সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান সরকারের সামনে পাঁচটি বড় ও ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, জাতীয় স্বার্থভিত্তিক বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের জন্য শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সময়সীমাবদ্ধ, পরিমাপযোগ্য এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি সমন্বিত কাঠামো। নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিন এবং পরবর্তী এক বছরকে এই পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
*১. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা*
দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাষ্ট্রীয় রূপান্তরের পর প্রথম দায়িত্ব হবে দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সরকার শক্তিশালী থাকবে, কিন্তু বিরোধী মত দমন করে নয়; বরং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে।
সরকারের করণীয়
ক. প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার:
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করতে হলে তা হতে হবে নির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রমাণ ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে। রাজনৈতিক পরিচয় যেন মামলা বা প্রশাসনিক হয়রানির একমাত্র কারণ না হয়।
খ. বিরোধী দলের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা:
সভা-সমাবেশ, মতপ্রকাশ, রাজনৈতিক সংগঠন এবং সংসদীয় কার্যক্রমের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
গ. দলীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘Zero Tolerance’:
সরকারি দলের পরিচয় ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল বা রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িত হলে দ্রুত সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঘ. স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ন্ত্রণ:
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
ঙ. জাতীয় রাজনৈতিক সংলাপ:
সরকারকে নিয়মিতভাবে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও তরুণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ করতে হবে।
সিদ্ধান্তের মূলনীতি
“ক্ষমতা দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণ নয়; আস্থা, আইন ও সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা।”
*২. গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা*
নতুন সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত হতে পারে—রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে আইন, দক্ষতা, সততা ও সাংবিধানিক দায়িত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত করা।
সরকারের করণীয়
ক. নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর স্বাধীনতা:
নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমাতে হবে।
খ. জনপ্রশাসনে মেধাভিত্তিক পদায়ন:
বদলি ও পদায়নে দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, সততা ও পেশাগত যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
গ. পুলিশ সংস্কার:
পুলিশকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের বাহিনী হিসেবে নয়, নাগরিকের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন রক্ষাকারী পেশাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ঘ. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা:
বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করতে হবে এবং বিচারপ্রক্রিয়ার স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
ঙ. সংসদীয় নজরদারি বৃদ্ধি:
জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোকে কার্যকর করে সরকারি ব্যয়, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের ওপর শক্তিশালী নজরদারি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
সরকারকে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে, যে প্রতিষ্ঠান আজ বিএনপির সরকারকে সহযোগিতা করবে, কিন্তু ভবিষ্যতে বিএনপি বিরোধী দলে গেলেও একই নিরপেক্ষতা নিয়ে তার ওপর নজরদারি করতে পারবে।
এটাই হবে প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের পরীক্ষা।
*৩. অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বৈষম্য হ্রাস*
রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার চেয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হবে অর্থনৈতিক ফলাফলে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ ও আয়-বৈষম্যের উন্নতি না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
সরকারের করণীয়
ক. প্রথম ১০০ দিনের National Economic Recovery Roadmap:
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করতে হবে।
খ. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ:
সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে।
গ. ব্যাংকিং খাত সংস্কার:
খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংক পরিচালনা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং অর্থপাচারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঘ. তরুণদের কর্মসংস্থান:
শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, AI, সফটওয়্যার, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, কৃষি-প্রযুক্তি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
ঙ. বিনিয়োগ পরিবেশ:
ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, দ্রুত অনুমোদন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, নীতির ধারাবাহিকতা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
চ. রাজস্ব সংস্কার:
কর প্রশাসনকে ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করে করের আওতা বাড়াতে হবে; একই সঙ্গে করদাতার হয়রানি কমাতে হবে।
অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের মূলনীতি
“উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াও, অপচয় ও অর্থপাচার বন্ধ করো।”
সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু GDP প্রবৃদ্ধি নয়; বরং কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা, আয় বৃদ্ধি এবং বৈষম্য হ্রাস।
*৪. জাতীয় স্বার্থভিত্তিক বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি*
বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান এমন যে কোনো একটি শক্তির ওপর অতিনির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই “Bangladesh First” নীতিকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন strategic multi-alignment।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে।
অগ্রাধিকার দিতে হবে—
সীমান্ত নিরাপত্তা;
সীমান্তে প্রাণহানি কমানো;
অভিন্ন নদীর পানি;
বাণিজ্য ভারসাম্য;
যোগাযোগ ও আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি;
নিরাপত্তা সহযোগিতা;
সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ।
ভারতকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা যেমন বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী, তেমনি অতিনির্ভরতাও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক
অবকাঠামো, শিল্প, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে চীনের সক্ষমতা ব্যবহার করা যেতে পারে; তবে প্রতিটি প্রকল্পে অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, ঋণের স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক
রপ্তানি, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থায় সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
জাপান ও অন্যান্য অংশীদার
দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো, মানবসম্পদ, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি
“Friendship with all, dependency on none; national interest above geopolitical alignment.”
