মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিজয়ে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাজউক কর্মকর্তা গ্রেফতার: নারী সাংবাদিক হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় জামায়াতের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত Without Classrooms, Education Remains Incomplete* *—-Professor M A Barnik শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে প্রকৃত মানুষ তৈরি অসম্ভব* *—–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* A Voice of Principle in Parliament Barrister Nowshad Zamir—Professor M. A. Barnik ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা –অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

বিনোদন জগতের মহারাণী ‘সাফিনা পার্ক’: দেশব্যাপি ছড়িয়েছে গোদাগাড়ী নাম

সংবাদদাতা / ৩৫ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন

অলিউল্লাহ :-

​উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার রাজশাহী জেলা। আর এই জেলারই এক পরিচিত উপজেলা গোদাগাড়ী। যার নাম শুনলেই এক সময় চোখে ভেসে উঠত সীমান্তবর্তী এলাকার রুক্ষতা কিংবা মাদক নিয়ে কিছু নেতিবাচক শিরোনাম। তবে সময়ের চাকা ঘুরেছে; গত এক দশকে সেই রুক্ষতা ছাপিয়ে গোদাগাড়ীর মুকুটে যুক্ত হয়েছে এক উজ্জ্বল পালক— ‘সাফিনা পার্ক ও রিসোর্ট’। শুধু রাজশাহী নয়, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আর বিশালতার কারণে এটি এখন দেশজুড়ে পর্যটকদের কাছে এক নতুন গন্তব্য।

২০১২ সালে দুই সহোদর ফজলুর রহমান ও সাইফুল ইসলামের হাত ধরে উপজেলার দিগ্রাম এলাকার খেঁজুরতলায় মাত্র ৩২ বিঘা জমিতে গড়ে ওঠে সাফিনা পার্ক। বর্তমানে সেই পার্কটির পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ বিঘায়। বিশাল এই এলাকা জুড়ে রোপণ করা হয়েছে দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ, যা পুরো এলাকাকে একটি ‘অক্সিজেন হাবে’ পরিণত করেছে।

​সাফিনা পার্কের প্রতিটি কোণ সাজানো হয়েছে রুচিশীল ও আধুনিক সব বিনোদন উপকরণ দিয়ে। দর্শনার্থীদের ভিড় মূলত কাড়ে এখানকার প্রযুক্তিগত চমকগুলো:​ ৫ডি ও ৯ডি সিনেমা: উত্তরবঙ্গের খুব কম জায়গায় এমন রোমাঞ্চকর ভার্চুয়াল রিয়ালিটি অভিজ্ঞতার সুযোগ আছে।​

কৃত্রিম জীববৈচিত্র্য: শিশুদের জন্য কথা বলা গাছ, প্রাগৈতিহাসিক ডাইনোসর এবং নানা পশু-পাখির নিখুঁত ভাস্কর্য যেন এক জীবন্ত রূপকথার জগত।​ ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চার: লেকের শান্ত নীল জলে প্যাডেল বোট থেকে শুরু করে গতির রোমাঞ্চে ভরা স্পিড বোট রাইড—সবই মিলবে এখানে।​ ফটোগ্রাফি জোন: নান্দনিক ঝর্ণা বা ফাউন্টেন আর বাহারি সব স্থাপত্য একে দিয়েছে একটি আধুনিক ‘সেলফি স্পট’ এর মর্যাদা।

সাফিনা পার্ক কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, এটি স্থানীয়দের জন্য এক আশীর্বাদ। কয়েকশ বেকার যুবকের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে এখানে। এলাকার ছোট ছোট ব্যবসায়ীরাও এখন লাভের মুখ দেখছেন। পার্কের ভেতরে পর্যটকদের কেনাকাটার সুবিধার জন্য স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক মার্কেট।

রাত্রিযাপনের জন্য রয়েছে আধুনিক এসি ও নন-এসি রিসোর্ট এবং যেকোনো করপোরেট সভার জন্য প্রস্তুত রয়েছে সুপরিসর এসি কনফারেন্স রুম। ফলে এটি এখন কেবল সাধারণ পর্যটক নয়, বরং অফিসিয়াল বনভোজন বা গেট টুগেদারের জন্য প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে।

তবে বড় এই প্রতিষ্ঠানের পথচলা সব সময় মসৃণ ছিল না। পার্কের অপারেশন ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা সব সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। যদিও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল মাঝেমধ্যে অপপ্রচার চালায়, কিন্তু আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য সাফিনা পার্ককে সারা দেশের শীর্ষস্থানীয় বিনোদন কেন্দ্রে উন্নীত করা।”

ঢাকা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে রাজশাহীতে এসে সরাসরি বাস, সিএনজি বা অটো রিক্সায় চড়ে যাওয়া যায় গোদাগাড়ী। উপজেলা সদর বা জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটারের দূরত্বে গেলেই দেখা মিলবে গ্রামীণ স্নিগ্ধতায় ঘেরা এই আধুনিক বিনোদন পার্কের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]