রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম
দৈনিক নয়া দিগন্তের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের ফুলেল শুভেচ্ছা বাংলাভাষায় ছবি থেকে লেখা শনাক্ত করার প্রযুক্তি (OCR) ব্যবহার সমস্যা—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক Challenges in Using Optical Character Recognition (OCR) for the Bengali Language—-Professor M. A. Barnik জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘এআই বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় (AIBU)’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন,বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ! এআই-এর যুগে বাংলাভাষার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরায় জুলাই শহীদ আসিফ ইকবাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত পথিকদের বিশুদ্ধ পানির জন্য কালির বাজারে নলকূপ উদ্বোধন করেন জামায়াতে ইসলামী  মাগুরার শ্রীপুরে দূর্গাপুজায় মদপানে অসুস্থ হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু! মাগুরায় সাকের হত্যার বিচারের দাবিতে জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সংবাদ সম্মেলন

বাংলাভাষায় ছবি থেকে লেখা শনাক্ত করার প্রযুক্তি (OCR) ব্যবহার সমস্যা—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৩ বার ভিউ
সময়ঃ রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন

*১. OCR-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি* (Optical Character Recognition) হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যা ছবি, স্ক্যান করা নথি, বই, সংবাদপত্র ও দলিল থেকে লেখা শনাক্ত করে ডিজিটাল টেক্সটে রূপান্তর করে। এর মাধ্যমে লেখা কপি, সম্পাদনা, অনুবাদ ও সংরক্ষণ করা যায়। বাংলা ভাষার সাহিত্য, ঐতিহাসিক দলিল এবং সরকারি নথি ডিজিটালকরণে OCR অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
*২. বাংলা বই ও সাহিত্যের ডিজিটাল রূপান্তর*

বাংলা ভাষায় রচিত অসংখ্য পুরোনো বই, উপন্যাস, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও গবেষণাগ্রন্থ কাগজে মুদ্রিত অবস্থায় রয়েছে। OCR ব্যবহার করে এসব বইয়ের পৃষ্ঠার ছবি থেকে সম্পাদনাযোগ্য বাংলা টেক্সট তৈরি করা সম্ভব।

উপকারিতা:

(১) দুর্লভ বাংলা বই ডিজিটাল আকারে সংরক্ষণ করা যাবে।
(২) পুরোনো সাহিত্য অনলাইনে পাঠযোগ্য হবে।
(৩) বইয়ের লেখা কপি, সম্পাদনা ও অনুসন্ধান করা যাবে।
(৪) ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাংলা সাহিত্য সংরক্ষণ সহজ হবে।

*৩. বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণ*

বাংলা ভাষার ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত বহু মূল্যবান দলিল বিভিন্ন গ্রন্থাগার, সরকারি দপ্তর ও ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছড়িয়ে রয়েছে।

OCR-এর সাহায্যে এসব দলিল ডিজিটাল টেক্সটে রূপান্তর করে একটি সমৃদ্ধ বাংলা ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলা সম্ভব।

এর মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের দলিল, পুরোনো সংবাদপত্র, ঐতিহাসিক চিঠিপত্র, পাণ্ডুলিপি এবং গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম সংরক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ বাড়বে।

তবে হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সাধারণ OCR-এর পরিবর্তে বিশেষায়িত হস্তলিপি শনাক্তকরণ প্রযুক্তির প্রয়োজন হতে পারে।

*৪. বাংলা ভাষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন*

বাংলা ভাষায় কার্যকর AI ব্যবস্থা তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ নির্ভুল ও মানসম্মত বাংলা ডিজিটাল টেক্সট প্রয়োজন।

OCR-এর মাধ্যমে মুদ্রিত বই, সংবাদপত্র, গবেষণাপত্র ও অন্যান্য প্রকাশনা থেকে বাংলা টেক্সট সংগ্রহ করা যায়। যথাযথ যাচাই, সম্পাদনা এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি নিশ্চিত করে এসব তথ্য AI প্রশিক্ষণ ও ভাষা-গবেষণায় ব্যবহার করা সম্ভব।

