রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
*নুরুন্নাহার ইভা: এক সাহসী ফটোসাংবাদিকের নীরব কান্নার দিনলিপি* *—অধ্যাপক এমএ বার্ণিক* মাগুরায় জুলাই গণ অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে জামায়াতের মতবিনিময় সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামীর মৃত্যু মাগুরায় ভাই ভাই বেকারীকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ও দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার! তরুণ রেস্টুরেন্ট উদ্যেক্তা এস. আলম আলভির উদ্যাগে শহরে প্রথম প্যান এশিয়ান রেস্টুরেন্ট ‘নাযা’ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের জাতীয় পর্ব শুরু: ‘খেলাধুলাই পারে জাতিকে এক সুতোয় গাঁথতে’- প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক মাগুরায় আন্তর্জাতিক রেটিং দাবা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা সাইবার ইউজার দল (বিএনসিইউপি)’র সদস্য সচিব মোঃ মেজবাহুল ইসলাম মেজবা’র পিতা মোঃ হাফিজ উদ্দিন ইন্তেকাল করেন মাগুরায় মধুমতি নদী থেকে স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার! মাগুরার মহম্মদপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু!

*নুরুন্নাহার ইভা: এক সাহসী ফটোসাংবাদিকের নীরব কান্নার দিনলিপি* *—অধ্যাপক এমএ বার্ণিক*

সংবাদদাতা / ৯ বার ভিউ
সময়ঃ রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন

কখনো তিনি ছিলেন অন্যের কান্নার সাক্ষী। তাঁর ক্যামেরার লেন্স বন্দি করত মানুষের হাসি, বেদনা, সংগ্রাম আর স্বপ্ন। সমাজের অবহেলিত, নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের গল্প তিনি পৌঁছে দিতেন দেশের মানুষের কাছে। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—আজ সেই মানুষটিই নিজের জীবনের করুণ গল্প কাউকে বলতে পারেন না।

তিনি নুরুন্নাহার ইভা—দৈনিক দিন প্রতিদিন পত্রিকার একজন সাহসী ফটোজার্নালিস্ট।

জ্ঞানভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি ছিলেন এক আন্তরিক ও প্রাণবন্ত সহযাত্রী। হাসিমুখে ক্যামেরা হাতে ছুটে যেতেন সভা, সেমিনার, মানববন্ধন ও সামাজিক উদ্যোগে। বিশেষ করে নির্যাতিত ও নিপীড়িত নারীদের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর নীরব অঙ্গীকার।

২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর। জ্ঞানভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় একটি ১৫ দফা প্রস্তাব সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরে। রাজধানীর ইস্টার্ন কমলাপুর কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নুরুন্নাহার ইভাও।

কিন্তু কেউ জানতেন না, সেদিনই তাঁর জীবনের গতিপথ চিরদিনের জন্য বদলে যাবে।

অনুষ্ঠান শেষে তিনি হাটখোলায় নিজের অফিসে ফিরছিলেন। বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে পরিবহনের অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণহীন দুটি বাসের মাঝখানে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

মুহূর্তেই তাঁর শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়।

মানুষ ছুটে আসে। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তিনি প্রাণে বেঁচে যান, কিন্তু হারিয়ে ফেলেন তাঁর স্বাভাবিক চলার শক্তি। দীর্ঘ চিকিৎসার পর আজ তিনি স্থায়ী পঙ্গুত্বের বোঝা বয়ে চলেছেন।

এই দুর্ঘটনা শুধু একজন সাংবাদিককে নয়, ভেঙে দিয়েছে একটি পুরো পরিবারকে।

স্বামীহীন এই সংগ্রামী নারীর কাঁধেই ছিল দুই কন্যা ও এক পুত্রের লেখাপড়া, ভরণপোষণ এবং ভবিষ্যৎ গড়ার সমস্ত দায়িত্ব। ক্যামেরা ছিল তাঁর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। সেই ক্যামেরাই আজ নীরব। কর্মক্ষমতা হারিয়ে তিনি আর পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন না।

একসময় যিনি অন্যের বিপদের সময় ছুটে যেতেন, আজ তাঁর নিজের বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোর মানুষ খুব কম।

চিকিৎসার অভাবে প্রতিটি দিন তাঁর কাছে এক নতুন যন্ত্রণার নাম। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি নীরবে অশ্রু ঝরান। আত্মসম্মানবোধ তাঁকে কারও কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাততে দেয় না। নিজের কষ্ট বুকের ভেতর লুকিয়ে রেখে প্রতিদিন তিনি বেঁচে থাকার সংগ্রাম করে চলেছেন।

সমাজে এখনও অনেক মানবিক হৃদয় রয়েছে। হয়তো এই লেখাটি কোনো সহৃদয় মানুষের হৃদয় স্পর্শ করবে। হয়তো কেউ ভাববেন—একজন অসহায় মায়ের চোখের জল মুছে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদেরও আছে।

আপনি যদি নুরুন্নাহার ইভার চিকিৎসা, পুনর্বাসন কিংবা তাঁর সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করতে চান, তাহলে সরাসরি তাঁর বিকাশ নম্বরে সহায়তা পাঠাতে পারেন।

বিকাশ (পার্সোনাল): 01714-714719

মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাসটুকু এখনও যদি আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকে, তবে হয়তো নুরুন্নাহার ইভার জীবনের অন্ধকারে আবারও একফোঁটা আলোর প্রদীপ জ্বলে উঠতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]