রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
War or Peace : The Entire World Looks to the Face of a Field Marshal* *—-Professor M A Barnik মাগুরায় সেলুনে আগে চুল কাটানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে! আহত-৬ *যুদ্ধ-না-শান্তি : এক ফিল্ড মার্শালের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে সারাবিশ্ব* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* *১. অস্থিরতার প্রেক্ষাপট— এক অগ্নিগোলকের পৃথিবী*: সময়ের এই অধ্যায়ে পৃথিবী যেন আগ্নেয়গিরির কিনারায় দাঁড়িয়ে— যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র, প্রতিটি জোট, প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি সম্ভাব্য বিস্ফোরণের পূর্বাভাস বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র-এর কৌশলগত আধিপত্য, ইসরায়েল-এর নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক অবস্থান, ইরান-এর প্রতিরোধী মনোভাব— সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক জটিল দ্বন্দ্বের গোলকধাঁধায় বন্দি। এই অস্থির সময়েই বিশ্বমানবতার দৃষ্টি গিয়ে থামে এক ব্যক্তির উপর— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। *২. একজন মানুষের উত্থান*: সেনাপ্রধান থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির— নামটি এখন শুধু একটি দেশের সামরিক নেতৃত্বের প্রতীক নয়, বরং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তান-এর সেনাপ্রধান হয়েও তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অদৃশ্য সেতু— যেখানে বিরোধী শক্তিগুলো অন্তত কথোপকথনের টেবিলে বসতে রাজি হয়। *৩. ব্যর্থতার ভেতর সম্ভাবনার বীজ*: গত ১১–১২ এপ্রিলের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে— এটি নিঃসন্দেহে বাস্তবতা। কিন্তু এই ব্যর্থতা কি শেষ? নাকি এটি একটি বৃহত্তর সফলতার প্রস্তুতি? বিশ্লেষণ বলছে— এই প্রথম দফার আলোচনা ছিল অবস্থান যাচাইয়ের মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র তার সীমা দেখিয়েছে, ইরান তার শর্ত স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা-রেখা টেনে দিয়েছে। আর এই সবকিছুই ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল তৈরির উপাদান হয়ে উঠেছে। *৪. কূটনৈতিক কৌশল– যুক্তির ছুরিতে শর্তের অবসান* তার সবচেয়ে বড় শক্তি— তিনি চাপ প্রয়োগ করেন না, তিনি পরিস্থিতিকে এমনভাবে সাজান, যাতে প্রতিপক্ষ নিজের অবস্থান থেকেই নরম হতে বাধ্য হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য— এই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সাথে তার সমঝোতা তৈরি করছে একটি সমর্থন কাঠামো। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া— তাদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তাকে দিয়েছে কৌশলগত গভীরতা। এই বহুমাত্রিক কূটনীতি তার প্রচেষ্টাকে করেছে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। ৫. সম্ভাবনার দিগন্ত: কেন সফল হতে পারেন? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কি সত্যিই সফল হতে পারেন? বিশ্লেষণে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে— (১) *নিরপেক্ষতার সুবিধা*: পাকিস্তান সরাসরি এই সংঘাতের মূল পক্ষ নয়, তাই তার মধ্যস্থতা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য। (২) *বহুমুখী সম্পর্ক*: পূর্ব ও পশ্চিম—দুই ব্লকের সাথেই যোগাযোগ রক্ষা করার সক্ষমতা তাকে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। (৩) *সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য*: তিনি শুধু কূটনীতিক নন, একজন সামরিক কৌশলবিদও— যা তাকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। (৪) *ব্যর্থতা থেকে শেখার সক্ষমতা*: প্রথম দফার ব্যর্থতা তাকে দুর্বল করেনি, বরং আরও প্রস্তুত করেছে। *৬. ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা*: পথ এত সহজ নয়; তবে বাস্তবতা কঠিন— যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক প্রভাব ছাড়তে চাইবে না, ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া আপস করবে না, ইসরায়েল অস্তিত্বের প্রশ্নে আপসহীন। এই ত্রিমুখী জটিলতা যেকোনো উদ্যোগকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে। *৭. বিশ্বমানবতার প্রত্যাশা ও শেষ আশ্রয়* আজ পৃথিবী এক অদ্ভুত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে— যেখানে একটি মানুষের প্রচেষ্টাকে “শেষ আশার আলো” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সফল হলে— একটি নতুন শান্তির অধ্যায় শুরু হতে পারে। ব্যর্থ হলে— পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনা আর কল্পনা থাকবে না, তা হয়ে উঠতে পারে নির্মম বাস্তবতা। *৮. বিশ্ববর্বতার ধ্বংসস্তুপে একটি মানুষ দাঁড়িয়ে* ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো সবসময় সহজ মানুষের কাছে আসে না— এসে পড়ে সেই মানুষের কাঁধে, যিনি তা বহন করতে সক্ষম। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন সেই অবস্থানে— যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই আজ যেন পৃথিবী অপেক্ষা করছে, পারমাণবিক অস্ত্রের বীভিষিকায় কী সব ধ্বংস হয়ে যাবে, নাকি পৃথিবী শান্তির পথে হাঁটবে? শান্তি অন্বেষার সেই প্রশ্নের সমাধানে ভার নিজের কাঁধে নিয়ে সাঁতারি যাচ্ছেন, বিপদগ্রস্ত মানুষের এক ত্রাণকর্তা, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শান্তির নিশান তাঁর হাতেই হয়তো পতপত করে উড়ার অপেক্ষায় আছে, আর অপেক্ষায় আছে বিশ্বের তাবৎ প্রাণীকুল ও মানবতা… মাগুরার শ্রীপুরে পাম্পে ড্রামে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারণ,সাংবাদিককে মারধর করলো পুলিশ! উক্ত পুলিশ ক্লোজ! *ফিল্ড মার্শালের ইটে-ইটে গড়া শান্তির দেয়াল* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে

