বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ন
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে সরকারি খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম ও খননকৃত মাটি বিক্রির অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের পর সরেজমিনে তদন্তে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
জানা গেছে, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কালিপুরা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ, ১২ ফুট প্রশস্ত ও ৭ ফুট গভীর সরকারি খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে খননকৃত মাটি গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, খাল খননের কাজ যথাযথ নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে না। বিশেষ করে খননকৃত মাটি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা না করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এতে সরকারের প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কিছু ব্যক্তি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করলে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পরপরই উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সফর আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খাল খনন ও মাটি বিক্রির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এ প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।