শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন মাগুরায় ৭ ভুয়া সিআইডি সদস্য আটক, নারী অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ! Bangladesh: Emerging as a Key Strategic Nexus in the Defence Relations of India, China and the Middle East- Professor M. A. Barnik* বাংলাদেশ : ভারত-চীন-মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হচ্ছে* *–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

বিএনপি কি এখন প্রো-ইণ্ডিয়ান পার্টি? —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ২৪২ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

১. বিএনপি কোন পথে :
বাংলাদেশের রাজনীতির মঞ্চ আজ এমন এক নাট্যমঞ্চ, যেখানে চরিত্রগুলো তাদের আসল পরিচয় গোপন করে বিদেশি রঙে রঙিন মুখোশ পরে আছে। সেই মুখোশের পেছনে কার হাসি, কার ষড়যন্ত্র—তা বোঝা যায় কেবল ইতিহাসের আয়নায় তাকালে। ভারতীয় প্রভাব ও বিএনপির বর্তমান রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, দলটির কণ্ঠস্বর যতটা ঢাকার গলিপথ থেকে শোনা যায়, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিধ্বনিত হয় দিল্লির করিডরে।

২. জ্যাকব মিল্টনের ব্যঙ্গচিত্র :

প্রখ্যাত ইউটিউবার জ্যাকব মিল্টন যেভাবে বিএনপিকে “ভারতীয় ন্যাশনালিস্ট পার্টি” আখ্যা দিয়েছেন, তা নিছক শব্দচাতুরী নয়; বরং বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের কূটচাল ও বিএনপির রাজনৈতিক আচরণের মধ্যে মিল-অমিলের সর্পিল সম্পর্কের এক রূপক উন্মোচন।
মিল্টনের ব্যঙ্গচিত্রে ধরা পড়ে—বিএনপি আসলে ভারতের স্বার্থরক্ষাকারী এক নীরব দূত। যেন গঙ্গার ঢেউ পদ্মার স্রোতকে গ্রাস করতে চাইছে, আর বিএনপি সেই স্রোতের সেতুবন্ধন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

৩. অতীতের বিএনপি : ভারতবিরোধিতার রাজনীতি :

২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিএনপি ছিল ভারতের কট্টর সমালোচক।

তিস্তা চুক্তি না হওয়া নিয়ে তারা আওয়ামী লীগকে দায়ী করত।

সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশিদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তীব্র বক্তব্য রাখত।

ট্রানজিট ও বিদ্যুৎ চুক্তির মতো বিষয়গুলোতে “ভারতের আধিপত্যবাদ” বলে নিন্দা জানাত।

সেই সময়ে বিএনপি জনগণের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করত “বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার একমাত্র শক্তি” হিসেবে।

৪. দাবির মিলনমেলা — বর্তমানের মিলনসুর :

কিন্তু ২০২৪-পরবর্তী সময়ে দৃশ্যপট বদলেছে। ভারতের স্বার্থ আর বিএনপির রাজনৈতিক কর্মতৎপরতা অনেক ক্ষেত্রে অভিন্ন হয়ে গেছে—

ভারত যেমন চায় রাষ্ট্রপতি “চুপ্পু”-কে বহাল রাখা, বিএনপিও তাই চায়।

ভারত যেমন সেনাপ্রধানকে সরাতে চায় না, বিএনপিও তেমনি নীরব।

ভারত যেমন আওয়ামী লীগ, ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে , বিএনপিও সুর তোলে সেই বাঁশিতে।

এ যেন দুই ভিন্ন কণ্ঠ, কিন্তু সুর এক; দুই ভিন্ন বাদ্যযন্ত্র, কিন্তু তাল এক।

৫. সংবিধানের ছায়াযুদ্ধ :

১৯৭২ সালের সংবিধান বহাল রাখা কিংবা নতুন সংবিধানের বিরোধিতা—এই প্রশ্নে আওয়ামী লীগ, ভারত ও বিএনপি যেন এক মঞ্চে একই নাটক অভিনয় করছে।
দর্শকরা শুধু ভিন্ন পোশাক দেখে বিভ্রান্ত হচ্ছে, কিন্তু সংলাপ একটাই—ভারতের আধিপত্য টিকিয়ে রাখা।