বিকল্প পথের আহ্বান: বিএনপিকে উপেক্ষা করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য ও ক্ষমতা-সংগ্রামের রূপরেখা” — এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৪৭ বার ভিউ
সময়ঃ রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন

১. বিকল্প পথের আহ্বান: বিএনপিকে উপেক্ষা করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য ও ক্ষমতা-সংগ্রামের রূপরেখা

২০২৫ সালের ১৯ জুলাই, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বহু বছর পর রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ, কোণঠাসা ও বারবার বাধাগ্রস্ত জামায়াতে ইসলামি এক বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের কণ্ঠ নতুনভাবে জাতির সামনে উপস্থাপন করে। তবে এটি ছিল না শুধুই পুনরাগমনের ঘোষণা; বরং এটি ছিল বিএনপিকে পাশ কাটিয়ে জাতীয় ঐক্যের নতুন নকশা উপস্থাপনের সাহসী প্রয়াস। এই প্রেক্ষাপটে সাত দফা দাবি নয় কেবল, বরং এগুলো ছিল একটি রাজনৈতিক দিকদর্শন, যেখানে ক্ষমতা দখলের কৌশল, ভবিষ্যতের রাজনীতির অক্ষরেখা এবং গণতান্ত্রিক পূনর্বিন্যাসের ছাপ সুস্পষ্ট।

২. সাত দফার বাস্তব রূপরেখা ও নতুন শক্তির ধারণা

জামায়াতের ঘোষিত ৭ দফা ছিল সময়োপযোগী ও কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবিনির্ভর:

( ১) লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড – সব দলের জন্য নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা

(২) ২০২৪ সালের ৫ আগস্টসহ অন্যান্য সময়ের গণহত্যার বিচার

(৩) রাষ্ট্রব্যবস্থার সর্বস্তরে মৌলিক সংস্কার

(৪) ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন – গণঅভ্যুত্থান থেকে প্রাপ্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক চেতনার রূপায়ণ

(৫) জুলাই শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন

(৬) প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) ভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু

(৭) এক কোটি প্রবাসী ভোটারের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা

 

এই সাত দফা আসলে জামায়াতের প্রথাগত ইসলামপন্থার সঙ্গে আধুনিক রাষ্ট্র সংস্কারের সমন্বয় ঘটানোর প্রয়াস। এটি তাদের অতীতের শাস্ত্রীয় কণ্ঠ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতার পরিশীলিত রূপ।

৩. বিএনপিকে বাদ দিয়ে কেন:

এই সমাবেশের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল বিএনপির প্রতি নিঃশব্দ অবহেলা।
জামায়াত বুঝেছে—

