শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ক্রীড়াঙ্গনে কাজের প্রস্তাব ফেনীর সেই শিক্ষিকাকে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খোঁজ নিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী: ঈদের জামাতে হাজারো মুসল্লির সঙ্গে নামাজ আদায় করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বাউনিয়াবাদে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা, পুনর্বাসনের আশ্বাস দিলেন আমিনুল হক মাগুরায় নতুন কুড়ি স্বর্ণপদক জয়ী অ্যাথলেট ইয়াসমিনকে শ্রীপুরে জমকালো সংবর্ধনা ধর্ষক জনতার হাতে আটক ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল নবীগঞ্জে ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষিত মাগুরায় ট্রাক ড্রাইভারের হত্যার ঘটনায় পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সেই সংগীতশিল্পী পরিবারকে অর্থ সহায়তা দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। মাগুরায় অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত মাগুরায় ব্যাংক লুটেরা এস আলমের প্রত্যাবর্তনের চক্রান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশঅনুষ্ঠিত

জুলাই সনদ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান: সংবিধানিক স্বীকৃতি ও বিপ্লবী রাষ্ট্রকাঠামোর অপরিহার্যতা —- অধ্যাপক এম. এ. বার্ণিক

সংবাদদাতা / ২৫৮ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

১. ভূমিকা:

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক। দীর্ঘদিনের দমন-নিপীড়ন, পারিবারিক স্বৈরতন্ত্র ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনতার জাগরণ এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। তবে আন্দোলনের বিজয়কে টেকসই করার মূল শর্ত হলো এর সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত করা। যদি জুলাই সনদ রাষ্ট্রের সংবিধানিক স্বীকৃতি না পায়, তবে এই বিপ্লবের অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

২. পটভূমি: জুলাই সনদ, অন্তর্বর্তী সরকার ও ফেব্রুয়ারির নির্বাচন :

জুলাই সনদের মাধ্যমে জনগণ অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা মেনে নেয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. মুহম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক রূপান্তরের দায়িত্ব নেন।

ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত নির্বাচন এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দু হলেও, সাংবিধানিক স্বীকৃতি না পেলে এই নির্বাচন বৈধতা হারাবে।

বৈধতা হারালে কেবল নির্বাচনই নয়, আন্দোলনের শহীদ ও নেতাকর্মীদের ত্যাগও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

৩. রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ :

জুলাই সনদ সাংবিধানিক ভিত্তি না পেলে—

অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা থাকবে না।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবৈধ ঘোষিত হবে।

আন্দোলনের নেতা, অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্য ও কর্মীরা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পারেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে।

৪. সংস্কার বনাম বিপ্লব: প্রয়োজনীয় পথনির্দেশ:

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট কেবল সংস্কারে সমাধান হবে না।

সংস্কার মানে পুরাতন কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে সামান্য পরিবর্তন বা ঘষামাজা।

বিপ্লব মানে পুরাতন কাঠামো ভেঙে চূড়ান্তভাবে নতুন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।

জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা হলো বিপ্লব। তাই রাষ্ট্র কাঠামোতে ড. ইউনূসকে এই বিপ্লব সাধন করতে হবে। জনগণ যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে, তা বাস্তবায়নের জন্য গণপরিষদ নির্বাচন, নতুন সংবিধান রচনা এবং সেই সংবিধানের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন ছাড়া বিকল্প নেই।

৫. ড. ইউনূসের নেতৃত্বের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত

ড. মুহম্মদ ইউনূসের সামনে দুটি পথ উন্মুক্ত—

(১). ক্ষমতার বাইরে গিয়ে জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করে নির্বাচন দেওয়া।

(২). ক্ষমতায় থেকে বৈধতা সংকটে জড়িয়ে নিজে ও তার কেবিনেটকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার ঝুঁকিতে ফেলা।

 

ইতিহাস প্রমাণ করেছে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ উভয়ই নিশ্চিত হয় কেবল বৈধতার পথে অগ্রসর হলে। তাই, এটি কোনো দলের (এনসিপি বা অন্য কারো) প্রশ্ন নয়—এটি ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত ও নৈতিক দায়িত্ব।

৬. সম্ভাব্য প্রভাব ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ:

ইতিবাচক প্রভাব (যদি জুলাই সনদ কার্যকর হয়):

একটি বৈধ গণপরিষদ নির্বাচন।

নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

জনগণের আস্থা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বৃদ্ধি।

নেতিবাচক ঝুঁকি (যদি সাংবিধানিক ভিত্তি না পাওয়া যায়):

নির্বাচন অবৈধ ঘোষিত হবে।

ড. ইউনূস ও তার কেবিনেট রাষ্ট্রদ্রোহের মুখে পড়বেন।

আন্দোলনের শহীদ ও কর্মীদের ত্যাগ বৃথা হবে।

দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অস্থির ও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

৭. উপসংহার

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। দীর্ঘ সময় কোনো পরিবর্তন ছাড়া অপেক্ষা করে, ড. মুহম্মদ ইউনূস নিজেই বেকায়দায় আছেন। গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় তার কর্তব্য, নিজে বাঁচা ও জাতিকে বাঁচানো। তাই তার কাজ হলো—
(১) জুলাই সনদ ঘোষণা।
(২) গণ পরিষদ নির্বাচন।
(৩). নতুন সংবিধান প্রণয়ন।
(৪). নতুন সংবিধানের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন।

 

এটি কেবল সংস্কারের নয়, বরং পরিপূর্ণ বিপ্লবের দাবি। ড. ইউনূস যদি এই বিপ্লব সাধন করতে সক্ষম হন, তবে তিনি কেবল একজন নেতা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিপ্লবী রাষ্ট্রনির্মাতা হিসেবে চিহ্নিত হবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]