মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাগুরায় ৮ হাজার ইয়াবা ও নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আচক! টাকা ও বাইক জব্দ!

স্পর্শকাতর ওয়ারেন্ট ইস্যু ও রাষ্ট্রের করণীয় —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ২৮৩ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

১. স্পর্শকাতর ওয়ারেন্ট ইস্যু :

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক ও একইসাথে জটিল পদক্ষেপ নিয়েছে। শেখ হাসিনা সহ ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জন সামরিক অফিসার—যার মধ্যে ৯ জন অবসরপ্রাপ্ত এবং ৭ জন বর্তমান দায়িত্বে নিয়োজিত অফিসার। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার সার্ভিং সিনিয়র অফিসারদের বিরুদ্ধে এমন ওয়ারেন্ট জারি হলো।

২. অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট :

সেনাপ্রধান চেষ্টা করেছিলেন, সশস্ত্র বাহিনীর নিজস্ব আইনের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায় কিনা। কিন্তু আইনি কাঠামোর জটিলতা এবং ট্রাইবুনালের রায়ের বাধ্যবাধকতা সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে, নিয়ম মেনে বর্তমান সার্ভিং অফিসারদের নিরস্ত্র করে পুলিশি হেফাজতে তুলে দিতে হবে। এটি নিঃসন্দেহে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং সরকারের জন্য একটি স্পর্শকাতর পরিস্থিতি।

৩. সম্ভাব্য ঝুঁকি :

রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা: সেনা ও পুলিশের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

(১)রাজনৈতিক অস্থিরতা: ফ্যাসিস্ট প্রবণতার পুরোনো অভিযুক্ত শেখ হাসিনা ও তার দেশি-বিদেশি সহযোগীরা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে নেমে পড়তে পারে।

(২)বিদেশি হস্তক্ষেপ: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সামরিক-রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আন্তর্জাতিক মহল প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে।

(৩) ভেতরের চক্রান্ত: যেকোনো বিদ্রোহী প্রবণতা বা অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

৪. সরকারের করণীয় :

(১) আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কঠোর অবস্থান:
ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে হবে ট্রাইবুনালের নির্দেশ মেনে—এতে সরকারের আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শিত হবে।

(২) সেনা-পুলিশ সমন্বয়:
সেনা অফিসারদের পুলিশি হেফাজতে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে আস্থা ও সমন্বয় রক্ষা করা জরুরি। এ জন্য একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে।

(3) জাতীয় নিরাপত্তা নজরদারি জোরদার:
যেকোনো নাশকতা, ষড়যন্ত্র বা হঠাৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে।

 

৫. অভ্যন্তরীণ সংলাপ ও শৃঙ্খলা রক্ষা:
সেনা অফিসারদের পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গে সুসংলাপ বজায় রেখে বোঝাতে হবে এটি ব্যক্তিগত নয়, বরং আইনের শাসনের প্রয়োগ।

৬. জনগণের আস্থা অর্জন:

রাষ্ট্রকে জনগণের সামনে ব্যাখ্যা করতে হবে—এই ওয়ারেন্ট আইন, বিচার ও মানবতার পক্ষে; কোনো প্রতিহিংসার হাতিয়ার নয়।

৭. আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ব্রিফিং:
বিদেশি শক্তিগুলোকে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে যে এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া, বাইরের কোনো চাপের ফল নয়। এতে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

৮. ওয়ারেন্ট কার্যকর করার উপায় :

বাংলাদেশ আজ এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে। ওয়ারেন্ট কার্যকরের এ ঘটনা রাষ্ট্রের জন্য একদিকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সুযোগ, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার বড় পরীক্ষা। শেখ হাসিনা ও তার বিদেশি দোসররা এ সময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করবে—কিন্তু শক্ত হাতে, আইনানুগ পথে, সেনা-পুলিশ-জনতার ঐক্য বজায় রেখে সরকার এগোতে পারলে এই ঝড় মোকাবিলা করা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]