শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন মাগুরায় ৭ ভুয়া সিআইডি সদস্য আটক, নারী অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ! Bangladesh: Emerging as a Key Strategic Nexus in the Defence Relations of India, China and the Middle East- Professor M. A. Barnik* বাংলাদেশ : ভারত-চীন-মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হচ্ছে* *–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

অভ্যুত্থানের বেনিফিশারি বিএনপি: কেন জুলাই বিপ্লবের নায়করা শঙ্কায়? —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ২১১ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৫ অপরাহ্ন

১. ভূমিকা :

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান—তিনটি যুগান্তকারী ঘটনা। প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও, ক্ষমতার রাজনীতিতে বিএনপির অবস্থান বিশ্লেষণ করলে একটি স্পষ্ট মিল পাওয়া যায়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অভ্যুত্থান বা গণঅভ্যুত্থানের নায়কদের অবমূল্যায়ন করেছে। ফলে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে—জুলাই বিপ্লবের নায়করা কি একই পরিণতির মুখোমুখি হবেন?

২. ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও বিএনপির জন্মসূত্র :

১৯৭৫ সালের সেনা-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। সেই অভ্যুত্থানের পরবর্তী বৈধতা প্রদান ও ধারাবাহিকতার মাধ্যমেই বিএনপির জন্ম হয়।

বিএনপি প্রকৃত অর্থে ছিল ওই অভ্যুত্থানের সরকারি বেনিফিশারি।

অথচ ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান অনেক অভ্যুত্থান-নেতাকে বিশ্বাস না করে কারাগারে পাঠান ।

এখানেই প্রমাণিত হয়, বিএনপি নিজের উৎস-ঘটনার নায়ককেও অবমূল্যায়ন করেছে।

৩. ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান ও বিএনপির ভূমিকা :

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান সামরিক শাসক এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে। তৎকালীন ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত করে। কিন্তু—

১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও, গণঅভ্যুত্থানের নায়কদের কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়নি।

আন্দোলনের ছাত্রনেতারা ইতিহাসের প্রান্তে চলে যান, আর রাজনৈতিক ফসল ভোগ করে কেবল দলগুলো।

এটিও বিএনপির আরেকটি ঐতিহাসিক উদাহরণ, যেখানে গণঅভ্যুত্থানের নায়কদের যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়নি।

৪. ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও বিএনপির অবস্থান :

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক বাঁক। কিন্তু বিএনপির অবস্থান থেকে দেখা যাচ্ছে—

তারা জুলাই সনদকে সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে অনিচ্ছুক।

আন্দোলনের নায়কদের স্বীকৃতি দিতে গড়িমসি করছে।

ফলে যৌক্তিক আশঙ্কা তৈরি হয়—বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই বিপ্লবের নেতাদেরও ১৯৭৫ ও ১৯৯০ সালের মতো অবমূল্যায়ন ও প্রান্তিককরণ অপেক্ষা করছে।

৫. অন্তর্বর্তী সরকার ও জুলাই সনদের বৈধতার প্রশ্ন :

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একটি সঙ্কটময় পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে।

যদি তিনি জুলাই সনদকে সাংবিধানিক বৈধতা না দেন এবং কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব শেষ করেন, তবে বিএনপি ক্ষমতায় এসে শুধু জুলাই বিপ্লবের নায়ক নয়, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরও আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারে।

অর্থাৎ, যারা আজ অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে আছেন, তারাও আগামীতে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন।

এ অবস্থায় তাদের বাঁচার একমাত্র পথ—
(১). আগে জুলাই সনদকে সাংবিধানিক ভিত্তি প্রদান,
(২). তারপর গণপরিষদের নির্বাচন,
(৩). নতুন সংবিধান প্রণয়ন,
(৪). এবং শেষ ধাপে সেই সংবিধানের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন।

শুধুমাত্র এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বিপ্লবের অর্জনকে সুরক্ষিত করবে এবং নেতৃবৃন্দকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রতিশোধ থেকে রক্ষা করবে।

৬. যৌক্তিক বিঢশ্লেষণ :

(১). ১৯৭৫ সালে অভ্যুত্থানের বেনিফিশারি হয়েও বিএনপি অভ্যুত্থান-নায়কদের কারাগারে পাঠিয়েছে।
(২). ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান পর ক্ষমতায় আসলেও বিএনপি নায়কদের কোনো স্বীকৃতি দেয়নি।
(৩). বর্তমানে জুলাই সনদকে স্বীকৃতি দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে।
(৪). অতএব, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জুলাই বিপ্লবের নায়করা ও এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাও আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হতে পারেন।
(৫). এই পরিস্থিতি এড়াতে একমাত্র উপায় হলো সাংবিধানিকভাবে জুলাই সনদের স্বীকৃতি, গণপরিষদের নির্বাচন ও নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন।

৭. উপসংহার :

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির চরিত্র স্পষ্ট—তারা অভ্যুত্থান বা গণঅভ্যুত্থানের নায়কদের সম্মান দেয়নি। ১৯৭৫, ১৯৯০ এবং ২০২৪—এই তিন পর্বে একই ধারা প্রতিফলিত হয়েছে।
অতএব, জুলাই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, গণপরিষদ নির্বাচন ও নতুন সংবিধান প্রণয়ন ছাড়া জুলাই বিপ্লবের অর্জন রক্ষা করা সম্ভব নয়। অন্যথায়, ইতিহাস পুনরাবৃত্ত হবে, এবং কেবল জুলাই বিপ্লবের নায়ক নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]