৬. গোয়েন্দা সংস্থার পদচারণা :

১৯৭৫ সালে শেখ হাসিনা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র”-এর প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন—সেই ইতিহাস আজও অম্লান। তিনি ছিলেন ভারতের রাজনৈতিক দাবার গুটির মতো; প্রতিটি চাল ভারতীয় স্বার্থকে সুদৃঢ় করেছে।
ঠিক তেমনি, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমদ “র”-এর প্রশিক্ষণ করতপ যান এবং গণ-অভ্যুত্থানের পরেই দেশে ফিরে আসেন। তার হাতে এখন দলের পতাকা, কিন্তু মূলে ভারতের ত্রিবর্ণ রঙের ছায়া। দলের প্রতিটি সিদ্ধান্ত যেন ভারতের পরামর্শপত্র থেকে অনুবাদ করা।

৭. ভারতের প্রভাবের বাস্তব রূপ :

ভারতের বাজারমুখী নীতি, পানি ভাগাভাগির ইস্যু, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বা বিদ্যুৎ আমদানির মতো প্রশ্নে বিএনপি কার্যত অওয়ামী প্রতিধ্বনি করছে।
তারা প্রতিবাদ দেখানোর ভান করে, কিন্তু মূলত ভারতকে ক্ষুব্ধ না করার জন্য ভাষা বেছে নেয় কূটনৈতিক নীরবতায়।
ফলে জনগণ মনে করছে—বিএনপি আজ আর পদ্মার কুমির নয়, বরং গঙ্গার পোষা মাছ।

৮. উপমায় বিএনপির বর্তমান চরিত্র :

তারা বাংলাদেশের মাটিতে বটগাছ লাগানোর ভান করে, কিন্তু শেকড় টেনে নেয় যমুনার ওপারে।
বিএনপির নেতৃত্ব ভারতের হাতে লেখা এক নাটকের সংলাপ পাঠ করছে, যেন কণ্ঠস্বর স্বাধীন হলেও চিন্তা পরাধীন।

৯., ভারতের ছায়াতলে বিএনপির আশ্রয় :

সুতরাং, বিএনপির নামকরণ যদি “ভারতীয় ন্যাশনালিস্ট পার্টি” হয়, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। এটি কেবল একটি ব্যঙ্গাত্মক নাম নয়, বরং বাস্তবতার প্রতীকী প্রতিধ্বনি।
অতীতে যেই দলটি ভারতবিরোধী স্লোগানে রাজনীতি করেছে, আজ সেই দলই ভারতের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে। বিএনপি এখন সেই আয়নার মতো, যেখানে বাংলাদেশের চেহারা প্রতিফলিত হওয়ার কথা থাকলেও দেখা যায় কেবল ভারতের ছায়া।

১০. জনমতের প্রতিক্রিয়া :

বিএনপির এই নাটকীয় রূপান্তর সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে—

ছাত্র সমাজ মনে করছে, বিএনপি আজ আদর্শের রাজনীতি ছেড়ে কেবল ক্ষমতায় ফেরার শর্টকাট খুঁজছে।

কৃষকরা প্রশ্ন তুলছে, সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে যখন কৃষকের প্রাণ যায়, তখন বিএনপি কেন নীরব?

প্রবাসীরা বলছে, বিএনপি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরার পরিবর্তে ভারতের মন জুগিয়ে চলে।

শহুরে মধ্যবিত্ত ভোটাররা ক্রমশ বিশ্বাস হারাচ্ছে—কারণ তারা দেখছে, বিএনপি আর আওয়ামী লীগের ভারতনীতি আসলে একই সুরের ভিন্ন রূপ।

ফলে বিএনপির ওপর আস্থাহীনতা বাড়ছে। দলটির নেতৃত্ব আজ দিল্লির স্বার্থরক্ষায় যতটা সক্রিয়, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে ততটাই নীরব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]