বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
বঙ্গোপসাগর সংলাপ: বাংলাদেশের Soft Power ও ভূরাজনৈতিক প্রাপ্তি— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক পদ্মাকরে ব্যতিক্রমী ঐক্য: ব্যক্তি স্বার্থ ভুলে এক কাতারে ৭ চেয়ারম্যান প্রার্থী Bay of Bengal Conversation: Bangladesh’s Soft Power and Geopolitical Gains* *— Professor M. A. Barnik ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে বাড়ছে আলোচনা ক্রীড়া কার্ডধারী খেলোয়াড়দের পরিবহন ও বীমা সুবিধা প্রদানে নীতিগত সিদ্ধান্ত: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দখল বাণিজ্যের ভুয়া কল রেকর্ডে ধোঁয়াশা! এডিট করে ফাঁসানোর চেষ্টা পল্লবীর আহ্বায়ক আনিসুরকে? মনোহরগঞ্জে শিশুর বাবা-মা ঋণের চাপে গ্রাম ছাড়া সেই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ আটক মাগুরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান সোনারগাঁও ক্রসিংয়ে পুলিশ সার্জেন্ট পলাশের তৎপরতায় অপহৃত দুই শিশু উদ্ধার মাগুরায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উজ্জাপন

পদ্মাকরে ব্যতিক্রমী ঐক্য: ব্যক্তি স্বার্থ ভুলে এক কাতারে ৭ চেয়ারম্যান প্রার্থী

সংবাদদাতা / ৭৮ বার ভিউ
সময়ঃ বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঝিনাইদহ

নির্বাচন মানেই যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, জয়-পরাজয়ের হিসাব আর কখনো কখনো বিভেদের দেয়াল—সেখানেই এবার যেন ভিন্ন এক বার্তা দিলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১১ নম্বর পদ্মাকর ইউনিয়নের সাত চেয়ারম্যান প্রার্থী।

ব্যক্তিগত প্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে উঠে তারা প্রকাশ করেছেন ঐক্যের প্রত্যয়। সাতজনের কেউই কাউকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন না; বরং দল যাকে যোগ্য মনে করবে, তার পক্ষেই অন্যরা একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছেন।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে অংশ নেন সহকারী অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন, আতিক মল্লিক, জাহাঙ্গীর হোসেন মিন্টু, আব্দুর রশিদ মোহন, অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম, রুহুল আমিন ও মনোয়ার হোসেন।

তাদের বক্তব্যের মূল সুর—ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, আর বিভেদের চেয়ে ঐক্য অনেক বেশি শক্তিশালী। জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতৃত্ব যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলে বাকি ছয়জন তার পাশে থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন—এমন প্রত্যয়ই উঠে এসেছে তাদের বক্তব্যে।

এ দৃশ্যকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ ও আবেগ। সাত প্রার্থীর এই ঐক্যের উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের নেতাকর্মী মাফুজুর রহমান, এস এ জি রাজলু, প্যারোড হোসেন, রোকনুজ্জামান, ইমরান হোসেন শুভ, খয়বার হোসেন, সরোয়ার মোল্লাসহ অনেকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মাঠে এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। যেখানে নিজের প্রার্থিতা ধরে রাখার পরিবর্তে অন্যকে সামনে এগিয়ে দেওয়ার মানসিকতা দেখা যায়, সেখানে এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাত প্রার্থীর এই অবস্থান শুধু একটি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ত্যাগ এবং দলীয় ঐক্যের একটি বার্তা হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

তাদের এই ঐক্যের সবচেয়ে আবেগঘন দিকটি হলো—যিনি শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পাবেন, অন্য ছয়জন তার প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে কর্মী হিসেবে পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন।

রাজনীতিতে পদ-পদবী কিংবা ব্যক্তিগত প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে যদি এমন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যের চর্চা বাড়ে, তাহলে তার ইতিবাচক প্রভাব তৃণমূল রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

পদ্মাকরের সাত প্রার্থীর এই উদ্যোগ এখন স্থানীয় রাজনীতিতে একটি প্রশ্নও সামনে এনেছে—ব্যক্তি নয়, ঐক্যকে গুরুত্ব দেওয়ার এই মানসিকতা কি আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করবে?

উত্তর হয়তো সময়ই দেবে। তবে আপাতত পদ্মাকরের রাজনীতিতে সাত প্রার্থীর একসঙ্গে দাঁড়ানোর এই দৃশ্য মানুষের মনে একটি বার্তাই দিচ্ছে—প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়; নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে, কিন্তু দলীয় ঐক্যের ঊর্ধ্বে নয়।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পদ্মাকর থেকে—ঐক্য, ত্যাগ আর পারস্পরিক শ্রদ্ধার এই গল্প তুলে ধরছে আমার প্রতিনিধি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]