বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা! Before UN Speech, Tarique Rahman in the Spotlight: The World’s Curious Gaze on Bangladesh* *—Prof. M. A. Barnik জাতিসংঘে ভাষণের আগেই আলোচনায় তারেক রহমান: বাংলাদেশের প্রতি কৌতূহলী বিশ্বদৃষ্টি* *—-অধ্যাপক এম. এ. বার্ণিক মহেশপুর অডিটোরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারের মেরামত ও সংস্কার কাজের উদ্বোধন চন্দনাইশে মোবাইল কোর্টের অভিযানে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদনে বেকারিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা মাগুরার শ্রীপুরে এক পক্ষের খুন, অন্য পক্ষের বাড়িতে তাণ্ডব! আসামির তালিকায় নাম না থাকলেও ভাঙচুর-লুটপাটের শিকার দুই পরিবার! সরকারি কাজে আবেগ নয় বিবেক দিয়ে কাজ করতে হবে- মাগুরায় পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম Khalilur Rahman Presides, Tarique Rahman Speaks: Two Bangladeshi Voices on the UN Stage* *—Professor M. A. Barnik ড. খলিলুর রহমান সভাপতি, তারেক রহমান বক্তা—জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের এমন উপস্থিতি কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?* *—অধ্যাপক এমএ বার্ণিক চট্টগ্রাম জেলার বিশেষ পুরস্কার পেলেন চন্দনাইশ থানার ওসি এস.এম দিদারুল ইসলাম সিকদার

জাতিসংঘে ভাষণের আগেই আলোচনায় তারেক রহমান: বাংলাদেশের প্রতি কৌতূহলী বিশ্বদৃষ্টি* *—-অধ্যাপক এম. এ. বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৯ বার ভিউ
সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

১. আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ*

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ এখনো উচ্চারিত হয়নি; কিন্তু ভাষণের আগেই তাঁকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়কে বুঝতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালা খুলে দিয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা এবং এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ।

*২. ভাষণের আগেই কেন এত আগ্রহ?*

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আগ্রহকে শুধু একজন রাষ্ট্রনেতার বিদেশ সফরের স্বাভাবিক সংবাদমূল্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যথেষ্ট নয়। এখানে একাধিক বিষয় একসঙ্গে কাজ করছে।

প্রথমত, এটি তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ। দ্বিতীয়ত, তাঁর ভাষণটি বাংলায় দেওয়ার কথা—যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নিজস্ব ভাষা ও পরিচয়ের একটি দৃশ্যমান উপস্থাপন হবে। ভারতীয় India Today ইতিমধ্যে তাঁর প্রথম UNGA ভাষণ, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যুকে সামনে রেখে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

অর্থাৎ, ভাষণ শুরু হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম মূলত জানতে চাইছে—নতুন বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে?

*৩. জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের ‘নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়’*

তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি কূটনৈতিক সফর নয়; এটি নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক পরিচয় উপস্থাপনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো স্থান পাওয়ার কথা। পাশাপাশি নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সামনে এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

*৪. বাংলায় ভাষণ—প্রতীকী গুরুত্বের পাশাপাশি কূটনৈতিক বার্তাও*

তারেক রহমানের বাংলায় ভাষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

জাতিসংঘের মতো বহুভাষিক ও বহুজাতিক মঞ্চে নিজস্ব ভাষায় রাষ্ট্রীয় বক্তব্য দেওয়া কেবল আবেগের বিষয় নয়; এর মধ্যে সাংস্কৃতিক পরিচয়, সার্বভৌম আত্মপরিচয় এবং নিজস্ব জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ—তিনটি মাত্রাই রয়েছে।

বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বাংলা ভাষায় বক্তব্য এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভাষায় তার অনুবাদ—এই দ্বৈত উপস্থিতি বাংলাদেশের নিজস্ব কণ্ঠকে আরও দৃশ্যমান করতে পারে।

*৫ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দাবিগুলোর একটি*

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়টি তুলে ধরার কথা রয়েছে।

এখানে বাংলাদেশের জন্য মূল কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হলো—রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা এবং শুধু মানবিক সহায়তার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ না রেখে টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

. জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক জলবায়ু কূটনীতিতে সক্রিয়।

জাতিসংঘে এবারের কর্মসূচিতেও জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো বাংলাদেশের বক্তব্যে গুরুত্ব পাওয়ার কথা। ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত হুমকি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও তারেক রহমান উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

এখানে বাংলাদেশের বক্তব্য কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়; একই ধরনের ঝুঁকিতে থাকা উন্নয়নশীল ও দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জন্যও প্রাসঙ্গিক।

*৭. বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি*

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের আরেকটি দিক হচ্ছে অর্থনৈতিক কূটনীতি।

জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি বোয়িংসহ আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগের বিষয়টি সংবাদে এসেছে।

এর অর্থ, জাতিসংঘ সফরকে বাংলাদেশ শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মঞ্চ হিসেবে দেখছে না; বিনিয়োগ, বাণিজ্য, উন্নয়ন সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

*৮. একই মঞ্চে বাংলাদেশ, কিন্তু বদলে যাচ্ছে বিশ্বপরিস্থিতি*

আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমান যখন বাংলাদেশের বক্তব্য নিয়ে জাতিসংঘের মঞ্চে উঠবেন, তখন বিশ্ব নিজেই গভীর ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

২২ সেপ্টেম্বরের সাধারণ বিতর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান, মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুদ্ধ বন্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক শাসন এবং জাতিসংঘ সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বক্তব্য কেবল জাতীয় বিষয়কেন্দ্রিক হলে তার আন্তর্জাতিক প্রতিধ্বনি সীমিত থাকতে পারে; বিপরীতে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থকে বিশ্বশান্তি, জলবায়ু, মানবিক সংকট, বহুপাক্ষিকতা ও উন্নয়ন সহযোগিতার বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

*৯. আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আগ্রহ—বাংলাদেশের জন্য কী নির্দেশ করে?*

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে আলাদা করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আগ্রহকে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং সংবাদমূল্য তৈরি হয়েছে কয়েকটি ঘটনার সংযোগে—নতুন সরকারের প্রথম UNGA উপস্থিতি, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ, বাংলায় বক্তব্য, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাংলাদেশের নতুন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থান।

India Today, New Indian Expressসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইতিমধ্যে তাঁর ভাষণের সম্ভাব্য বিষয়বস্তু নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এ থেকে অন্তত এটুকু বলা যায় যে, ভাষণটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে আগাম সংবাদমূল্য অর্জন করেছে।
*১০. এখন মূল প্রশ্ন—২৪ সেপ্টেম্বর কী বার্তা যাবে বিশ্বে?*

ভাষণের আগে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে; কিন্তু প্রকৃত তাৎপর্য নির্ধারিত হবে ভাষণের বিষয়বস্তু, উপস্থাপন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যদি গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, আঞ্চলিক শান্তি এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়গুলো একটি সুসংবদ্ধ কূটনৈতিক বার্তায় উপস্থাপিত হয়, তাহলে ভাষণটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠতে পারে।

তবে এর মূল্যায়ন করতে হবে ভাষণের পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম কীভাবে বক্তব্যটি গ্রহণ করে, কোন বিষয়গুলো উদ্ধৃত করে এবং কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়—সেসবের ভিত্তিতে।
*[ অধ্যাপক এম এ বার্ণিক একজন উচ্চমার্গের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ]*


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]