাড়া সিকদার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে সেখানেই তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে।স্থানীয় লোকজন ও শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটির মা–বাবা ঋণের কারণে প্রায় এক মাস ধরে এলাকায় নেই। এ কারণে মেয়েটি তার চাচা ও চাচির কাছে থাকছে। ঘটনার দিন শিশুটিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে আনু মিয়া ঘরে নিয়ে যান। শিশুটির সঙ্গে থাকা আরেক শিশুকে ৫০ টাকা দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। এরপর মেয়েটিকে ধর্ষণচেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন আনু মিয়াকে আটক করেন। ওই দিন রাতে একটি বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী,এর আগেও ওই ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আনু মিয়া। স্থানীয় লকজন তাঁকে আটকের পর বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখার সময় তিনি বলেন, শিশুটি তাঁর কাছে তরকারি নিতে গিয়েছিল। শিশুটির ওপর কোনো ধরনের নির্যাতনের চেষ্টা তিনি করেননি বলেও দাবি করেন।
এম.এ মান্নান
লাকসাম মনোহরগঞ্জ
কুমিল্লা।