এর ফলে— (১)বাংলা ভাষায় উন্নত AI সহকারী তৈরি করা সহজ হবে। (২)বাংলা প্রশ্নোত্তর ব্যবস্থা উন্নত হবে। (৩)বাংলা ভাষায় তথ্য অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়বে।
(৪) বাংলা থেকে ইংরেজি এবং ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদের মান উন্নত হতে পারে।
(৫) বাংলা ভাষাভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষ গুরুত্ব: শুধু OCR ব্যবহার করে টেক্সট সংগ্রহ করলেই AI উন্নত হবে না। সংগৃহীত লেখার নির্ভুলতা, বৈচিত্র্য, কপিরাইট, ভাষাগত মান এবং প্রতিনিধিত্বশীলতাও নিশ্চিত করতে হবে।

*৫. বাংলা ভাষার বানান ও ব্যাকরণ সংশোধন*

বাংলা OCR ব্যবহারের একটি বড় সমস্যা হলো ভুল অক্ষর শনাক্তকরণ। বিশেষ করে যুক্তাক্ষর, কার-ফলা, রেফ, য-ফলা এবং কাছাকাছি আকৃতির বর্ণ শনাক্ত করতে ভুল হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো পুরোনো বইয়ের লেখা OCR করার সময় একটি শব্দের অক্ষর ভুল শনাক্ত হলে শব্দটির অর্থও পরিবর্তিত হতে পারে।

এ সমস্যা সমাধানে OCR-এর সঙ্গে বাংলা বানান যাচাই, ব্যাকরণ বিশ্লেষণ এবং AI-ভিত্তিক প্রুফরিডিং প্রযুক্তি যুক্ত করা যেতে পারে।

এতে বাংলা ডিজিটাল লেখার গুণগত মান উন্নত হবে। তবে স্বয়ংক্রিয় সংশোধনের পর গুরুত্বপূর্ণ লেখা মানুষের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।

*৬. বাংলা সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের ডিজিটাল আর্কাইভ*

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বহু পুরোনো সংবাদপত্রের পৃষ্ঠা এখনো স্ক্যান করা ছবি বা মুদ্রিত কাগজের আকারে সংরক্ষিত রয়েছে।

OCR ব্যবহার করে এসব সংবাদপত্রকে অনুসন্ধানযোগ্য ডিজিটাল আর্কাইভে রূপান্তর করা সম্ভব।

এর ফলে গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও ইতিহাসবিদেরা সহজেই—

(১) অতীতের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ খুঁজে বের করতে পারবেন।
(২) রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলির ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করতে পারবেন।
(৩) বাংলা সাংবাদিকতার বিবর্তন সম্পর্কে গবেষণা করতে পারবেন।
(৪) বাংলা ভাষায় প্রকাশিত সংবাদ ও মতামতের ইতিহাস সংরক্ষণ করতে পারবেন।

*৭. সরকারি নথি ও প্রশাসনিক কাজে বাংলা OCR*

বাংলাদেশের সরকারি দপ্তরে বাংলা ভাষায় অসংখ্য নথি তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি গেজেট, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র, ভূমির দলিল, আদালতের নথি, শিক্ষা বোর্ডের কাগজপত্র এবং পেনশনসংক্রান্ত আদেশ।

OCR ব্যবহার করে এসব নথির তথ্য ডিজিটাল টেক্সটে রূপান্তর করা সম্ভব।

এর প্রধান সুবিধা: ১. প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত খুঁজে পাওয়া যাবে। ২. পুরোনো নথি সংরক্ষণ সহজ হবে। ৩. তথ্য পুনরায় টাইপ করার প্রয়োজন কমবে। ৪. বাংলা ভাষায় ডিজিটাল সরকারি সেবা সম্প্রসারণ করা যাবে। ৫. প্রশাসনিক কাজে সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে।

তবে ভূমির দলিল, আদালতের নথি এবং আর্থিক ও পেনশনসংক্রান্ত আদেশের ক্ষেত্রে OCR-এ শনাক্ত করা তথ্য মূল নথির সঙ্গে যাচাই না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

