শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন
বাহাউদ্দীন তালুকদার :
ঢাকার ব্যস্ততম সড়ক সোনারগাঁও ক্রসিং প্রতিদিনের মতোই যানবাহন আর মানুষের ব্যস্ততায় মুখর সড়কটি। এরই মধ্যে সড়কের দক্ষিণ পাশে পুলিশ বক্সের পেছনের রাস্তায় কান্নারত ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় দুটি শিশুকে দেখতে পান ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের ট্রাফিক তেজগাঁও জোনের সার্জেন্ট পলাশ কুমার রায়।
অসহায় শিশু দুটির কাছে ছুটে গিয়ে তাদের শান্ত করেন সার্জেন্ট পলাশ। কথা বলে জানতে পারেন, অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি তাদের চোখ বেঁধে একটি গোডাউনে নিয়ে আটকে রাখে। পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে তারা রাস্তায় চলে আসে।
শিশুদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে তাদের পরিবারের সন্ধান পান সার্জেন্ট পলাশ। জানতে পারেন, গত ১ অক্টোবর ২০২৬ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টায় স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই বগুড়ার দুই শিশু মো. রিয়ন (১১) ও মো. রনি (১৩) নিখোঁজ ছিল।
পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ঢাকায় অবস্থানরত তাদের মামার সঙ্গেও যোগাযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে দুই শিশুকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দুই শিশুর ভয়, কান্না ও অসহায়ত্বের মুহূর্তে সার্জেন্ট পলাশ কুমার রায় শুধু দায়িত্ব পালন করেননি; তিনি হয়ে উঠেছেন তাদের জন্য একজন নিরাপদ আশ্রয়। পুলিশের দায়িত্ব শুধু যানবাহন নিয়ন্ত্রণ বা ট্রাফিক আইন প্রয়োগে সীমাবদ্ধ নয়—বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোও পুলিশের মানবিক দায়িত্ব।
সার্জেন্ট পলাশ কুমার রায়ের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, সাহসিকতা ও মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এই মানবিকতায় নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরেছে দুটি শিশুর হাসি।