শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে পাম্পে ড্রামে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারণ,সাংবাদিককে মারধর করলো পুলিশ! উক্ত পুলিশ ক্লোজ! *ফিল্ড মার্শালের ইটে-ইটে গড়া শান্তির দেয়াল* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

১৪ দল ও জাতীয় পার্টির উপর ভর করে আওয়ামী লীগ পুণর্বাসনের নির্বাচন —অধ্যাপক এম. এ. বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৫৩ বার ভিউ
সময়ঃ শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন

১. ভূমিকা :

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করেছে। তবে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলেও তাদের মিত্রজোট ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টিকে সক্রিয় রাখা একটি কৌশলগত ভুল হতে পারে। কেননা এই দুটি রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবন ও ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের জন্য কার্যকর বাহন হয়ে উঠতে পারে।

২. আওয়ামী লীগ ও তার উপগ্রহ সংগঠনসমূহ :
আওয়ামী লীগ কখনোই এককভাবে রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকেনি; বরং ১৪ দলের জোট এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে তাদের ক্ষমতার পরিধি বিস্তৃত করেছে। এই জোটকে অক্ষত রেখে কেবল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা মানে হলো মূল গাছ কেটে রেখে শিকড়কে অক্ষত রাখা। ফলত, নতুন কোনো নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শক্তি আবারও অঙ্কুরোদ্গম ঘটাতে সক্ষম হবে।

৩. জাতীয় পার্টির সুবিধাভোগী নেতৃত্ব :
জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের আমলে প্রভাবশালী অংশীদার ছিল।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতির মর্যাদা, সংসদে বিরোধীদলের চেয়ার, এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কৃপায়।

রওশন এরশাদ বিরোধীদলীয় নেতার পদ ভোগ করেছেন, যদিও তিনি ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় ছিলেন।

জি এম কাদের বাণিজ্য ও শিল্প খাতে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেছেন এবং পারিবারিক স্বার্থ সংরক্ষণ করেছেন।

জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী পদ পেয়েছেন—যেমন কাজী ফিরোজ রশীদ, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মশিউর রহমান রাঙ্গা প্রমুখ।
এসব সুবিধার বিনিময়ে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে বৈধতা দিয়েছে এবং বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করেছে।

৪. ১৪ দলের সহযোগী দলের সুবিধাভোগী নেতৃত্ব :
১৪ দল মূলত আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন বহু বছর মন্ত্রী ছিলেন (পর্যটন, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়), সরকারি তহবিল ও রাজনৈতিক প্রভাব ভোগ করেছেন।

বাংলাদেশ জাসদের হাসানুলত হক ইনু তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে সরকারপন্থী প্রচারযন্ত্রের অন্যতম কুশীলব ছিলেন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (মেনন-ইনু শাখা) নেতারা বিভিন্ন কমিশন ও সরকারি বোর্ডে নিয়োগ পেয়েছেন।

বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ধর্মীয় খাতের নানা বরাদ্দ, হজ ব্যবস্থাপনা ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাথে আর্থিক সুবিধা পেয়েছে।

ন্যাপ, গণতান্ত্রিক পার্টি ইত্যাদি ক্ষুদ্র সহযোগী দল সংসদীয় আসন, সরকারি তহবিল, বিদেশ সফর, এবং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মর্যাদাপূর্ণ আসন ভোগ করেছে।

৫. নির্বাচনের আগে করণীয় :
আগামী নির্বাচনের আগে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, বরং ১৪ দলের সবকটি দল ও জাতীয় পার্টিকে একযোগে নিষিদ্ধ করতে হবে।
কারণ—

এই দলগুলো আওয়ামী লীগের শাসনামলে সুবিধাভোগ করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে;

নির্বাচনের মাঠে তারা আওয়ামী লীগের প্রক্সি বাহিনী হিসেবে কাজ করবে;

তাদের অক্ষত রেখে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ নামক ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন অনিবার্য হয়ে উঠবে।

৬. উপসংহার :
বাংলাদেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য আওয়ামী লীগকে এককভাবে নয়, বরং তাদের সহযোগী জোট ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করা অপরিহার্য। অন্যথায়, আগামী নির্বাচনে কিংবা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বিন্যাসে আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবন নিশ্চিত হয়ে পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]