বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
ডা. মো. আজিজুল হোসেন নবীনগরের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বাংলাদেশের গর্ব মাগুরায় জুলাই শহীদ দিবস ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত 35 Thermonuclear Bombs in Iran’s Possession: Russia’s Claim Sends Shockwaves Through Global Politics— Professor M. A. Barnik ব্যাংক ম্যানেজারের উপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে নবীনগরে মানববন্ধন  মাগুরার শ্রীপুরে রাস্তার বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে! ইরানের হাতে ৩৫টি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা: রাশিয়ার দাবিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভূমিকম্প—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরায় অনলাইন জুয়া চক্রের মাস্টার মাইন্ড আমিনুল গ্রেফতার! মাগুরায় কৃষি কর্মকর্তাকে ঝুলিয়ে পেটানোর হুমকি! যুবদল নেতা বহিস্কার! বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের শোক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই-(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।)

গোপালগঞ্জ নয়, সাঈদগঞ্জ — এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৯৭ বার ভিউ
সময়ঃ বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি কলঙ্কিত অধ্যায়ের নাম হলো গোপালগঞ্জ। এই এলাকা শেখ হাসিনার দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় এক অভিশপ্ত রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। এখান থেকেই রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক পক্ষপাত, সম্পদ-বণ্টনের বৈষম্য এবং নির্যাতনের রূপরেখা পরিচালিত হয়েছে।

শুধু রাজনৈতিক কেন্দ্র নয়—গোপালগঞ্জ হয়ে উঠেছিল এক ভৌগোলিক বৈষম্যের প্রতীক। সাধারণ জনগণের করের টাকায় এই জেলার জন্য নির্মিত হয়েছে একের পর এক অস্বাভাবিক উন্নয়ন প্রকল্প, যেখানে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জনগণ অবহেলিত থেকেছে। হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, সড়ক ও স্থাপনা, মেডিকেল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়—সব কিছু যেন একটি পরিবারের গৌরব বাঁচাতে একচেটিয়াভাবে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছিল।

■ হিংস্রপ্রাণীদের অভয়ারণ্য

গোপালগঞ্জ শুধু অবকাঠামোগত পক্ষপাতের জায়গা নয়, এটি হয়ে উঠেছিল সন্ত্রাস-প্ররোচিত একটি অভয়ারণ্য। শেখ হাসিনার দলের কিছু সন্ত্রাসী অনুসারী যে-কোনো মতভিন্নতা দেখলেই সহিংস হয়ে উঠত। এ এলাকা হয়ে ওঠে এমন এক ‘নিরাপদ জঙ্গল’, যেখানে ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ ছিল, এবং ক্ষমতার ছায়ায় হিংস্রতা ছিল বৈধ।

এই এলাকায় ভিন্নমতের মানুষকে সামাজিকভাবে বয়কট, শারীরিক নির্যাতন, এমনকি হত্যা পর্যন্ত করার নজির আছে। জুলাই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় এই গোপালগঞ্জেই ঘটে দেশের অন্যতম নিষ্ঠুর রাষ্ট্রীয় হামলা, যেখানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উপর চালানো হয় বুলেট ও আগুনের বর্বরতা। এই ঘটনার কেন্দ্রীয় শহিদ ছিলেন সাঈদ হোসাইন, যিনি হয়ে উঠেছেন এক প্রতীকি নাম।

■ কেন প্রয়োজন “সাঈদগঞ্জ”?

“গোপালগঞ্জ” নামটি এখন আর শুধুই একটি জেলার নাম নয়—এটি হয়ে উঠেছে বৈষম্য, দমন-পীড়ন, এবং ফ্যাসিবাদের একটি সাংস্কৃতিক প্রতীক। তাই এই নামকে পরিবর্তন করে “সাঈদগঞ্জ” ঘোষণা করা শুধু প্রতীকী নয়, এটি হলো ইতিহাস সংশোধনের এক নৈতিক দাবী।

জুলাই বিপ্লবের শহিদ সাঈদ , যিনি গোপালগঞ্জেই শহিদ নন, এখন প্রতিরোধ ও সাম্যের প্রতীক। তাঁর নামেই এই এলাকার নতুন পরিচয় হওয়া উচিত। “সাঈদগঞ্জ” নামটি হবে এক নতুন চেতনার সূচনা—যেখানে নেই কোনো পরিবারতন্ত্র, নেই পক্ষপাত, নেই শোষণ, নেই হিংসা। থাকবে শুধু গণতন্ত্রের চেতনা, সমানতার বাস্তবতা, এবং শহিদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান।

