সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন
ঢাকা, ১৫ জুন:
ব্রিটিশ সরকারের প্রণীত আইন ও বিচারব্যবস্থা বাতিল করে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী যুগোপযোগী বিচারব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে গণঅধিকার পার্টি (পিআরপি)।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে গণঅধিকার পার্টি (পিআরপি)’র চেয়ারম্যান সরদার মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, দেশের বর্তমান বিচারব্যবস্থা কার্যকর নয় এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বহু আলোচিত মামলার অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে, যা বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “একই আদালত, একই বিচারক এবং একই বিচারব্যবস্থা থাকলেও ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক মামলার ফলাফল বদলে যাচ্ছে। এতে জনগণের মনে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে।”
সরদার আব্দুস সাত্তার দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা ও অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বিভিন্ন গবেষণা ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, সমাজে অপরাধ দমনে বর্তমান বিচারব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারছে না।
তিনি অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেন। প্রথমত, বিদ্যমান আইন ও বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা; দ্বিতীয়ত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তির বিস্তার, বিকৃত অনলাইন কনটেন্টের সহজলভ্যতা এবং নৈতিক শিক্ষার অভাব; তৃতীয়ত, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা।
গণঅধিকার পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, “আজ দেশে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শিশু, নারী, বৃদ্ধ—কেউই নিরাপদ নয়। অথচ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, ধর্ষক ও হত্যাকারীরা বিভিন্নভাবে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে।”
তিনি সাম্প্রতিক আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত রায়কে স্বাগত জানালেও বলেন, বিচার দ্রুত কার্যকর না হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত প্রকাশ করেন এবং দাবি জানান, ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিচার দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর, বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি (ডিএমপি)’র চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মুক্তি পার্টির চেয়ারম্যান মো. রবিউল আওয়াল, বাংলাদেশ একুশে পার্টির চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেম, গণঅধিকার পার্টি (পিআরপি)’র ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাব্বির খান, যুগ্ম মহাসচিব হাজী মো. তরিকুল ইসলাম এবং যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোবারক হোসেন।
অনুষ্ঠানের শেষে দেশবাসীর শান্তি, নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে মানববন্ধনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
।