মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন
মোঃ সাইফুল্লাহ,
মাগুরা প্রতিনিধি// মাগুরার
ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের শৃঙ্খলা ও পড়া লেখার মান উন্নয়নে ব্যতিক্রমী নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিভাবকসহ এলাকার শিক্ষানুরাগীগণ।
ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে ফিরেছে শৃঙ্খলা বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি! উল্লেখোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল হাজিরা, ইউনিফর্ম ছাড়া ক্লাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ক্লাসে ৭০% উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, প্রতিটি ক্লাসে উপস্থিত থাকাসহ শিক্ষা বান্ধব নানা উদ্যোগ চোখে পড়েছে।
ট
এতে কলেজটির প্রশাসনিক কাঠামো থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের মাঝেও শৃঙ্খলা ফিরেছে! প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে চোখে পড়ার মত। কলেজ টাইমে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে।
একাদশ শ্রেণীর ছাত্র তানভীর সিফাত গণমাধ্যমকে জানান, কলেজের প্রথম দিন থেকেই শিক্ষকরা আমাদের ডিজিটাল হাজিরার ডিভাইসটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। প্রতিদিন যখন কলেজে আসি এবং বের হই প্রতিবার একবার করে মেশিনটির সামনে দাড়ায়। এসময় আমাদের ফেস স্ক্যান করে তারা আমাদের একটি হাজিরা তৈরি করে এবং সেটি আমাদের অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেয়। এছাড়াও আরো অনেক নিয়ম রয়েছে সেগুলো আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।
একাদশ শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান জানায়, কলেজের ব্যতিক্রমী যে নিয়ম গুলো রয়েছে সে গুলো চালু থাকলে শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকবে। আমরা সুশৃঙ্খল ভাবে কলেজ ক্যাম্পাসে থাকতে পারবো। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার ভালো পরিবেশ তৈরি হবে।
কলেজটির সহকারী শিক্ষক সাদাত হোসেন জানান, ডিজিটাল হাজিরা একটি ওয়েব সাইটের সাথে সংযুক্ত। শিক্ষা মন্ত্রালয় থেকে উচ্চ পর্যায়ে যারা আছেন তারা এটি মনিটরিং করছেন। আমরা একজন স্টুডেন্ট কখন কলেজে আসছে ও কখন বের হচ্ছে এটা রেকর্ড থাকছে। যখনি একজন স্টুডেন্ট কলেজ উপস্থিত হচ্ছে এবং কলেজ থেকে বের হচ্ছে তখনই তার বাবা-মা অথবা অভিভাবক তাদের মোবাইলে একটি মেসেজ পাচ্ছে। অনুরুপ যদি কোনো স্টুডেন্ট অনুপস্থিত থাকে তাহলেও তার অভিভাবক মেসেজ পাবে।
আরেক সিনিয়র শিক্ষক মোঃ নাসিরুল ইসলাম বলেন – শিক্ষার পাশাপাশি কলেজে সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করছি,কেউ যদি অসুস্থ হয়ে পরে আমরা তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকি। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলেজর সার্বিক সহযোগিতায় হাসপাতালেও পাঠায়!
এ বিষয়ে শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ এর অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহা জানান, ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ। এটি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের বহু শিক্ষার্থী যারা অগ্রসর, তারা দেশ এবং দেশের বাইরে প্রশাসন, শিক্ষা এবং দেশের যাবতীয় যেখানেই কাজ করার সুযোগ, সেখানে কাজ করে ব্যক্তি, পরিবার এবং দেশকে সমৃদ্ধ করছে।
দেশ একটি বিশেষ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যখন চলমান, তখন দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, শিক্ষার্থীরা শ্রেণী পাঠ বিমুখ হয়ে পড়ে। এই পর্যায়ে সরকার বিভিন্ন ভাবে প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমাদেরকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজের একাডেমিক কাউন্সিল এবং শিক্ষক পরিষদ পর পর কয়েকটি সভা করে তাদের কর্মপন্থা নির্ধারণ করে। এবং তারই অংশ হিসেবে আমরা আমাদের শিক্ষাকর্মী কার্যক্রমে পরিবর্তন এনেছি।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ যদি ৭০ ভাগ হয়, তাহলে আমরা কলেজিয়েট হিসেবে গণ্য করবো। ৭০ ভাগের নিচে ৬০ ভাগ পর্যন্ত নন-কলেজিয়েট হিসেবে গণ্য হবে। এবং ৬০ এর নিচে হলে ডিস-কলেজিয়েট হতে হবে। আমরা শিক্ষার্থীদেরকে এই ব্যাপারে সতর্ক করেছি। অভিভাবকরা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের সন্তানদেরকে শ্রেণী পাঠে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছেন। আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আমাদের শিক্ষার্থীদের শতভাগ ইউনিফর্ম আমরা বাস্তবায়ন করেছি। ইউনিফর্ম পরে গলায় কলেজের আইডি কার্ড ঝুলিয়ে শ্রেণী পাঠে অংশ নিতে হয়। ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হয়। আমরা সকাল সাড়ে দশটার পরে কলেজ গেট বন্ধ করে দিয়েছি। কলেজ গেটে সাড়ে দশটার পরে কোন শিক্ষার্থী প্রবেশ করতে পারবে না। তবে যদি কোন কাজে আসেন, সেক্ষেত্রে অনুমোদন গ্রহণ সাপেক্ষে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন এবং তার যে কাজ সেটি করতে পারবেন।
আমরা শুধু একাডেমিক কার্যক্রমেই নয়, একাডেমিক কার্যক্রমের বাইরে আমরা কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসেও পদক্ষেপ নিয়েছি। নজরুল বর্ষ চলমান আছে। নজরুল বর্ষে আমরা নজরুলের উপরে নজরুল জয়ন্তীতে তার কবিতা, গান, নৃত্য, রচনা প্রতিযোগিতা এগুলির আয়োজন করেছি এবং আমাদের শিক্ষার্থীরা যারা ভালো করেছে তাদেরকে উপজেলা পর্যায়ে প্রেরণ করা হয়েছে। উপজেলা থেকেও তিন ইভেন্টে আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রথম স্থান অধিকার করে জেলায় যাচ্ছে। আমরা আমাদের কৃতি শিক্ষার্থীদেরকে স্বাগত জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন শিক্ষার মান বাড়াতে আমরা শিক্ষকদের দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সকল শিক্ষকদের কলেজে থাকা বাধ্যতামূলক! তবে যদি কোনো শিক্ষক এর ক্লাস থাকে উনাকে ক্লাস নিয়েই যেতে হবে।
এভাবে সমগ্র কলেজ পরিবারকে আমাদের একাডেমিক, ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল, কো-কারিকুলার এবং ইকোনমিক – চারটি শাখায় আমরা কাজ করে কলেজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এলাকাবাসী এলাকার সুধীজন, সুশীল সমাজ আমাদেরকে সহযোগিতা করছেন। প্রশাসন নিরন্তর ভাবে আমাদের সাহায্য করছেন। আমরা সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
মোঃ সাইফুল্লাহ, মাগুরা।
তাং১৩/১০/২০২৬ইং