মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ডা. মো. আজিজুল হোসেন নবীনগরের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বাংলাদেশের গর্ব মাগুরায় জুলাই শহীদ দিবস ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত 35 Thermonuclear Bombs in Iran’s Possession: Russia’s Claim Sends Shockwaves Through Global Politics— Professor M. A. Barnik ব্যাংক ম্যানেজারের উপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে নবীনগরে মানববন্ধন  মাগুরার শ্রীপুরে রাস্তার বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে! ইরানের হাতে ৩৫টি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা: রাশিয়ার দাবিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভূমিকম্প—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরায় অনলাইন জুয়া চক্রের মাস্টার মাইন্ড আমিনুল গ্রেফতার! মাগুরায় কৃষি কর্মকর্তাকে ঝুলিয়ে পেটানোর হুমকি! যুবদল নেতা বহিস্কার! বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের শোক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই-(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।)

সংবাদদাতা / ২০৭ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

এতিম শিশু ইয়াহিয়ার বয়স এখন দশ বছর।মাত্র ১৪ মাস বয়সেই পিতৃহারা হয়েছিল।নয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তার পিতা হত্যার বিচার কাজ শুরু হয়নি।বাংলাদেশের আইন আদালত সম্পর্কে কি ধারণা পাচ্ছে সে?
২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারী রাত দুইটার দিকে কক্সবাজার রামু উপজেলার ঈদগড় শরীফ পাড়ায় ১৪ মাসের শিশু ইয়াহিয়া এবং তার মায়ের সামনে নিজ ঘরেই গভীর রাতে নির্মমভাবে খুন হয় ইয়াহিয়ার পিতা রামু ঈদগড় বড়বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জনপ্রিয় সহকারী শিক্ষক মোঃ নুরুচ্ছফা।জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে একই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডাকাত নাছির উদ্দীন,আবু তাহের ও মহিউদ্দিন গংদের হাতে শিক্ষক নুরুচ্ছফা খুন হয়।ঘটনার খোঁজ নিয়ে জানা যায়,নিহত নুরুচ্ছফার পরিবারের সাথে কিছু জমি নিয়ে পার্শ্ববর্তী চিহ্নিত সন্ত্রাসী ডাকাত মহিউদ্দিন,নাছির,তাহের গংদের সাথে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে।এ নিয়ে মামলা হলে তাতে শিক্ষক নুরুচ্ছফার পরিবার রায় পায়।এতেই ক্ষোভ সৃষ্টি হয় মহিউদ্দিন নাছির গংদের। নুরুচ্ছফাদের পরিবারে সে-ই ছিলো একমাত্র শিক্ষিত।মামলা মোকাদ্দমা ও প্রশাসনিক বিষয়ে সে সব দেখাশোনা করতো।এজন্যই মহিউদ্দিন গংরা শিক্ষক নুরুচ্ছফাকেই প্রথমে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।তথ্যসূত্রে জানা যায়,নুরুচ্ছফার বড়ভাই আবদুল মজিদকে অপহরন করে মহিউদ্দিন গংরা।সেই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ডাকাত মহিউদ্দিন জেলে বসেই তার অন্য ভাই নাছির,তার স্ত্রী জাহেদা বেগম, ছেলে শওকত ও ভাতিজা তাহের সহ ভাড়াটিয়া ডাকাত ও সন্ত্রাসীদেরকে দিয়ে নুরুচ্ছফাকে হত্যার মাস্টারপ্ল্যান করা হয়।আর সেই অনুযায়ী ডাকাত সর্দার মহিউদ্দিন ও তার আরেক ভাই সিরাজ জেলে থাকা অবস্থায়ই তাদের নির্দেশ মতে এই হত্যাকান্ডের নেতৃত্ব দেয় তার আপন ছোট ভাই নাছির,মহিউদ্দিনের স্ত্রী জাহেদা,ভাতিজা তাহের এবং মহিউদ্দিনের ছেলে শওকত। মামলার এজাহারে জানা যায়,ঘটনার রাতে মহিউদ্দিনের স্ত্রী জাহেদা ও তার এক শ্যালিকা রোমেনা খাতুন এই খুনি চক্রকে নুরুচ্ছফাদের বাড়িতে নিয়ে সবার ঘর চিনিয়ে দিয়ে দূরে অপেক্ষা করে।খুনী নাছির ও তাহেরের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের কিলার বাহিনী ৩-৪ জনের দলে বিভক্ত হয়ে নুরুচ্ছফার অন্যান্য ভাইদের ঘরের সামনে অবস্থান নেয়।নাছিরের নেতৃত্বে এক দল নুরুচ্ছফার ঘরে প্রবেশ করে।তারা নুরুচ্ছফাকে তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানের সামনে থেকে টেনে হিঁচড়ে বিছানা থেকে নামিয়ে মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দেয়।