বিএনপি নেতৃত্বহীন,

বিএনপির মধ্যে আদর্শিক দিকনির্দেশনার অভাব,

বারবার আন্দোলনে ব্যর্থতা জনগণের আস্থা ক্ষয় করেছে।

এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই জামায়াত সরাসরি বলেছে: “জাতীয় ঐক্য গড়তে হবে আদর্শিক ভিত্তিতে, নেতৃত্বহীন তামাশার ওপর নয়।”

৪. নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ার বাস্তবতা ও কৌশল:

জামায়াত এখন শুধু দল নয়, একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে চায়, যেখানে—

ইসলামী দলসমূহ (ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, চরমোনাই),

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নেতৃত্ব (আলিয়া-মাদ্রাসা শিক্ষক সমাজ),

‘জুলাই সনদ’ অনুসারী উদারপন্থী জাতীয়তাবাদী যুবশক্তি,

প্রবাসী বাংলাদেশি সচেতন অংশ

সমন্বিতভাবে এক “বিকল্প ফ্রন্ট” গঠনে আগ্রহী। এই ফ্রন্টের লক্ষ্য শুধু নির্বাচন নয়, রাষ্ট্র ক্ষমতার দিকে অগ্রসর হওয়া।

ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশলগত উপাদানগুলো হলো:

PR ভিত্তিক নির্বাচনী দাবি— যা ছোট দলগুলোকে ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার সুযোগ দেয়,

মুসলিম ও ধর্মপ্রাণ ভোটব্যাংককে কেন্দ্র করে সংগঠন বিস্তার,

ভারতীয় আধিপত্য বিরোধী জাতীয় আবেগকে কাজে লাগানো,

মধ্যবিত্ত ও যুবশক্তির মধ্যে ‘আদর্শভিত্তিক নতুন নেতৃত্ব’-এর আকাঙ্ক্ষা পূরণ,

২০২৪ সালের “জুলাই গণঅভ্যুত্থান”-এর শহীদদের উত্তরাধিকারী দাবির মাধ্যমে নৈতিক শ্রেষ্ঠতা অর্জন।

 

৫. রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ: কি সম্ভাবনা তৈরি হলো?

বাংলাদেশের রাজনীতি এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বনাম অসংগঠিত ও হতাশাগ্রস্ত বিরোধী শিবিরে বিভক্ত। জামায়াত সেই শূন্যতার মধ্যে কৌশলগতভাবে পরিপক্ব, মূল্যবোধনির্ভর ও সংগঠিত একটি বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চাইছে।

তারা এখন বলছে: “বিরোধী ঐক্য মানে বিএনপি নয়; বরং নতুন ধ্যান-ধারণা, নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি ভবিষ্যতমুখী জোট।”

৬. উপসংহার

১৯ জুলাইয়ের সোহরাওয়ার্দী সমাবেশ ছিল একটি রাজনৈতিক সংকেত। এটি বিএনপির স্থবিরতা ও নেতৃত্বহীনতার সুযোগে, জামায়াতের নেতৃত্বে একটি মূল্যবোধনির্ভর, পরিকল্পিত ও সমন্বিত রাজনৈতিক বিকল্প গঠনের প্রকৃত সূচনা। এই বিকল্প শক্তি শুধুমাত্র আন্দোলন নয়, বরং ভবিষ্যতের সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে— এমন এক বাস্তবতা, যেটি অচিরেই জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]