*৮. বাংলা শিক্ষাব্যবস্থায় OCR-এর ব্যবহার*

শিক্ষাক্ষেত্রে OCR-এর মাধ্যমে বাংলা পাঠ্যবই, সহায়ক বই, প্রশ্নপত্র ও শিক্ষামূলক উপকরণ ডিজিটাল করা সম্ভব।

এর ফলে—

(১) বাংলা বইয়ের ডিজিটাল পাঠাগার তৈরি করা যাবে।
(২) শিক্ষার্থীরা দ্রুত পাঠ্যবিষয় অনুসন্ধান করতে পারবে।
(৩) শিক্ষকরা পাঠ্যবস্তু সম্পাদনা ও পুনর্বিন্যাস করতে পারবেন।
(৪) বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যবস্তু সহজলভ্য করা যাবে।

OCR-এর সঙ্গে বাংলা টেক্সট-টু-স্পিচ প্রযুক্তি যুক্ত করলে মুদ্রিত বাংলা লেখা কম্পিউটার বা মোবাইলে পড়ে শোনানোও সম্ভব হবে।

*৯. দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বাংলা OCR*

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বাংলা ভাষায় তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করতে OCR গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একটি মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে বই, সংবাদপত্র, ওষুধের লেবেল কিংবা কোনো মুদ্রিত নথির ছবি তুলে তা টেক্সটে রূপান্তর করা সম্ভব। এরপর বাংলা টেক্সট-টু-স্পিচ প্রযুক্তির সাহায্যে লেখাটি পড়ে শোনানো যেতে পারে।

এতে বাংলা ভাষায় শিক্ষা, তথ্যপ্রাপ্তি ও দৈনন্দিন যোগাযোগের সুযোগ বাড়বে।

তবে এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাংলা OCR ও কণ্ঠসংশ্লেষ প্রযুক্তির নির্ভুলতার ওপর।

*১০. বাংলা ভাষার আঞ্চলিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ*

বাংলা ভাষার বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চারণ, শব্দভান্ডার ও কথ্যরীতির পার্থক্য রয়েছে। OCR মূলত লিখিত অক্ষর শনাক্ত করে; তাই আঞ্চলিক কথ্যভাষা সরাসরি শনাক্ত করা এর প্রধান কাজ নয়।

তবে আঞ্চলিক ভাষায় লেখা বই, লোকসাহিত্য, প্রবাদ-প্রবচন, পুরোনো পত্রিকা ও অন্যান্য মুদ্রিত উপকরণ OCR-এর মাধ্যমে ডিজিটাল করা সম্ভব।

এসব উপকরণকে যথাযথভাবে শ্রেণিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করা গেলে বাংলা ভাষার আঞ্চলিক বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা এবং ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ভাষাভিত্তিক AI তৈরির জন্য মূল্যবান তথ্যভান্ডার গড়ে উঠতে পারে।

*১১. বাংলা OCR-এর প্রধান প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ*

বাংলা ভাষার জন্য কার্যকর OCR তৈরি করতে কয়েকটি সমস্যার সমাধান জরুরি।

*(১) যুক্তাক্ষর শনাক্তকরণ:* বাংলা যুক্তাক্ষরের গঠন জটিল হওয়ায় ভুল শনাক্তকরণের আশঙ্কা থাকে।

*(২) কার ও ফলা শনাক্তকরণ:* ই-কার, ঈ-কার, উ-কার, ঊ-কার এবং বিভিন্ন ফলা সঠিকভাবে শনাক্ত করা প্রয়োজন।

*(৩) পুরোনো মুদ্রণশৈলী:* পুরোনো বাংলা ফন্ট, বিবর্ণ কাগজ ও অস্পষ্ট ছাপা শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।

*(৪) পৃষ্ঠার বিন্যাস:* একই পৃষ্ঠায় একাধিক কলাম, টেবিল, শিরোনাম, ফুটনোট ও ছবি থাকলে লেখার সঠিক ক্রম নির্ধারণে সমস্যা হয়।

*(৫) বাংলা-ইংরেজি মিশ্র লেখা:* একই নথিতে বাংলা ও ইংরেজি অক্ষর, সংখ্যা, তারিখ এবং বিশেষ চিহ্ন থাকলে শনাক্তকরণ আরও জটিল হতে পারে।

