বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মহেশপুর অডিটোরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারের মেরামত ও সংস্কার কাজের উদ্বোধন চন্দনাইশে মোবাইল কোর্টের অভিযানে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদনে বেকারিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা মাগুরার শ্রীপুরে এক পক্ষের খুন, অন্য পক্ষের বাড়িতে তাণ্ডব! আসামির তালিকায় নাম না থাকলেও ভাঙচুর-লুটপাটের শিকার দুই পরিবার! সরকারি কাজে আবেগ নয় বিবেক দিয়ে কাজ করতে হবে- মাগুরায় পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম Khalilur Rahman Presides, Tarique Rahman Speaks: Two Bangladeshi Voices on the UN Stage* *—Professor M. A. Barnik ড. খলিলুর রহমান সভাপতি, তারেক রহমান বক্তা—জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের এমন উপস্থিতি কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?* *—অধ্যাপক এমএ বার্ণিক চট্টগ্রাম জেলার বিশেষ পুরস্কার পেলেন চন্দনাইশ থানার ওসি এস.এম দিদারুল ইসলাম সিকদার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষনার পর পর নির্বাচনী হাওয়া চন্দনাইশে ভোটের মাঠে প্রস্তুত বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা মাগুরায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত মাগুরা শ্রীপুরের খামারপাড়া বাজারে দূর্ধর্ষ চুরি সংগঠিত

ড. খলিলুর রহমান সভাপতি, তারেক রহমান বক্তা—জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের এমন উপস্থিতি কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?* *—অধ্যাপক এমএ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৫ বার ভিউ
সময়ঃ বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের দুই বিশিষ্ট ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেশের কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্ব এবং তারেক রহমানের বক্তৃতা—দুটি ঘটনাই বাংলাদেশের জন্য মর্যাদা, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার বার্তা বহন করছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো দেশের প্রতিনিধির সভাপতিত্ব করা নিঃসন্দেহে একটি বড় সম্মানের বিষয়। এটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকারও প্রতিফলন। ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্ব বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের আস্থার ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এই আস্থার প্রকৃত তাৎপর্য নির্ভর করে বাংলাদেশ কীভাবে বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে নিজের অগ্রাধিকার, নীতিগত অবস্থান ও আলোচনার সক্ষমতা কাজে লাগায় তার ওপর। সভাপতিত্বের মর্যাদা তখনই কার্যকর কূটনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়, যখন তা আলোচনার এজেন্ডা প্রভাবিত করা, জোট গঠন এবং জাতীয় স্বার্থে সমর্থন আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, তারেক রহমানের বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অভিবাসন ও বৈশ্বিক শান্তির মতো ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে এমন মঞ্চের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে আন্তর্জাতিক বক্তৃতার মূল্য শুধু বক্তব্যের ভাষা বা আবেগে নয়; বরং সেখানে উত্থাপিত দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা, তথ্যভিত্তিকতা এবং বাস্তবায়নযোগ্য নীতির সঙ্গে এর সামঞ্জস্যে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে যদি দৃশ্যমান সামঞ্জস্য থাকে, তাহলে বক্তব্য কূটনৈতিক প্রভাব তৈরি করতে পারে; অন্যথায় তা কেবল আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকি থাকে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য জাতিসংঘের মঞ্চে দৃশ্যমান উপস্থিতি কেবল প্রতীকী নয়, বাস্তব কূটনৈতিক সুবিধাও এনে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, জলবায়ু তহবিলের দাবি জোরদার এবং বহুপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে এ ধরনের উপস্থিতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি রোহিঙ্গা সংকট, বাণিজ্যিক সুবিধা, প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো নির্দিষ্ট জাতীয় স্বার্থে আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগঠনের সুযোগও তৈরি করে। কিন্তু এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে প্রতীকী দৃশ্যমানতার পাশাপাশি ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ, দক্ষ দর-কষাকষি এবং সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থার সঙ্গে পরবর্তী পর্যায়ের সমন্বয় অপরিহার্য।

তবে এই অর্জনকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে রূপ দিতে হলে বক্তব্য ও নেতৃত্বের সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপের সমন্বয় জরুরি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করতে দেশের অভ্যন্তরে সুশাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা শেষ পর্যন্ত তার অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার বাস্তব রেকর্ডের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতিতে দলীয় বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারের বদলে জাতীয় ঐকমত্য, পেশাদার কূটনীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল থাকা দরকার।

সব মিলিয়ে, ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্ব এবং তারেক রহমানের বক্তৃতা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও কূটনৈতিক গুরুত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। এটি দেশের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণে আরও দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ, বাস্তবভিত্তিক ও কৌশলগত ভূমিকার প্রত্যাশাও তৈরি করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]