শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ক্রীড়াঙ্গনে কাজের প্রস্তাব ফেনীর সেই শিক্ষিকাকে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খোঁজ নিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী: ঈদের জামাতে হাজারো মুসল্লির সঙ্গে নামাজ আদায় করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বাউনিয়াবাদে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা, পুনর্বাসনের আশ্বাস দিলেন আমিনুল হক মাগুরায় নতুন কুড়ি স্বর্ণপদক জয়ী অ্যাথলেট ইয়াসমিনকে শ্রীপুরে জমকালো সংবর্ধনা ধর্ষক জনতার হাতে আটক ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল নবীগঞ্জে ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষিত মাগুরায় ট্রাক ড্রাইভারের হত্যার ঘটনায় পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সেই সংগীতশিল্পী পরিবারকে অর্থ সহায়তা দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। মাগুরায় অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত মাগুরায় ব্যাংক লুটেরা এস আলমের প্রত্যাবর্তনের চক্রান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশঅনুষ্ঠিত

বিনোদন জগতের মহারাণী ‘সাফিনা পার্ক’: দেশব্যাপি ছড়িয়েছে গোদাগাড়ী নাম

সংবাদদাতা / ১৫৭ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

অলিউল্লাহ :-

​উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার রাজশাহী জেলা। আর এই জেলারই এক পরিচিত উপজেলা গোদাগাড়ী। যার নাম শুনলেই এক সময় চোখে ভেসে উঠত সীমান্তবর্তী এলাকার রুক্ষতা কিংবা মাদক নিয়ে কিছু নেতিবাচক শিরোনাম। তবে সময়ের চাকা ঘুরেছে; গত এক দশকে সেই রুক্ষতা ছাপিয়ে গোদাগাড়ীর মুকুটে যুক্ত হয়েছে এক উজ্জ্বল পালক— ‘সাফিনা পার্ক ও রিসোর্ট’। শুধু রাজশাহী নয়, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আর বিশালতার কারণে এটি এখন দেশজুড়ে পর্যটকদের কাছে এক নতুন গন্তব্য।

২০১২ সালে দুই সহোদর ফজলুর রহমান ও সাইফুল ইসলামের হাত ধরে উপজেলার দিগ্রাম এলাকার খেঁজুরতলায় মাত্র ৩২ বিঘা জমিতে গড়ে ওঠে সাফিনা পার্ক। বর্তমানে সেই পার্কটির পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ বিঘায়। বিশাল এই এলাকা জুড়ে রোপণ করা হয়েছে দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ, যা পুরো এলাকাকে একটি ‘অক্সিজেন হাবে’ পরিণত করেছে।

​সাফিনা পার্কের প্রতিটি কোণ সাজানো হয়েছে রুচিশীল ও আধুনিক সব বিনোদন উপকরণ দিয়ে। দর্শনার্থীদের ভিড় মূলত কাড়ে এখানকার প্রযুক্তিগত চমকগুলো:​ ৫ডি ও ৯ডি সিনেমা: উত্তরবঙ্গের খুব কম জায়গায় এমন রোমাঞ্চকর ভার্চুয়াল রিয়ালিটি অভিজ্ঞতার সুযোগ আছে।​

কৃত্রিম জীববৈচিত্র্য: শিশুদের জন্য কথা বলা গাছ, প্রাগৈতিহাসিক ডাইনোসর এবং নানা পশু-পাখির নিখুঁত ভাস্কর্য যেন এক জীবন্ত রূপকথার জগত।​ ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চার: লেকের শান্ত নীল জলে প্যাডেল বোট থেকে শুরু করে গতির রোমাঞ্চে ভরা স্পিড বোট রাইড—সবই মিলবে এখানে।​ ফটোগ্রাফি জোন: নান্দনিক ঝর্ণা বা ফাউন্টেন আর বাহারি সব স্থাপত্য একে দিয়েছে একটি আধুনিক ‘সেলফি স্পট’ এর মর্যাদা।

সাফিনা পার্ক কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, এটি স্থানীয়দের জন্য এক আশীর্বাদ। কয়েকশ বেকার যুবকের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে এখানে। এলাকার ছোট ছোট ব্যবসায়ীরাও এখন লাভের মুখ দেখছেন। পার্কের ভেতরে পর্যটকদের কেনাকাটার সুবিধার জন্য স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক মার্কেট।

রাত্রিযাপনের জন্য রয়েছে আধুনিক এসি ও নন-এসি রিসোর্ট এবং যেকোনো করপোরেট সভার জন্য প্রস্তুত রয়েছে সুপরিসর এসি কনফারেন্স রুম। ফলে এটি এখন কেবল সাধারণ পর্যটক নয়, বরং অফিসিয়াল বনভোজন বা গেট টুগেদারের জন্য প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে।

তবে বড় এই প্রতিষ্ঠানের পথচলা সব সময় মসৃণ ছিল না। পার্কের অপারেশন ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা সব সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। যদিও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল মাঝেমধ্যে অপপ্রচার চালায়, কিন্তু আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য সাফিনা পার্ককে সারা দেশের শীর্ষস্থানীয় বিনোদন কেন্দ্রে উন্নীত করা।”

ঢাকা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে রাজশাহীতে এসে সরাসরি বাস, সিএনজি বা অটো রিক্সায় চড়ে যাওয়া যায় গোদাগাড়ী। উপজেলা সদর বা জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটারের দূরত্বে গেলেই দেখা মিলবে গ্রামীণ স্নিগ্ধতায় ঘেরা এই আধুনিক বিনোদন পার্কের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]