অর্থাৎ বন্ধুত্ব সবার সঙ্গে, কিন্তু নির্ভরতা কারও ওপর নয়।
*৫. ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া*
এটি নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক সুযোগ হতে পারে।
২০২৪ সালের আন্দোলনকে শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখলে এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য সীমিত হয়ে যাবে। এর সঙ্গে যুক্ত গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র, বৈষম্য হ্রাস এবং নাগরিক অধিকারের আকাঙ্ক্ষাকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনের মধ্যে স্থায়ী রূপ দিতে হবে।
সরকারের করণীয়
ক. জুলাই চার্টার ও সাংবিধানিক সংস্কারের সময়সূচি:
কোন সংস্কার কখন এবং কীভাবে বাস্তবায়িত হবে—এ বিষয়ে একটি প্রকাশ্য রোডম্যাপ দিতে হবে।
খ. প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ওপর Checks and Balances:
একক নির্বাহী ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ ঠেকাতে কার্যকর সাংবিধানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
গ. বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা:
এই দুই প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা শুধু আইনে নয়, বাস্তব কার্যক্রমেও নিশ্চিত করতে হবে।
ঘ. দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা:
দুর্নীতি দমনে প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, দক্ষ ও কার্যকর করতে হবে।
ঙ. মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা:
সরকারের সমালোচনা করার অধিকারকে গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
চ. মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রীয় নিয়োগ:
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা ও সততাকে প্রধান মানদণ্ড করতে হবে।
ঐতিহাসিক শিক্ষা
“কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকার যেন ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের সমার্থক হয়ে উঠতে না পারে।”
*কি ধরণের কৌশল নিতে হবে* ৷ সরকারের জন্য ‘১০০ দিনের জাতীয় স্থিতিশীলতা কর্মসূচি’
পাঁচটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার চাইলে প্রথম ১০০ দিনকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করে একটি National Stabilisation and Reform Programme গ্রহণ করতে পারে।
*প্রথম ৩০ দিন —* স্থিতিশীলতা
রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঘোষণা;
প্রশাসন ও পুলিশের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ;
বাজার ও ব্যাংকিং খাতের জরুরি মূল্যায়ন;
জাতীয় রাজনৈতিক সংলাপ শুরু;
বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক আস্থার জন্য জরুরি পদক্ষেপ।
*৩১–৬০ দিন —* সংস্কারের ভিত্তি
সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের রোডম্যাপ;
ব্যাংকিং খাত সংস্কারের কর্মপরিকল্পনা;
বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন কর্মসূচি;
তরুণদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি;
দুর্নীতি ও অর্থপাচার প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা;
পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার নির্ধারণ।
*৬১–১০০ দিন —* বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন
নির্বাচনী ও সাংবিধানিক সংস্কারের অগ্রগতি প্রকাশ;
ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কারের প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন;
জাতীয় কর্মসংস্থান পরিকল্পনা ঘোষণা;
প্রশাসনিক সংস্কারের অগ্রগতি প্রকাশ;
100-Day Performance Report প্রকাশ।
এতে সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব কাজের মধ্যে পার্থক্য জনগণের কাছে স্পষ্ট হবে এবং সরকারের জবাবদিহিতাও বৃদ্ধি পাবে।
*মূল লক্ষ্য*
তারেক রহমান সরকারের সামনে থাকা পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মূল কৌশল হওয়া উচিত “ক্ষমতা সংরক্ষণ” নয়, “রাষ্ট্র পুনর্গঠন”।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে সহিষ্ণুতা, সংলাপ ও আইনের শাসন থেকে; গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে দলীয় প্রভাবমুক্তির মাধ্যমে; অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হবে সুশাসন, বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতার মাধ্যমে; পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে জাতীয় স্বার্থ ও কৌশলগত ভারসাম্যের ভিত্তিতে; আর ২০২৪ সালের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে।
সাফল্যের মাপকাঠি শুধু বিএনপি কত বছর ক্ষমতায় থাকল—তা নয়। প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি হবে, তারা এমন একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো রেখে যেতে পারল কি না, যেখানে ভবিষ্যতে কোনো দল, প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক গোষ্ঠী রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যক্তিগত বা দলীয় ক্ষমতার হাতিয়ারে পরিণত করতে না পারে।
“সেখানেই তারেক রহমানের নেতৃত্বের ঐতিহাসিক সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা নির্ধারিত হবে।”
*[ কলামিস্ট অধ্যাপক এম এ বার্ণিক একজন উচ্চমার্গের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক ঘটনার সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষক ]*