মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম
35 Thermonuclear Bombs in Iran’s Possession: Russia’s Claim Sends Shockwaves Through Global Politics— Professor M. A. Barnik ব্যাংক ম্যানেজারের উপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে নবীনগরে মানববন্ধন  মাগুরার শ্রীপুরে রাস্তার বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে! ইরানের হাতে ৩৫টি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা: রাশিয়ার দাবিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভূমিকম্প—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরায় অনলাইন জুয়া চক্রের মাস্টার মাইন্ড আমিনুল গ্রেফতার! মাগুরায় কৃষি কর্মকর্তাকে ঝুলিয়ে পেটানোর হুমকি! যুবদল নেতা বহিস্কার! বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের শোক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই-(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।) সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকাল( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)” বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল (বিএনসিইউপি) শোক মাগুরায় জামায়াত মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: আজমত হোসাইনের নির্বাচনী বিলবোর্ড চুরির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

জুলাই সনদ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান: সংবিধানিক স্বীকৃতি ও বিপ্লবী রাষ্ট্রকাঠামোর অপরিহার্যতা —- অধ্যাপক এম. এ. বার্ণিক

সংবাদদাতা / ২৮১ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন

১. ভূমিকা:

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক। দীর্ঘদিনের দমন-নিপীড়ন, পারিবারিক স্বৈরতন্ত্র ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনতার জাগরণ এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। তবে আন্দোলনের বিজয়কে টেকসই করার মূল শর্ত হলো এর সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত করা। যদি জুলাই সনদ রাষ্ট্রের সংবিধানিক স্বীকৃতি না পায়, তবে এই বিপ্লবের অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

২. পটভূমি: জুলাই সনদ, অন্তর্বর্তী সরকার ও ফেব্রুয়ারির নির্বাচন :

জুলাই সনদের মাধ্যমে জনগণ অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা মেনে নেয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. মুহম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক রূপান্তরের দায়িত্ব নেন।

ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত নির্বাচন এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দু হলেও, সাংবিধানিক স্বীকৃতি না পেলে এই নির্বাচন বৈধতা হারাবে।

বৈধতা হারালে কেবল নির্বাচনই নয়, আন্দোলনের শহীদ ও নেতাকর্মীদের ত্যাগও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

৩. রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ :

জুলাই সনদ সাংবিধানিক ভিত্তি না পেলে—

অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা থাকবে না।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবৈধ ঘোষিত হবে।

আন্দোলনের নেতা, অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্য ও কর্মীরা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পারেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে।

৪. সংস্কার বনাম বিপ্লব: প্রয়োজনীয় পথনির্দেশ:

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট কেবল সংস্কারে সমাধান হবে না।

সংস্কার মানে পুরাতন কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে সামান্য পরিবর্তন বা ঘষামাজা।

বিপ্লব মানে পুরাতন কাঠামো ভেঙে চূড়ান্তভাবে নতুন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।

জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা হলো বিপ্লব। তাই রাষ্ট্র কাঠামোতে ড. ইউনূসকে এই বিপ্লব সাধন করতে হবে। জনগণ যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে, তা বাস্তবায়নের জন্য গণপরিষদ নির্বাচন, নতুন সংবিধান রচনা এবং সেই সংবিধানের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন ছাড়া বিকল্প নেই।

৫. ড. ইউনূসের নেতৃত্বের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত

ড. মুহম্মদ ইউনূসের সামনে দুটি পথ উন্মুক্ত—

(১). ক্ষমতার বাইরে গিয়ে জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করে নির্বাচন দেওয়া।

(২). ক্ষমতায় থেকে বৈধতা সংকটে জড়িয়ে নিজে ও তার কেবিনেটকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার ঝুঁকিতে ফেলা।

 

ইতিহাস প্রমাণ করেছে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ উভয়ই নিশ্চিত হয় কেবল বৈধতার পথে অগ্রসর হলে। তাই, এটি কোনো দলের (এনসিপি বা অন্য কারো) প্রশ্ন নয়—এটি ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত ও নৈতিক দায়িত্ব।

৬. সম্ভাব্য প্রভাব ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ:

ইতিবাচক প্রভাব (যদি জুলাই সনদ কার্যকর হয়):

একটি বৈধ গণপরিষদ নির্বাচন।

নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

জনগণের আস্থা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বৃদ্ধি।

নেতিবাচক ঝুঁকি (যদি সাংবিধানিক ভিত্তি না পাওয়া যায়):

নির্বাচন অবৈধ ঘোষিত হবে।

ড. ইউনূস ও তার কেবিনেট রাষ্ট্রদ্রোহের মুখে পড়বেন।

আন্দোলনের শহীদ ও কর্মীদের ত্যাগ বৃথা হবে।

দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অস্থির ও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

৭. উপসংহার

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। দীর্ঘ সময় কোনো পরিবর্তন ছাড়া অপেক্ষা করে, ড. মুহম্মদ ইউনূস নিজেই বেকায়দায় আছেন। গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় তার কর্তব্য, নিজে বাঁচা ও জাতিকে বাঁচানো। তাই তার কাজ হলো—
(১) জুলাই সনদ ঘোষণা।
(২) গণ পরিষদ নির্বাচন।
(৩). নতুন সংবিধান প্রণয়ন।
(৪). নতুন সংবিধানের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন।

 

এটি কেবল সংস্কারের নয়, বরং পরিপূর্ণ বিপ্লবের দাবি। ড. ইউনূস যদি এই বিপ্লব সাধন করতে সক্ষম হন, তবে তিনি কেবল একজন নেতা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিপ্লবী রাষ্ট্রনির্মাতা হিসেবে চিহ্নিত হবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]