বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম স্বপনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য একটি প্রভাবশালী মহল জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে চিকিৎসক সমাজ, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৭ বছর বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগকারী হিসেবে পরিচিত শফিকুল ইসলাম স্বপনকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চেয়ারম্যান পদে বসানোর চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম স্বপন নরসিংদীর ফটিকুন্নেসা ইদ্রিস হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন।
সূত্র দাবি করেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তিনি কলেজটির অধ্যক্ষ পদ লাভ করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. দিলীপ কুমার রায় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ডা. ইফতেখারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি ওই পদে নিয়োগ পান।
বিভিন্ন সময়ে নরসিংদীর সাবেক মেয়র কামরুজ্জামান, সাবেক মেয়র আমজাদ হোসেন বাচ্চু এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মতিন ভূঁইয়ার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে দেখা গেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাকে আওয়ামী ঘরানার ব্যক্তি হিসেবেই বিবেচনা করছেন অনেকে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বিএনপিমুখী অবস্থান নিয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এদিকে, সরকার প্রণীত “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩” অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে। কাউন্সিলের অধীনে থাকবে গভর্নিং বডি ও নির্বাহী পরিষদ। গভর্নিং বডিতে সংসদ সদস্যসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা সম্পৃক্ত থাকবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের ৬৭টি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী, ৪৮ হাজার ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসক এবং আড়াই হাজারের বেশি গ্র্যাজুয়েট বিএইচএমএস চিকিৎসকের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির জন্য একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শফিকুল ইসলাম স্বপন এসএসসিতে কলা বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় একাধিকবার অকৃতকার্য হন। পরে তিনি ডিএইচএমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এমন একজন ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ এ পদে বসানোর পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
চিকিৎসক সমাজের অনেকে মনে করছেন, দেশের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্য, সৎ, ত্যাগী ও অভিজ্ঞ চিকিৎসককে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে একনেক সভায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে ১০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেন। এর ধারাবাহিকতায় রাজধানীর মিরপুরে সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও ১০০ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়, যা দীর্ঘ চার দশক ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা, সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একজন যোগ্য, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেবে।