শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে পাম্পে ড্রামে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারণ,সাংবাদিককে মারধর করলো পুলিশ! উক্ত পুলিশ ক্লোজ! *ফিল্ড মার্শালের ইটে-ইটে গড়া শান্তির দেয়াল* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

*খালেদা জিয়ার শেষদিনের গল্প : জীবন যখন ফুরোয়, তখনও ভোটের হিসাব* —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৯২ বার ভিউ
সময়ঃ শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

খালেদা জিয়া—বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীনতার পর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্ব দেওয়া বিরোধী কণ্ঠ—শেষ জীবনের দিনগুলো কাটাচ্ছিলেন হাসপাতালের শয্যায়। শ্বাস-প্রশ্বাস ছিল অনিশ্চিত, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা, শরীর ছিল যন্ত্রণায় জর্জরিত। চিকিৎসকদের ভাষায়—তিনি ছিলেন লাইফ সাপোর্ট নির্ভর, সময়ের সঙ্গে লড়াই করছিলেন।

ঠিক সেই সময়ই—
তাঁর নাম ব্যবহার করে তিনটি নির্বাচনি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলো।
দেশ স্তব্ধ হয়ে প্রশ্ন করল না।
রাষ্ট্র নীরব থাকল।
নির্বাচন কমিশন প্রশ্ন তুলল না।
পরের দিন—
একটি ছোট সংবাদ ভেসে এলো:
“খালেদা জিয়া মারা গেছেন।”
প্রশ্নের পর প্রশ্ন, কিন্তু উত্তর নেই
যিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন, যাঁর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতাও প্রশ্নবিদ্ধ—
তিনি কীভাবে একসঙ্গে তিনটি আসনে প্রার্থী হলেন?
এটি কি তাঁর সিদ্ধান্ত ছিল?
নাকি একটি মৃতপ্রায় দেহের ওপর দাঁড়িয়ে কেউ কেউ নিজেদের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করছিলেন?
যদি এটি প্রতীকী মনোনয়ন হয়—
তাহলে কেন রাষ্ট্র বলল না, “এটি অনৈতিক”?
কেন নির্বাচন কমিশন বলল না, “এটি মানবিক নয়”?
আর যদি এটি কৌশলগত মনোনয়ন হয়—
তবে সেটি কাদের স্বার্থে?
মৃত্যুপথযাত্রীও কেন রাজনীতির শিকার
বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া বহুবার শিকার হয়েছেন—
মিথ্যা মামলায়, কারাবন্দিত্বে, চিকিৎসা বঞ্চনায়, বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি না দিয়ে।
কিন্তু মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও তিনি রেহাই পেলেন না।
মৃত্যুশয্যার মানুষটির পাশে থাকার কথা ছিল পরিবার, প্রার্থনা, নিঃশব্দ ভালোবাসা।
কিন্তু তাঁর নাম তখন ব্যালটের কাগজে, নির্বাচনি হিসাবের খাতায়, ক্ষমতার অঙ্কে।
একজন মানুষ তখন আর মানুষ থাকেন না—
তিনি হয়ে ওঠেন একটি রাজনৈতিক প্রতীক, একটি ভোটের প্রতিচ্ছবি, একটি শেষ ব্যবহারযোগ্য নাম।
এই রাষ্ট্র কি কান্না শুনতে পায় না?
যে দেশে একজন মৃত্যুপথযাত্রীকেও রাজনৈতিক ঢাল বানানো হয়,
সে দেশে মানবিকতার মৃত্যু কি আরও আগেই হয়নি?
খালেদা জিয়ার মৃত্যু কেবল একজন রাজনীতিকের মৃত্যু নয়।
এটি ছিল—
একটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মৃত্যু
একটি নৈতিক সীমার মৃত্যু
এবং সবচেয়ে বড় কথা—
একটি মানবিক রাষ্ট্রের সম্ভাবনার মৃত্যু
তিনি শেষ নিঃশ্বাস নেওয়ার আগেও বোঝা হয়ে উঠেছিলেন—
বোঝা নয়, বরং ব্যবহৃত বস্তু।
শেষ কথা
ইতিহাস একদিন প্রশ্ন করবে—
একজন নারী, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, একজন মৃত্যুশয্যাশায়ী মানুষ—
তাঁর শেষ মুহূর্তগুলো কেন এতটা নিষ্ঠুর ছিল?
আর আমরা—
আমরা কি তখন কেবল দর্শক ছিলাম?
নাকি নীরব অপরাধী?
খালেদা জিয়ার মৃত্যু আমাদের চোখে পানি আনে—
কিন্তু তার চেয়েও বেশি প্রশ্ন রেখে যায়।
এই দেশ কি মৃত্যুশয্যাতেও রাজনীতির বাইরে কাউকে থাকতে দেয় না?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]