মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন
ইব্রাহীম খলিল,
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর গ্রামের কৃতী সন্তান অধ্যাপক ডা. মো. আজিজুল হোসেন আজ শুধু বাংলাদেশের নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শিশু চিকিৎসার একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব।
নবজাতক, শিশু, কিশোর ও শিশু কিডনি রোগের বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছেন। তাঁর সাফল্যে গর্বিত নবীনগরবাসী।
সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা ডা. আজিজুল হোসেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব রফিকুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ পুত্র। মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন।
চিকিৎসা শিক্ষায় তিনি অর্জন করেছেন একাধিক সম্মানজনক ডিগ্রি ও ফেলোশিপ। এর মধ্যে রয়েছে এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), ডিসিএইচ, এমডি (শিশু), এমআরসিপিএস (গ্লাসগো), এফআরসিপি (গ্লাসগো) এবং এমএপি (আমেরিকা) ফেলো। এছাড়া তিনি শিশু নেফ্রোলজি (শিশুদের কিডনি রোগ) বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
বর্তমানে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালের শিশু নেফ্রোলজি বিভাগের ফেলো, যেখানে জটিল শিশু কিডনি রোগের চিকিৎসা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু নেফ্রোলজি বিভাগ ও শিশু বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের নতুন প্রজন্মের চিকিৎসক তৈরির পাশাপাশি তিনি প্রতিদিন অসংখ্য শিশুকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে তাঁর ৫০টিরও বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা-জীবনের বিভিন্ন অর্জন ও অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় তাঁর ওয়েবসাইট www.profazizulpediatrics.com-এ।
শুধু চিকিৎসক হিসেবেই নয়, মানবিক গুণাবলীর কারণেও তিনি নবীনগরবাসীর কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া অনেক রোগীর স্বজন জানান, কেউ যদি পরিচয় দেন যে তিনি নবীনগরের মানুষ, তাহলে ডা. আজিজুল হোসেন আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি কোনো ফি নেন না এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেন।
এক রোগীর বাবা বলেন, “স্যারকে বললাম, আমরা নবীনগর থেকে এসেছি। তিনি নিজে উঠে এসে আমাদের বসালেন, কোনো ফি নিলেন না। বরং বললেন, ‘নিজের এলাকার মানুষ আগে।’”
নিজের জন্মভূমির প্রতি তাঁর ভালোবাসা আজও অটুট। তিনি প্রায়ই বলেন, “আমি যা কিছু হয়েছি, এই মাটির কারণেই। জিনদপুরের বাতাস, নবীনগরের মানুষ আমাকে মানুষ করেছে। তাদের ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না। আমার সাধ্যমতো তাদের সেবা করে যেতে চাই।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, জিনদপুরসহ নবীনগরের অনেক দরিদ্র পরিবারের শিশুর জটিল কিডনি রোগের চিকিৎসায় তিনি বিনামূল্যে সহযোগিতা করেছেন। এ কারণেই অনেকেই তাঁকে ভালোবেসে “আমাদের ডাক্তার” বলে ডাকেন।
স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, “ডা. আজিজুল হোসেন আমাদের এলাকার অনুপ্রেরণা। তাঁকে দেখে আমাদের সন্তানরাও চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখে।” আর এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “বড় ডাক্তার তো অনেকেই হন, কিন্তু নিজের এলাকার মানুষকে এভাবে আপন করে নেন কয়জন? তিনি সত্যিই আমাদের গর্ব।”
জিনদপুরের মেঠোপথ থেকে সিঙ্গাপুরের বিশ্বমানের হাসপাতাল পর্যন্ত অধ্যাপক ডা. মো. আজিজুল হোসেনের এই পথচলা প্রমাণ করে, মেধা, অধ্যবসায় ও মানবিকতা থাকলে গ্রামের একজন মানুষও বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেন। তাঁর সাফল্য যেমন নবীনগরের গর্ব, তেমনি বাংলাদেশেরও গৌরব।