*যুদ্ধ-না-শান্তি : এক ফিল্ড মার্শালের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে সারাবিশ্ব* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* *১. অস্থিরতার প্রেক্ষাপট— এক অগ্নিগোলকের পৃথিবী*: সময়ের এই অধ্যায়ে পৃথিবী যেন আগ্নেয়গিরির কিনারায় দাঁড়িয়ে— যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র, প্রতিটি জোট, প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি সম্ভাব্য বিস্ফোরণের পূর্বাভাস বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র-এর কৌশলগত আধিপত্য, ইসরায়েল-এর নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক অবস্থান, ইরান-এর প্রতিরোধী মনোভাব— সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক জটিল দ্বন্দ্বের গোলকধাঁধায় বন্দি। এই অস্থির সময়েই বিশ্বমানবতার দৃষ্টি গিয়ে থামে এক ব্যক্তির উপর— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। *২. একজন মানুষের উত্থান*: সেনাপ্রধান থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির— নামটি এখন শুধু একটি দেশের সামরিক নেতৃত্বের প্রতীক নয়, বরং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তান-এর সেনাপ্রধান হয়েও তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অদৃশ্য সেতু— যেখানে বিরোধী শক্তিগুলো অন্তত কথোপকথনের টেবিলে বসতে রাজি হয়। *৩. ব্যর্থতার ভেতর সম্ভাবনার বীজ*: গত ১১–১২ এপ্রিলের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে— এটি নিঃসন্দেহে বাস্তবতা। কিন্তু এই ব্যর্থতা কি শেষ? নাকি এটি একটি বৃহত্তর সফলতার প্রস্তুতি? বিশ্লেষণ বলছে— এই প্রথম দফার আলোচনা ছিল অবস্থান যাচাইয়ের মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র তার সীমা দেখিয়েছে, ইরান তার শর্ত স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা-রেখা টেনে দিয়েছে। আর এই সবকিছুই ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল তৈরির উপাদান হয়ে উঠেছে। *৪. কূটনৈতিক কৌশল– যুক্তির ছুরিতে শর্তের অবসান* তার সবচেয়ে বড় শক্তি— তিনি চাপ প্রয়োগ করেন না, তিনি পরিস্থিতিকে এমনভাবে সাজান, যাতে প্রতিপক্ষ নিজের অবস্থান থেকেই নরম হতে বাধ্য হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য— এই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সাথে তার সমঝোতা তৈরি করছে একটি সমর্থন কাঠামো। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া— তাদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তাকে দিয়েছে কৌশলগত গভীরতা। এই বহুমাত্রিক কূটনীতি তার প্রচেষ্টাকে করেছে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। ৫. সম্ভাবনার দিগন্ত: কেন সফল হতে পারেন? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কি সত্যিই সফল হতে পারেন? বিশ্লেষণে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে— (১) *নিরপেক্ষতার সুবিধা*: পাকিস্তান সরাসরি এই সংঘাতের মূল পক্ষ নয়, তাই তার মধ্যস্থতা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য। (২) *বহুমুখী সম্পর্ক*: পূর্ব ও পশ্চিম—দুই ব্লকের সাথেই যোগাযোগ রক্ষা করার সক্ষমতা তাকে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। (৩) *সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য*: তিনি শুধু কূটনীতিক নন, একজন সামরিক কৌশলবিদও— যা তাকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। (৪) *ব্যর্থতা থেকে শেখার সক্ষমতা*: প্রথম দফার ব্যর্থতা তাকে দুর্বল করেনি, বরং আরও প্রস্তুত করেছে। *৬. ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা*: পথ এত সহজ নয়; তবে বাস্তবতা কঠিন— যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক প্রভাব ছাড়তে চাইবে না, ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া আপস করবে না, ইসরায়েল অস্তিত্বের প্রশ্নে আপসহীন। এই ত্রিমুখী জটিলতা যেকোনো উদ্যোগকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে। *৭. বিশ্বমানবতার প্রত্যাশা ও শেষ আশ্রয়* আজ পৃথিবী এক অদ্ভুত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে— যেখানে একটি মানুষের প্রচেষ্টাকে “শেষ আশার আলো” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সফল হলে— একটি নতুন শান্তির অধ্যায় শুরু হতে পারে। ব্যর্থ হলে— পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনা আর কল্পনা থাকবে না, তা হয়ে উঠতে পারে নির্মম বাস্তবতা। *৮. বিশ্ববর্বতার ধ্বংসস্তুপে একটি মানুষ দাঁড়িয়ে* ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো সবসময় সহজ মানুষের কাছে আসে না— এসে পড়ে সেই মানুষের কাঁধে, যিনি তা বহন করতে সক্ষম। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন সেই অবস্থানে— যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই আজ যেন পৃথিবী অপেক্ষা করছে, পারমাণবিক অস্ত্রের বীভিষিকায় কী সব ধ্বংস হয়ে যাবে, নাকি পৃথিবী শান্তির পথে হাঁটবে? শান্তি অন্বেষার সেই প্রশ্নের সমাধানে ভার নিজের কাঁধে নিয়ে সাঁতারি যাচ্ছেন, বিপদগ্রস্ত মানুষের এক ত্রাণকর্তা, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শান্তির নিশান তাঁর হাতেই হয়তো পতপত করে উড়ার অপেক্ষায় আছে, আর অপেক্ষায় আছে বিশ্বের তাবৎ প্রাণীকুল ও মানবতা…