শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন মাগুরায় ৭ ভুয়া সিআইডি সদস্য আটক, নারী অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ! Bangladesh: Emerging as a Key Strategic Nexus in the Defence Relations of India, China and the Middle East- Professor M. A. Barnik* বাংলাদেশ : ভারত-চীন-মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হচ্ছে* *–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

মাগুরায় জাতীয় দলের ফুটবলার রহমত আলীর বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ!

সংবাদদাতা / ১৫৯ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০১ অপরাহ্ন

মোঃ সাইফুল্লাহ,

মাগুরা প্রতিনিধি//

মাগুরারনএকসময় যে মানুষটির সাফল্যে গর্ব করতেন স্ত্রী, সেই মানুষটির বিরুদ্ধেই আজ নির্যাতন, অবরুদ্ধ করে রাখা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় রহমত মিয়ার প্রথম স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা ১৯ বছরের এই তরুণীর চোখে এখন শুধু আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর একমাত্র কন্যাসন্তানকে নিয়ে উদ্বেগ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামে রহমত মিয়ার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। পরে পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সহায়তায় অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা নারী ও স্বজনদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বর্তমানে সাদিয়া ইসলাম ও তাঁর মা আফরোজা বেগম মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২২ সালে মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় রহমত মিয়ার সঙ্গে রাজশাহী সদর উপজেলার তকিপুর গ্রামের সাদিয়া ইসলামের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
বিয়ের দুই বছর পর, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যাসন্তান। কিন্তু সন্তান জন্মের আগেই দাম্পত্য জীবনে অশান্তির সূচনা হয় বলে অভিযোগ সাদিয়ার।
তাঁর দাবি, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রহমত মিয়া এক ভারতীয় নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং পরে ২০২৫ সালে তাঁকে না জানিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। একপর্যায়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলে প্রায় এক বছর ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করতে বাধ্য হন তিনি।

সাদিয়া ইসলামের অভিযোগ, শুক্রবার বিকেলে তাঁদের কন্যাসন্তানের একটি সোনার চেইন ও পায়ের নূপুর ফেরত দেওয়ার কথা বলে রহমত মিয়া তাঁকে মহম্মদপুরের মধুমতী সেতুর ওপর দেখা করতে ডাকেন।
সাদিয়া বলেন, আমি মেয়েকে নিয়ে সেখানে যাই। কথা বলার একপর্যায়ে রহমত আমার কোল থেকে মেয়েকে নিয়ে গাড়িতে ঘুরিয়ে আনার কথা বলে দ্রুত চলে যায়। আমি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ফিরে না আসায় পরে জানতে পারি, মেয়েকে নিয়ে সে নিজের বাড়িতে চলে গেছে।

পরে মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে সাদিয়া তাঁর মা আফরোজা বেগম, এক আত্মীয়া এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য ইরানি বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রহমতের বাড়িতে যান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাড়িতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর রহমত মিয়া, তাঁর বাবা ও ভাই বাড়ির দুই পাশের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন, যাতে কেউ ভেতরে প্রবেশ বা বের হতে না পারে।
এরপরই শুরু হয় মারধর।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাদিয়া বলেন, রহমত আমাকে লাঠি ও বুট দিয়ে মারধর করে। দেয়ালে মাথা ঠুকে দেয়। গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। আমার মা, খালা, মামী ও ইউপি সদস্য ইরানি বেগমকেও মারধর করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইরানি বেগমও একই ধরনের অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, বাড়ির দুই গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। একপর্যায়ে রহমত আমার গলা চেপে ধরে। আমি গোপনে আমার স্বামীকে ফোন করে বিষয়টি জানাই। পরে তার সহযোগিতায় পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে। রাতেই আহত অবস্থায় সাদিয়া ইসলাম ও তাঁর মা আফরোজা বেগমকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু আহসান জানান, শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দুই নারী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তিনি বলেন, সাদিয়া ইসলামের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক জটিল ছিল। তিনি তীব্র আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তাঁর আঘাতের মাত্রা মূল্যায়নে মেডিকেল বোর্ড কাজ করছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।

তবে রহমত মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি দাবি করেন, কন্যাসন্তানকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়নি। বরং সন্তানের মা স্বেচ্ছায় মেয়েকে তাঁর কাছে রেখে গিয়েছিলেন। রহমত বলেন, মেয়েকে আমি ছিনিয়ে নিইনি। পরে তারা এসে জোর করে নিয়ে যেতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। যৌতুক, নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগকেও তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি একজন ভারতীয় নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তাঁর দাবি, প্রথম স্ত্রী সাদিয়ার সম্মতিতেই সেই বিয়ে হয়েছিল।

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান বলেন,
স্থানীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। তিনি আরও জানান, এটি মূলত প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পারিবারিক বিরোধ। তবে ভুক্তভোগী পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতালের সাদা বিছানায় শুয়ে থাকা সাদিয়া ইসলামের চোখে এখন নেই কোনো স্বপ্নের সংসারের ছবি। আছে শুধু সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠা এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা।
অন্যদিকে জাতীয় দলের ফুটবলার রহমত মিয়া দাবি করছেন, সত্য প্রকাশ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অসারতা প্রমাণিত হবে।
এখন অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একটি ছোট্ট শিশু, একটি ভেঙে যাওয়া সংসার এবং ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা এক তরুণীর দীর্ঘশ্বাস!

মোঃ সাইফুল্লাহ, মাগুরা।
তাং ০৭/৬/২০২৬ইং


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]