*(৬) মানসম্মত বাংলা ডেটার অভাব:* OCR মডেল প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য নির্ভুলভাবে যাচাই করা বাংলা নথির প্রয়োজন।

*(৭)মাননিয়ন্ত্রণ:* OCR-এর ফলাফল যাচাই ও সংশোধনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়তে পারে।

*১২. বাংলা ভাষার জন্য OCR উন্নয়নে করণীয়*

বাংলা ভাষাকে AI-এর যুগে শক্তিশালী অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে।

*(১) জাতীয় বাংলা OCR প্রকল্প*: বাংলা ভাষার জন্য উচ্চ নির্ভুলতাসম্পন্ন OCR প্রযুক্তি উন্নয়ন ও পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া।

*(২) বাংলা ডিজিটাল আর্কাইভ*: পুরোনো বই, সংবাদপত্র, পাণ্ডুলিপি ও ঐতিহাসিক দলিল ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা।

*(৩) মানসম্মত বাংলা ডেটাসেট*: বিভিন্ন যুগের বাংলা মুদ্রণশৈলী, ফন্ট ও নথির নমুনা নিয়ে যাচাইকৃত ডেটাসেট তৈরি করা।

*(৪)উন্মুক্ত গবেষণা*: গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ও ভাষাবিশেষজ্ঞদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে উন্মুক্ত প্রযুক্তি ও ডেটা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা।

*(৫) বাংলা বানান যাচাইয়ের সমন্বয়*: OCR-এর সঙ্গে বাংলা বানান, ব্যাকরণ ও প্রাসঙ্গিক শব্দ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত করা।

*(৬) সরকারি নথির ডিজিটালাইজেশন*: সরকারি গেজেট, আইন, প্রজ্ঞাপন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি নির্ভুলভাবে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া।

*(৭) মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা*: OCR-এ শনাক্ত করা লেখার নির্ভুলতা পরিমাপ, ভুল সংশোধন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি মানবীয় যাচাইয়ের আওতায় আনা।

*(৮) কপিরাইট ও তথ্যের নিরাপত্তা*: ডিজিটাল রূপান্তর ও AI প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত উপকরণের স্বত্ব, ব্যক্তিগত তথ্য এবং প্রবেশাধিকার সুরক্ষিত রাখা।

*১৩. বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ নির্মাণে OCR-এর কৌশলগত গুরুত্ব*

OCR কেবল ছবি থেকে লেখা শনাক্ত করার একটি প্রযুক্তি নয়; এটি বাংলা ভাষার মুদ্রিত জ্ঞানভান্ডারকে ডিজিটাল জগতে প্রবেশ করানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

বাংলা ভাষার বিপুল সাহিত্য, গবেষণা, ইতিহাস, প্রশাসনিক নথি ও শিক্ষামূলক উপকরণ যদি নির্ভুলভাবে ডিজিটাল টেক্সটে রূপান্তর করা যায়, তাহলে সেগুলো সংরক্ষণ, অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টির কাজে আরও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বাংলা ভাষাকে প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ করতে OCR, বাংলা ভাষা প্রক্রিয়াকরণ (NLP), স্পিচ প্রযুক্তি এবং বৃহৎ ভাষা মডেল (LLM)-এর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

সুতরাং, বাংলা OCR-এর উন্নয়নকে শুধু একটি প্রযুক্তিগত প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা না করে বাংলা ভাষার ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখা উচিত।

এর মাধ্যমে বাংলা ভাষায় জ্ঞান সংরক্ষণ, তথ্যপ্রাপ্তি, শিক্ষা, গবেষণা এবং AI-ভিত্তিক উদ্ভাবনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। *[ লেখক অধ্যাপক এম এ বার্ণিক একজন স্বীকৃত ভাষা-আন্দোলনের গবেষক, প্রথম ভাষা-আন্দোলন মিউজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা এবং জাতীয় ভাষানীতি (খসড়া)-এর রচয়িতা ও উপস্থাপনকারী।]*


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]