■ জুলাই চেতনায় নামান্তরের ডাক
🟥 গোপালগঞ্জ নয়, সাঈদগঞ্জ

— এম এ বার্ণিক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি কলঙ্কিত অধ্যায়ের নাম হলো গোপালগঞ্জ। এই এলাকা শেখ হাসিনার দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় এক অভিশপ্ত রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। এখান থেকেই রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক পক্ষপাত, সম্পদ-বণ্টনের বৈষম্য এবং নির্যাতনের রূপরেখা পরিচালিত হয়েছে।

শুধু রাজনৈতিক কেন্দ্র নয়—গোপালগঞ্জ হয়ে উঠেছিল এক ভৌগোলিক বৈষম্যের প্রতীক। সাধারণ জনগণের করের টাকায় এই জেলার জন্য নির্মিত হয়েছে একের পর এক অস্বাভাবিক উন্নয়ন প্রকল্প, যেখানে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জনগণ অবহেলিত থেকেছে। হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, সড়ক ও স্থাপনা, মেডিকেল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়—সব কিছু যেন একটি পরিবারের গৌরব বাঁচাতে একচেটিয়াভাবে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছিল।

■ হিংস্রপ্রাণীদের অভয়ারণ্য

গোপালগঞ্জ শুধু অবকাঠামোগত পক্ষপাতের জায়গা নয়, এটি হয়ে উঠেছিল সন্ত্রাস-প্ররোচিত একটি অভয়ারণ্য। শেখ হাসিনার দলের কিছু সন্ত্রাসী অনুসারী যে-কোনো মতভিন্নতা দেখলেই সহিংস হয়ে উঠত। এ এলাকা হয়ে ওঠে এমন এক ‘নিরাপদ জঙ্গল’, যেখানে ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ ছিল, এবং ক্ষমতার ছায়ায় হিংস্রতা ছিল বৈধ।

এই এলাকায় ভিন্নমতের মানুষকে সামাজিকভাবে বয়কট, শারীরিক নির্যাতন, এমনকি হত্যা পর্যন্ত করার নজির আছে। জুলাই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় এই গোপালগঞ্জেই ঘটে দেশের অন্যতম নিষ্ঠুর রাষ্ট্রীয় হামলা, যেখানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উপর চালানো হয় বুলেট ও আগুনের বর্বরতা। এই ঘটনার কেন্দ্রীয় শহিদ ছিলেন সাঈদ হোসাইন, যিনি হয়ে উঠেছেন এক প্রতীকি নাম।

■ কেন প্রয়োজন “সাঈদগঞ্জ”?

“গোপালগঞ্জ” নামটি এখন আর শুধুই একটি জেলার নাম নয়—এটি হয়ে উঠেছে বৈষম্য, দমন-পীড়ন, এবং ফ্যাসিবাদের একটি সাংস্কৃতিক প্রতীক। তাই এই নামকে পরিবর্তন করে “সাঈদগঞ্জ” ঘোষণা করা শুধু প্রতীকী নয়, এটি হলো ইতিহাস সংশোধনের এক নৈতিক দাবী।

জুলাই বিপ্লবের শহিদ সাঈদ , যিনি গোপালগঞ্জেই শহিদ নন, এখন প্রতিরোধ ও সাম্যের প্রতীক। তাঁর নামেই এই এলাকার নতুন পরিচয় হওয়া উচিত। “সাঈদগঞ্জ” নামটি হবে এক নতুন চেতনার সূচনা—যেখানে নেই কোনো পরিবারতন্ত্র, নেই পক্ষপাত, নেই শোষণ, নেই হিংসা। থাকবে শুধু গণতন্ত্রের চেতনা, সমানতার বাস্তবতা, এবং শহিদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান।

■ জুলাই চেতনায় নামান্তরের ডাক

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য নয়, এটি ছিল চেতনার বিপ্লব। এই বিপ্লবের প্রেরণায় এখন সময় এসেছে ইতিহাসের ভুলচ অধ্যায় সংশোধনের।
যে গোপালগঞ্জ ছিল একদলীয় গোষ্ঠীস্বার্থের প্রতীক, তা এখন “সাঈদগঞ্জ” নামে পরিচিত হওয়াই সময়ের দাবি।

এটি হবে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা, বৈষম্যের অবসান এবং বাংলাদেশকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের পথচিহ্ন।


২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য নয়, এটি ছিল চেতনার বিপ্লব। এই বিপ্লবের প্রেরণায় এখন সময় এসেছে ইতিহাসের ভুলচ অধ্যায় সংশোধনের।
যে গোপালগঞ্জ ছিল একদলীয় গোষ্ঠীস্বার্থের প্রতীক, তা এখন “সাঈদগঞ্জ” নামে পরিচিত হওয়াই সময়ের দাবি।

এটি হবে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা, বৈষম্যের অবসান এবং বাংলাদেশকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের পথচিহ্ন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]