মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
35 Thermonuclear Bombs in Iran’s Possession: Russia’s Claim Sends Shockwaves Through Global Politics— Professor M. A. Barnik ব্যাংক ম্যানেজারের উপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে নবীনগরে মানববন্ধন  মাগুরার শ্রীপুরে রাস্তার বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে! ইরানের হাতে ৩৫টি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা: রাশিয়ার দাবিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভূমিকম্প—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরায় অনলাইন জুয়া চক্রের মাস্টার মাইন্ড আমিনুল গ্রেফতার! মাগুরায় কৃষি কর্মকর্তাকে ঝুলিয়ে পেটানোর হুমকি! যুবদল নেতা বহিস্কার! বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের শোক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই-(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।) সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকাল( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)” বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল (বিএনসিইউপি) শোক মাগুরায় জামায়াত মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: আজমত হোসাইনের নির্বাচনী বিলবোর্ড চুরির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

সংবাদদাতা / ২৫৩ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

১. অহেতুক যুদ্ধের প্রান্তে দাঁড়িয়ে বিশ্ব*:

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে আবারও এক অদ্ভুত মোড়। যুক্তরাষ্ট্র-এর নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের প্রচেষ্টা যেমন প্রত্যাশিত ফল দেয়নি, তেমনি হঠাৎ করেই সামনে এসেছে শান্তির নতুন প্রস্তাব—১৬ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ দ্বিতীয় দফা আলোচনার উদ্যোগ, যার কেন্দ্রে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এই দ্বৈত বাস্তবতা—চাপ ও সংলাপ—বিশ্ব রাজনীতির এক জটিল সমীকরণ তুলে ধরছে।

*২. নৌ-অবরোধ: শক্তির প্রদর্শন নাকি কৌশলগত ভুল*:
ইরান-এর বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের মূল লক্ষ্য ছিল তাদের অর্থনীতি ও জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী—যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল পরিবাহিত হয়—সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ছিল প্রধান কৌশল।
কিন্তু ব্যর্থতার কারণগুলো ছিল বহুমাত্রিক—
(ক) *ভূ-রাজনৈতিক প্রতিরোধ*:
ইরান সরাসরি সংঘর্ষে না গিয়ে “asymmetric warfare” কৌশল গ্রহণ করে। ছোট নৌযান, ড্রোন এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা বড় যুদ্ধজাহাজকে কার্যত অকার্যকর করে তোলে।
(খ *আন্তর্জাতিক বিভাজন*:
চীন ও রাশিয়া সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইরানের পাশে অবস্থান নেয়। ফলে অবরোধটি বৈশ্বিক সমর্থন পায়নি।
(গ) *অর্থনৈতিক বিকল্প পথ*:
ইরান “shadow fleet” ও বিকল্প বাণিজ্য রুট ব্যবহার করে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখে। নিষেধাজ্ঞা কার্যত ফাঁকফোকরে ভেঙে পড়ে।
(ঘ) *সামরিক ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা*:
পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থানে যায়নি। ফলে অবরোধ ছিল “half-enforced”, যা কার্যকারিতা হারায়।

*৩. শক্তি নয়, বৈধতার সংকট*:
নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা কেবল সামরিক নয়; এটি ছিল কূটনৈতিক ব্যর্থতাও। আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের পূর্ণ অনুমোদন ছাড়া এমন অবরোধ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না।
এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা প্রকাশ পায়—“legitimacy gap”।

*৪. ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা শান্তির নতুন খেলা* :
এই ব্যর্থতার পরপরই সামনে আসে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ।
১৬ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তাব, যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে পাকিস্তান।
কেন পাকিস্তান?
ভৌগোলিকভাবে ইরান ও দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগস্থল
সৌদি আরব ও ইরান—দুই পক্ষের সাথেই সম্পর্ক
সাম্প্রতিক সময়ে “neutral mediator” হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন
ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ভূমিকা:
ট্রাম্পের এই প্রস্তাব মূলত “pressure diplomacy”-এর অংশ। অর্থাৎ, প্রথমে চাপ সৃষ্টি, পরে আলোচনার টেবিলে আনা—এক ধরনের “carrot and stick” কৌশল।

*৫. নতুন সমীকরণ: সংঘাত না সমঝোতা*
বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাব্য পথ দেখা যাচ্ছে—
(১) সীমিত সমঝোতা* :
ইরান কিছু শর্তে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে পারে, বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে।
(২).*) দীর্ঘমেয়াদি ঠাণ্ডা সংঘাত*:
সরাসরি যুদ্ধ না হলেও, প্রক্সি যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপ চলতেই পারে।
*(৩). পূর্ণাঙ্গ সংঘর্ষের ঝুঁকি*:
যদি আলোচনায় ভাঙন ধরে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

*৬. ব্যর্থ অবরোধ, সফল কূটনীতি*
ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ প্রমাণ করেছে—শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে আধুনিক ভূরাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
বরং, এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করেছে নতুন করে কূটনৈতিক পথ খুঁজতে।
ইসলামাবাদের বৈঠক তাই শুধু একটি আলোচনা নয়—এটি এক নতুন বিশ্ব-সমীকরণের সূচনা।
এখানে প্রশ্ন একটাই:
শক্তির রাজনীতি কি শেষ পর্যন্ত সংলাপের টেবিলেই আত্মসমর্পণ করবে, নাকি এটি কেবল আরেকটি ঝড়ের আগের নীরবতা?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]