শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন মাগুরায় ৭ ভুয়া সিআইডি সদস্য আটক, নারী অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ! Bangladesh: Emerging as a Key Strategic Nexus in the Defence Relations of India, China and the Middle East- Professor M. A. Barnik* বাংলাদেশ : ভারত-চীন-মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হচ্ছে* *–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

*লাইফ–সাপোর্টে থাকা নেত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অনুমতি ছাড়া মনোনয়ন—একটি রাজনৈতিক অপরাধের করুণ দলিল* —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৪৩ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন

রাষ্ট্র ও রাজনীতির ইতিহাসে কিছু ঘটনা থাকে—যেগুলো কেবল নিয়মভঙ্গ নয়, নৈতিকতার কবর রচনা করে।

লাইফ–সাপোর্টে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্পষ্ট সম্মতি, শারীরিক সক্ষমতা ও সচেতন অনুমোদন ছাড়া যদি তাঁর নাম, স্বাক্ষর কিংবা তথাকথিত TIPS/টিপসই ব্যবহার করা একটি জালিয়াতির ঘটনা এবং মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া কোনো সাধারণ প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; এটি এক মর্মান্তিক রাজনৈতিক অপরাধ।
একজন জীবিত মানুষ যখন নিজের সিদ্ধান্ত জানানোর ক্ষমতা হারান, তখন তাঁর নীরবতাকে ব্যবহার করে ক্ষমতার কাগজপত্র সাজানো—এটি রাজনীতি নয়, এটি নৈতিক লাশের উপর দাঁড়িয়ে সুবিধা নেওয়া।
এই অপরাধের দায়ভার কার?
এই অপরাধের দায় কোনো একক ব্যক্তির নয়। দায় বহুমাত্রিক—
মনোনয়ন জমাদানকারী ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গ
যাঁরা জেনেশুনে এমন একজন নেত্রীর নাম ব্যবহার করেছেন, যিনি লাইফ–সাপোর্টে ছিলেন বা সিদ্ধান্ত দেওয়ার সক্ষমতায় ছিলেন না।
দলীয় দায়িত্বশীল নেতৃত্ব
যারা যাচাই না করে, বা জেনেও নীরব থেকে এই প্রক্রিয়াকে অনুমোদন দিয়েছেন।
আইনি পরামর্শদাতা ও মনোনয়ন প্রস্তুতকারীরা
যারা জানতেন বা জানার কথা ছিল—এই সম্মতি আইনসম্মত নয়।
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা (যদি যাচাই ছাড়া গ্রহণ করে থাকেন)
কারণ কমিশনের দায়িত্ব কেবল কাগজ নেওয়া নয়, বরং আইনের চোখে বৈধতা নিশ্চিত করা।
আইনের চোখে এটি কী?
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এটি হতে পারে—
ফৌজদারি জালিয়াতি (Forgery)
ভুয়া তথ্য প্রদান (Suppression of Material Facts)
প্রতারণা (Cheating)
ক্ষমতাহীন ব্যক্তির নামে দলিল ব্যবহার
নির্বাচনী আচরণবিধি ও Representation of the People Order (RPO) লঙ্ঘন
যদি প্রমাণিত হয় যে প্রার্থী বা দল জানত নেত্রী সিদ্ধান্ত দেওয়ার অবস্থায় নেই, তাহলে এটি mens rea (অপরাধমূলক অভিপ্রায়) সহ সংঘটিত অপরাধ।
নির্বাচন কমিশনের করণীয়—নীরবতা নয়, ন্যায়বিচার
নির্বাচন কমিশনের কাছে এই ঘটনায় নৈতিক ও সাংবিধানিক দায় রয়েছে। কমিশনের উচিত—
তাৎক্ষণিক তদন্ত কমিটি গঠন
মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা (যদি অনুমতি প্রমাণিত না হয়)
জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সুপারিশ
দলীয় পর্যায়ে লিখিত ব্যাখ্যা তলব
ভবিষ্যতে এমন অপব্যবহার রোধে কঠোর যাচাই নীতিমালা প্রণয়ন
কারণ, আজ যদি লাইফ–সাপোর্টে থাকা একজন নেত্রীর নাম এভাবে ব্যবহৃত হয়,
কাল রাষ্ট্রের যেকোনো অসহায় নাগরিকই কাগজে ‘ব্যবহারযোগ্য বস্তু’ হয়ে উঠবে।
শেষ কথা : রাজনীতির নামে মানবতার শোক
বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক নাম নন—তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়।
সেই অধ্যায়ের সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্তে তাঁর কণ্ঠহীনতাকে ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়া মানে—
রাষ্ট্রের নৈতিক মেরুদণ্ডে ছুরি চালানো।
এখানে বিচার না হলে রাজনীতি আর গণতন্ত্র নয়—
তা হয়ে উঠবে নীরব মানুষের স্বাক্ষর চুরি করার এক নিষ্ঠুর কারখানা।
নির্বাচন কমিশনের সামনে আজ একটি পরীক্ষা—
তারা কাগজের পাহারাদার থাকবে, না ন্যায়ের রক্ষক হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]