তখন তাহের সহ তিন-চারজন নুরুচ্ছফার হাতপা চেপে ধরলে খুনি নাছির নুরুচ্ছফার বুকে একাধিক গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।এসময় নুরুচ্ছফার স্ত্রীর চিৎকারের শব্দে নুরুচ্ছফার ছোটভাই আফসার ও অন্যান্যরা বের হয়ে আসলে আফসারের সাথে খুনীদের ধস্তাধস্তিতে খুনী নাছির ও শওকতের পরিহিত মুখোশ খুলে গেলে তাদেরকে সবাই চিনে ফেলে।খুনিরা যাওয়ার সময় নুরুচ্ছফার আরেক ছোটভাই নুরুন্নবীর পায়ে কয়েক রাউন্ড ছড়রা গুলি করে যার কয়েকটি আজও তার শরীর থেকে বের করা সম্ভব হয়নি।
মর্মান্তিক এই হত্যাকান্ড নিয়ে নুরুচ্ছফার বড়ভাই আবদুল মজিদ বাদী হয়ে নাছির ও তাহেরকে প্রধান আসামি সহ দশ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনের নামে রামু থানায় ০৭/০১/২০১৬ তারিখে একটি হত্যা মামলা করে।মামলা নং ৭। এ ঘটনায় ২৪/০৮/২০১৮ সালে পিবিআই কক্সবাজারের পুলিশ পরিদর্শক মনির হোসেন তদন্ত করে কোনো এক আওয়ামিলীগ নেতার সুপারিশে এজাহার নামীয় প্রধান আসামি নাছির উদ্দীন ও তাহেরকে আওয়ামিলীগ নেতা পরিচয়ে মামলার চার্জশিট থেকে বাদ দিয়ে মোট নয় জনের নামে চার্জশীট জমা দেয়।কিন্তু এতে মামলার বাদী আপত্তি জানালে তা আর আদালত গ্রহণ করেনি।এরপর মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর হলে তারাও একই কারনে খুনি তাহের ও নাছিরের নাম বাদ রেখে ১৮/০৫/২০১৯ তারিখে ডিবির পরিদর্শক মানস বড়ুয়া চার্জশিট দাখিল করে।ফলে বাদী আবারও নারাজি দিলে তা আর গ্রহন হয়নি।তারপর মামলাটি সিআইডিকে দেওয়া হলে সেই একই কারনে খুনি নাছির ও তাহেরকে বাদ দিয়ে সিআইডির উপ পুলিশ পরিদর্শক মজিবর রহমান সেই নয় জনের নামেই চার্জশিট জমা দিলে বাদী পুনরায় তাতে আপত্তি জানালে তাও আর আদালতে গ্রহন হয়নি।বর্তমানে আদালত থেকে মামলাটির তদন্তভার পুনরায় সরাসরি কক্সবাজার জেলা পিবিআই পুলিশ সুপারকে প্রদান করা আছে।বাদীপক্ষ এবং এলাকাবাসীর প্রত্যাশা এবার অন্তত শিক্ষক নুরুচ্ছফা হত্যার মূল আসামি খুনী নাছির ও তাহের অভিযুক্ত হয়ে বিচারের আওতায় আসবে।এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পিবিআই পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আশ্বস্ত করেন যে,মামলাটির তদন্তভার যেহেতু সরাসরি তাকে দেওয়া হয়েছে, তিনি সরেজমিনে গিয়ে আন্তরিকতার সাথে সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সচেষ্ট থাকবেন।
এদিকে নিহত নুরুচ্ছফার বিধবা স্ত্রী একমাত্র সন্তান ইয়াহিয়াকে অবলম্বন করে আজও স্বামী হত্যার বিচারের আশায় ঘুরছেন।নিজের চোখের সামনে তার স্বামীকে নির্মমভাবে নিহত হতে দেখার স্মৃতি এখনো তার সামনে ভয়ংকর রুপে দেখতে পান।এখনো তিনি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেননা।প্রকৃত খুনীরা বিচারের আওতায় না আসায় একমাত্র ছেলের যেকোনো বিপদের ভয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে এখন বাপের বাড়িতে অবস্থান করছেন।তিনি খুবই কষ্ট নিয়ে জানান,তার সেই ছোট শিশু ছেলের বয়স এখন দশ বছর।আজও তার বাপের হত্যাকারীদের বিচার শুরু হয়নি।প্রকৃত খুনীরা ধরা না পড়লে তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি শংকা প্রকাশ করেন।তিনি দাবি করেন,আওয়ামিলীগের পরিচয়ে এতোদিন মূল খুনীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও এখন সেসব নেতারা এলাকায় বা প্রশাসনের উপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারবেনা।তাই এসপি সাহেব যদি সরেজমিনে এসে এলাকাবাসীর সাক্ষ্য নেয় তাহলে অবশ্যই প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা যাবে।ঘটনাস্থলে সবার সামনে মুখোশ খুলে খুনীদের চিহ্নিত করার পরও বারবার চার্জশিট থেকে মূল আসামিরা বাদ পড়া নিয়েও তিনি খুবই হতাশা প্রকাশ করেন।তবে আইনের সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রকৃত খুনী নাছির উদ্দীন ও তাহের সহ সকল অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য নিহত শিক্ষক নুরুচ্ছফার পরিবার ও এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]