মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ভূমি মন্ত্রণালয়ের পিয়ন হারুনের ‘শতকোটি টাকার সাম্রাজ্য’ নিজস্ব প্রতিবেদন মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

*খালেদা জিয়ার শেষদিনের গল্প : জীবন যখন ফুরোয়, তখনও ভোটের হিসাব* —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ২১৪ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন

খালেদা জিয়া—বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীনতার পর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্ব দেওয়া বিরোধী কণ্ঠ—শেষ জীবনের দিনগুলো কাটাচ্ছিলেন হাসপাতালের শয্যায়। শ্বাস-প্রশ্বাস ছিল অনিশ্চিত, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা, শরীর ছিল যন্ত্রণায় জর্জরিত। চিকিৎসকদের ভাষায়—তিনি ছিলেন লাইফ সাপোর্ট নির্ভর, সময়ের সঙ্গে লড়াই করছিলেন।

ঠিক সেই সময়ই—
তাঁর নাম ব্যবহার করে তিনটি নির্বাচনি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলো।
দেশ স্তব্ধ হয়ে প্রশ্ন করল না।
রাষ্ট্র নীরব থাকল।
নির্বাচন কমিশন প্রশ্ন তুলল না।
পরের দিন—
একটি ছোট সংবাদ ভেসে এলো:
“খালেদা জিয়া মারা গেছেন।”
প্রশ্নের পর প্রশ্ন, কিন্তু উত্তর নেই
যিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন, যাঁর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতাও প্রশ্নবিদ্ধ—
তিনি কীভাবে একসঙ্গে তিনটি আসনে প্রার্থী হলেন?
এটি কি তাঁর সিদ্ধান্ত ছিল?
নাকি একটি মৃতপ্রায় দেহের ওপর দাঁড়িয়ে কেউ কেউ নিজেদের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করছিলেন?
যদি এটি প্রতীকী মনোনয়ন হয়—
তাহলে কেন রাষ্ট্র বলল না, “এটি অনৈতিক”?
কেন নির্বাচন কমিশন বলল না, “এটি মানবিক নয়”?
আর যদি এটি কৌশলগত মনোনয়ন হয়—
তবে সেটি কাদের স্বার্থে?
মৃত্যুপথযাত্রীও কেন রাজনীতির শিকার
বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া বহুবার শিকার হয়েছেন—
মিথ্যা মামলায়, কারাবন্দিত্বে, চিকিৎসা বঞ্চনায়, বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি না দিয়ে।
কিন্তু মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও তিনি রেহাই পেলেন না।
মৃত্যুশয্যার মানুষটির পাশে থাকার কথা ছিল পরিবার, প্রার্থনা, নিঃশব্দ ভালোবাসা।
কিন্তু তাঁর নাম তখন ব্যালটের কাগজে, নির্বাচনি হিসাবের খাতায়, ক্ষমতার অঙ্কে।
একজন মানুষ তখন আর মানুষ থাকেন না—
তিনি হয়ে ওঠেন একটি রাজনৈতিক প্রতীক, একটি ভোটের প্রতিচ্ছবি, একটি শেষ ব্যবহারযোগ্য নাম।
এই রাষ্ট্র কি কান্না শুনতে পায় না?
যে দেশে একজন মৃত্যুপথযাত্রীকেও রাজনৈতিক ঢাল বানানো হয়,
সে দেশে মানবিকতার মৃত্যু কি আরও আগেই হয়নি?
খালেদা জিয়ার মৃত্যু কেবল একজন রাজনীতিকের মৃত্যু নয়।
এটি ছিল—
একটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মৃত্যু
একটি নৈতিক সীমার মৃত্যু
এবং সবচেয়ে বড় কথা—
একটি মানবিক রাষ্ট্রের সম্ভাবনার মৃত্যু
তিনি শেষ নিঃশ্বাস নেওয়ার আগেও বোঝা হয়ে উঠেছিলেন—
বোঝা নয়, বরং ব্যবহৃত বস্তু।
শেষ কথা
ইতিহাস একদিন প্রশ্ন করবে—
একজন নারী, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, একজন মৃত্যুশয্যাশায়ী মানুষ—
তাঁর শেষ মুহূর্তগুলো কেন এতটা নিষ্ঠুর ছিল?
আর আমরা—
আমরা কি তখন কেবল দর্শক ছিলাম?
নাকি নীরব অপরাধী?
খালেদা জিয়ার মৃত্যু আমাদের চোখে পানি আনে—
কিন্তু তার চেয়েও বেশি প্রশ্ন রেখে যায়।
এই দেশ কি মৃত্যুশয্যাতেও রাজনীতির বাইরে কাউকে থাকতে দেয় না?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]