শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন
১. ভূমিকা:
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের জনগণ আশা করেছিল একটি নতুন, স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা দ্রুতই মিলিয়ে গেল লণ্ডনের টেবিলে বসা দুই প্রবাসী নেতার বৈঠকের অন্ধকারে। নোবেলজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গোপন সমঝোতার ফলেই আজ বাংলাদেশের গণতন্ত্র নতুন ষড়যন্ত্রের খাঁচায় আবদ্ধ।
২. প্রথম আলোর উদ্ধৃতি :
প্রথম আলো, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শিরোনাম: “উচ্চকক্ষ নিয়ে সরকারের অনুরোধ বিএনপি রাখেনি”
> “লণ্ডন বৈঠকের পর থেকে সরকার সংস্কারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএনপির চাওয়াকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।”
“বিএনপিও সংস্কারের প্রশ্নে ক্রমে ক্রমে শক্ত অবস্থান নিচ্ছে।”
“বিএনপি তাদের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবেও উচ্চকক্ষ গঠনের কথা উল্লেখ করেছিল।”
উক্তিগুলো প্রমাণ করে—লণ্ডনের বৈঠক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য ভাঙার সূচনা মাত্র নয়, বরং বিএনপির প্রভাব ও দাবিই এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল চালক।
৩. উদ্ধৃতির বিশ্লেষণ :
(১). তারেক রহমানের নজিরবিহীন খালাস :
লণ্ডন বৈঠকের কিছুদিন পরেই তারেক রহমান দেশে না ফিরেও, কোনো আপিল বা জামিন ছাড়াই সব মামলায় খালাস পান। সাধারণ নাগরিকের জন্য যেখানে ন্যায়বিচারের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, সেখানে তারেকের এই মুক্তি ছিল রাজনৈতিক দরকষাকষির প্রমাণ।
(২). জুলাই সনদে বিএনপির প্রভাব :
> “বিএনপি তাদের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবেও উচ্চকক্ষ গঠনের কথা উল্লেখ করেছিল।”
এ উদ্ধৃতিটি দেখায়, বিএনপি শুধু বিরোধী নয়, বরং সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়াতেও প্রভাব রাখতে চায়। উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে তাদের সক্রিয় পদক্ষেপ সরকারের নীতি ও ভারসাম্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
(৩). সরকারের পক্ষপাত ও ইউনূসের ভাবমূর্তি :
> “লণ্ডন বৈঠকের পর থেকে সরকার সংস্কারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএনপির চাওয়াকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।”
“বিএনপিও সংস্কারের প্রশ্নে ক্রমে ক্রমে শক্ত অবস্থান নিচ্ছে।”
উক্তিগুলো দেখায়, সরকারের নীতি ও সংস্কার প্রক্রিয়া একদলীয় প্রভাবের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। ইউনূসের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, কারণ গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের পরিবর্তে রাজনৈতিক দরদামই এখন সিদ্ধান্তের ভিত্তি।
৪. উপমা ও শ্লেষ্মা :
বাংলাদেশের গণতন্ত্র যেন এক বিরল প্রজাতির পাখি। জনগণ ভেবেছিল পাখিটি আকাশে উড়বে। কিন্তু লণ্ডনের বৈঠকের পর সেই পাখিকে বিদেশি খাঁচায় বন্দি করা হলো, আর তার দামে দরদাম শুরু হলো।
ড. ইউনূস ভেবেছিলেন, তারেক রহমানকে পাশে নিলে শান্তির সেতু তৈরি হবে। কিন্তু ইতিহাস বলে, বিষাক্ত সাপকে দুধ খাওয়ালে তা দংশনই করে। লণ্ডনের বৈঠক সেই দংশনের নামান্তর; যেখানে মুক্তির বদলে শৃঙ্খলই দৃঢ় হলো।
৫. উপসংহার :
“লণ্ডন বৈঠকের পর থেকে শক্ত অবস্থানে বিএনপি”—এই এক উদ্ধৃতিই দেখিয়ে দেয়, লণ্ডনের টেবিল থেকে এখন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হচ্ছে। এটি কেবল নির্বাচনের বিষয় নয়, বরং গণতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ এবং ন্যায়বিচারের দিশা দখল করছে। জনগণ আজ প্রশ্ন তুলতে বাধ্য—তাদের ভোটাধিকার কি নির্বাচনের মাধ্যমে বাস্তব হবে, নাকি প্রবাসী দরদাম ও রাজনৈতিক দরকষাকষির খাঁচায় নির্ধারিত হবে?